Advertisements

পাহাড়ে বর্ষবরণ “বৈসাবি উৎসব”

|নুসরাত নীলিমা|
rupcare_hill-1 পাহাড়ে বর্ষবরণ “বৈসাবি উৎসব”
বাংলা বর্ষবরণ যেমন আমাদের প্রাণের উৎসব, তেমনি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীও খুব জাকজমকপূর্ণ ভাবে পালন করে এই দিনটি। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার প্রধাণ ৩টি আদিবাসী সমাজের বর্ষ বরণ উৎসবের নাম “বৈসাবি”। এটি তাদের প্রধাণ সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোরও একটি। এ উৎসবটি ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুক, বৈসু বা বাইসু , মারমাদের কাছে সাংগ্রাই এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত। বৈসাবী নামকরনও করা হয়েছে এই তিনটি উৎসবের এর প্রথম অক্ষর গুলো নিয়ে।
বিজু
চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাগণ এ উৎসবটি ৩দিন ধরে পালন করেন। এ ৩ দিন হল চৈত্রের শেষ ২দিন ও বৈশাখের প্রথম দিন। এর মাঝে চৈত্রের শেষ দিনটি এই উৎসবের মূল আকর্ষণ। এ দিন ঘরে ঘরে পাঁচ প্রকারের সবজি সহকারে বিশেষ খাদ্য পাঁচন রাধা হয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন এই পাঁচনের দৈব গুণাবলী আগত বছরের অসুস্থতা ও দুর্ভাগ্য দূর করবে। এদিন বিকেলে খেলা হয় ঐতিহ্যবাহী খেলা ঘিলা, বৌচি ইত্যাদি। তরুণীরা পানিতে ফুল ভাসিয়ে দেয়। বিজু উৎসবের এই ৩দিন কেউ কোনো জীবিত প্রাণী বধ করেন না।
BIJU-FUL পাহাড়ে বর্ষবরণ “বৈসাবি উৎসব”
সাংগ্রাই
মারমা আদিবাসীরা বর্ষবরণের এই উৎসব কে পালন করেন সাংগ্রাই নামে। এ উৎসব চলে ৪দিন ধরে। মারমাগণ সবাই বুদ্ধএর ছবি সহকারে নদীর তীরে যান এবং দুধ কিংবা চন্দন কাঠের জল দিয়ে এ ছবিটিকে স্নান করান। তারপর আবার এই ছবিটিকে আগের জায়গায় অর্থাৎ মন্দির বা বাসাবাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মারমা সম্প্রদায় সেই আদিকাল থেকে অন্যান্য সম্প্রদায় থেকে ভিন্ন আঙ্গিকে পুরনো বছরের বিদায় এবং নতুন বছরের আগমনকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করে আসছে, যা মারমা ভাষায় সাংগ্রাই নামে পরিচিত।
বৈসুক
ত্রিপুরাগণ শিবএর পূজা ও তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থণার মাধ্যমে এ দিবসটি পালন করেন।
গণত্মক বা পাচন
বৈসাবি উৎসবে রান্না হয় মূলত আদিবাসীদের প্রধান ও জনপ্রিয় খাবার ‘গণত্মক বা পাচন’ এ খাবার সবার ঘরে রান্না হয়। এর পাশাপাশি নানা ধরনের পিঠা, সেমাই, মুড়ি-চানাচুরসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ও ঠাণ্ডা পানীয়র আয়োজন করা হয়। সবজির বিশেষ পদটি রান্না হয় মূলত ২৫ থেকে ৩০ ধরনের সবজির সংমিশ্রণে।
পানি উৎসব
660JOL-KELI পাহাড়ে বর্ষবরণ “বৈসাবি উৎসব”
পানি উৎসবটি প্রতিটি এলাকাতেই কমবেশি জনপ্রিয়। এটিও বৈসাবী উৎসবেরই একটি অংশ। এ উৎসবে আদিবাসীরা সবাই সবার দিকে পানি ছুঁড়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন যেন গত বছরের সকল দুঃখ, পাপ ধুয়ে যায়। এর আগে অনুষ্ঠিত হয় জলপূজা। এর মাধ্যমে পরস্পরের বন্ধন দৃঢ় হয়। তা ছাড়া মারমা যুবকরা তাদের পছন্দের মানুষটির গায়ে পানি ছিটানোর মাধ্যমে সবার সামনে ভালোবাসা প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে পরস্পরের বন্ধন দৃঢ় হয়। তা ছাড়া মারমা যুবকরা তাদের পছন্দের মানুষটির গায়ে পানি ছিটানোর মাধ্যমে সবার সামনে ভালোবাসা প্রকাশ করে। ভালোবাসার এমন বর্ণাঢ্য উচ্ছ্বাস, এমন বর্ণাঢ্য অনুভূতি আর কোন ‘গান্ধর্ব্য’ শুধু বৈসাবিতেই সম্ভব।

Advertisements

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

Advertisements

Check Also

তেল চিটচিটে রান্নাঘর পরিষ্কারের সহজ উপায়

রান্নাঘর পরিষ্কারের দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত। কারণ, বাড়ির এই অংশেই সবার জন্য খাবার …