সাবধান : খালি পেটে এসব খাবার খাবেন না

কোনো বাছবিচার না করেই খাবার খাওয়া শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এমন কয়েকটি খাবার আছে যা সকালে খালি পেটে ভুলেও খাওয়া ঠিক নয়।

চলুন দেখে নেই সেই খাবারগুলো-

কলা: সকালে একেবারে খালি পেটে কলা খাওয়া ঠিক নয়। হজমসহায়ক কলায় রয়েছে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম। খালি পেটে কলা খেলে এসব উপাদান রক্তে অন্য উপাদানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট করে। যা হৃৎপিণ্ড ও রক্তের ধমনির জন্য ক্ষতিকর।

চা: খালি পেটে চা খেলে শরীরে সেরাটোনিনের কমতি ঘটায়, ফলে সারা দিন মন-মেজাজ খারাপ থাকতে পারে। খালি পেটে চা খেলে বুকের মধ্যে জ্বালাপোড়া সৃষ্টির পাশাপাশি হজমেও ব্যাঘাত ঘটায়। চা গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণের মাত্রা বাড়ায়। এতে হজমপ্রক্রিয়ায় অসুবিধা হয় এবং গ্যাসের উদ্রেক ঘটে।

কমলা: খালি পেটে টকজাতীয় কিংবা ‘সাইট্রাস’ (কমলা) ধরনের ফল পরিহার করাই ভালো। টকজাতীয় ফল কমলায় প্রচুর অ্যাসিড থাকে। এতে পেট ও বুক জ্বালাপোড়া করে এবং গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি হয়।

দই: খালি পেটে দুগ্ধজাত খাবার না খাওয়াই ভালো। দই খালি পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি করে। এতে অ্যাসিডিটির সৃষ্টি হয়।

ঝাল মাংস: অনেকে সকালে ঝাল মাংস খান। তবে পেট খালি থাকলে বেশি ঝাল খাবার থেকে দূরে থাকা নিরাপদ। ঝাল তরকারিতে অ্যাসিডিক বিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, যা খালি পেটে অসহনীয় জ্বালাপোড়া তৈরি করে।

খালি পেটে যে সমস্ত খাবার খেতে পারেন

১. মধু- সকালবেলা খালি পেটে একচামচ মধু কিন্তু আপনার সারাদিনের এনার্জি বুস্টার হয়ে উঠতে পারে! কীভাবে? মধু আসলে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয় ও ‘ফিল গুড’ হরমোন সেরাটোনিনের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। ফলে এক চামচ মধুই সকালে উঠে খেয়ে দেখুন। দেখবেন গোটা দিনটা আপনার ওই ‘ফিল গুড’ এফেক্টেই কেটে গেল!

২. ডিম- সকালে ডিম খাওয়াও কিন্তু আপনার রোজকার ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা কমাতে পারে। তাই ব্রেকফাস্টে ডিম কিন্তু আপনার জন্য অটোমেটিক চয়েস হতেই পারে।

৩.তরমুজ- তরমুজ আমাদের শরীরে প্রচুর জলীয় উপাদান বা ফ্লুয়িড সরবরাহ করতে পারে। তাছাড়া তরমুজে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপেন থাকে, যা আপনার চোখ ও হার্টের জন্য ভালো হতে পারে। তাই গরমের দিনে খালি পেটে তরমুজ খান। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় জলও পাবেন আর সারাদিন তরতাজাও থাকবেন!

৪. ওটস- আমরা বাঙালীরা তো মোটামুটি এখন সাহেবি ব্রেকফাস্টেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। তাই ব্রেকফাস্টে ওটসও কিন্তু আপনার জন্য দারুণ একটা অপশন হতে পারে। আপনার পেটের মধ্যে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি হলে তা আপনার পাকস্থলীর প্রাচীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ওটসে কিছু দ্রবণীয় ফাইবার থাকে যা আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কম করতেও সাহায্য করে।

Check Also

জিহ্বার রঙ দেখেই বুঝে নিন শরীরে কোন রোগ বাসা বেঁধেছে

নিশ্চয় দেখেছেন, ডক্টর জিহ্বা দেখে রোগীকে পরিক্ষা নিরীক্ষা করেন। কারণ জিহ্বা দেখেই বোঝা যায় ঠিক …