গ্রীষ্মে শিশির-কুয়াশা!

প্রচলিত ঋতুচক্র কী পাল্টে যাচ্ছে? গ্রীষ্মকালে দেখা গেছে, দুর্বাঘাসে শিশির বিন্দু আর কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর! শীতকালের দৃশ্য গরমকালে দেখে অবাক ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। মঙ্গলবার ভোরে ওই দৃশ্য দেখা যায় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের দুর্গাপুরসহ অন্যান্য গ্রামে।

এটা কী তবে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব? এই বৈরী আবহাওয়া করোনাসহ অন্যান্য ভাইরাসের জন্য সহায়ক এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর বলে জানান বিজ্ঞ চিকিৎসক। তবে রাজধানীর দুর্যোগ বিশেষজ্ঞের মতে, এটা প্রকৃতির স্বাভাবিকতা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত দুই দিনে এই এলাকায় কোনো বৃষ্টি হয়নি। রয়েছে কড়া রোদ। কিন্তু ভোরে কুয়াশা।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট লেখক গওহার নঈম ওয়ারা এই আবহাওয়া সম্পর্কে মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, গরমকালে শিশির কিংবা কুয়াশার ভোর দেখে ভয়ের কিছু নেই। এটা প্রকৃতির স্বাভাবিকতা। বরঞ্চ এতে আম, লিচুসহ অন্যান্য ফলন ভালো হবে। যেহেতু মাঝে-মধ্যেই বৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে রোদে প্রখরতা আছে। তাই পরিবেশে এই উষ্ণতা দেখা যাচ্ছে।

দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা নাহিদা ইয়াসমিন নুপুর বলেন, ‘এবারই প্রথম দেখলাম গরমকালে শীতের মতো শিশির আর কুয়াশা। ভোর রাতে তো রীতিমতো কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমোতে হচ্ছে। অন্যান্য বছর এই গরমকালে পাখার বাতাসের জন্য অস্তির হয়ে যেতে হতো। সেখানে এবার এ কি হচ্ছে? এই আবহাওয়ায় তো মানুষের এমনিতেই সর্দি-কাশি হবে!’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অবনী মোহন বসু বলেন, ‘সকালে হাঁটতে বেরিয়ে দেখি শীতের সকালের মতো পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের সারাজীবন পড়িয়ে এসেছি বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ দুই মাস গ্রীষ্মকাল। ষড়ঋতুর বাংলা পরিবর্তন হচ্ছে কি-না কে জানে?’

চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মামুন হাসান এই বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বলেন, আবহাওয়ার এই বৈরিতা মানুষের জন্য ক্ষতিকর। করোনাসহ অন্যান্য ভাইরাসের জন্য সহায়ক। তাই সবাইকে আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ঠাণ্ডা-গরমে সর্দি, কাশি, গলাব্যাথা যাতে না হয় সেই ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এলাচ-লবঙ্গ মিশিয়ে গরম পানি খাওয়া বা গড়গড়া করা যেতে পারে।

Check Also

নারায়ণগঞ্জে ট্রেন থামিয়ে ঝালমুড়ি কিনলেন চালক (ভিডিও)

মাঝপথে ট্রেন থামিয়ে ঝালমুড়ি কিনছেন নারায়ণগঞ্জের এক ট্রেনচালক। তার এ ঝালমুড়ি কেনার ভিডিও এখন সামাজিক …