তারুণ্যের ফ্যাশন: বর্ষার রঙে রাঙিয়ে নিন নিজেকে

গরম পড়তে পড়তে কখন যে গুড়ূম গুড়ূম মেঘের ডাকে বৃষ্টি চলে আসে তা বোঝা বড় দায়। তাই বর্ষাকালে নিজেকে একটু প্রকৃতির রঙে রাঙিয়ে ঘর থেকে বের হলে দোষ কোথায়?

বর্ষার রঙ :
ঝরঝর বৃষ্টিতে ময়ূর ভালোবাসে পেখম মেলে নাচতে। শুধু ময়ূর নয়, আমরা যারা বর্ষাপ্রেমী তারাও কখনও কখনও অবিরাম বৃষ্টির ধারা দেখলে মনে রঙ লেগে যায়। তাই গুনগুনিয়ে গান গাইতে গাইতে মনের অজান্তেই নাচতে শুরু করি আমরা। তাহলে রিমঝিম বৃষ্টিতে মনে যখন রঙ লাগে সে রঙটাকে পোশাকে ছড়িয়ে দিলে দোষ কী? বর্ষার সময় আমরা নীল রঙের পোশাক বেশি পরি। এ নিয়ে কথা হয় ফ্যাশন ডিজাইনার শৈবাল সাহার সঙ্গে। তিনি বলেন, রৌদ্র ঝলমল নীল আকাশ, তারপর সাদা মেঘ নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। ধীরে আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়, তারপর শুরু হয় ঝরঝর বৃষ্টি। আকাশের সঙ্গে রয়েছে বৃষ্টির এক গভীর সম্পর্ক। তাই বর্ষার সময় আমরা নীল রঙকে হাইলাইট করে থাকি পোশাকে। আবার বৃষ্টির পর চারপাশের সবুজ গাছপালা আমাদের মনে এক অপরূপ শিহরণ জাগায়। তাই পোশাকে আমরা হালকা সবুজ, সাদা এবং উজ্জ্বল রঙগুলোর সংমিশ্রণ রাখতে পারি। আসলে প্রকৃতির এই রূপকেই আমরা পোশাকে ধারণ করে থাকি। শৈবাল বলেন, আমাদের দেশ আর ভারত ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশে এমন বর্ষাকাল খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই প্রকৃতিগতভাবেই আমরা যেন বর্ষাপ্রেমী।

বর্ষার পোশাক :
রৌদ্র ঝলমল আকাশ দেখতে দেখতে নেমে আসতে পারে বৃষ্টি। তাই বর্ষার এই মৌসুমে এমন পোশাক নির্বাচন করা উচিত যেন রোদ-বৃষ্টি দুটোতেই মানিয়ে যায়। বিবিয়ানার কর্ণধার ও ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, আমরা বর্ষা মৌসুমে সবসময় উজ্জ্বল রঙের পোশাকটাকে বেশি গুরুত্ব দিই। এর মধ্যে নীল রঙ আবার বিশেষভাবে বর্ষার রঙ হিসেবে পরিচিত আমাদের কাছে। তাই বৃষ্টির দিনের সাজ-পোশাকে তো আর আমরা নীল রঙকে বাদ দিতে পারি না। তবে লাল, কমলা, হলুদ, বেগুনি রঙকেও পোশাকে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি। লিপি খন্দকার বলেন, কর্মক্ষেত্র, অনুষ্ঠান, প্রতিদিনকার চলাফেরার জন্য জর্জেট, শিফন, সিল্ক এবং সিনথেটিক পোশাকগুলো অনেক বেশি আরামদায়ক। তবে যারা সিনথেটিক কাপড়ের পোশাক পরতে পছন্দ করেন না তাদের পাতলা কটন কাপড়, ভয়েল, দেশি সিল্ক এবং কোটা কাপড়ের পোশাক পরার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রতিদিনকার চলাফেরার জন্য আপনি জর্জেট, সিল্ক, সিনথেটিক কিংবা কটন কাপড়ের জামা তৈরি করতে পারেন। সিনথেটিক কাপড়ের কামিজের সঙ্গে বেছে নিতে পারেন সাটিনের সালোয়ার। সেই ক্ষেত্রে মাথায় রাখবেন ওড়নাটা যেন ভারী কাপড়ের না হয়। বৃষ্টিতে ভিজলে যেন সহজেই শুকিয়ে যায়। তাই আপনি পরতে পারেন শিফন, জর্জেট কিংবা পাতলা ভয়েল কাপড়ের ওড়না। যারা শাড়ি পরতে চান, তারা শাড়ির সঙ্গে হাতাকাটা অথবা শর্ট হাতার ব্লাউজ পরতে পারেন। সেটা এই গরমে অনেকটাই আরামদায়ক হবে। রুবিয়া ভয়েল, ক্রেপের কাপড় দিয়ে ব্লাউজ বানাতে পারেন। একরঙা শাড়ি হলে পরতে পারেন কাতান, সিল্কের চেক প্রিন্ট ব্লাউজ অথবা ব্রোকেটের তৈরি ব্লাউজ। শাড়িতে পাড় লাগিয়ে বৈচিত্র্য আনতে পারেন শাড়ির পাড়ে। পাড়ে লাগাতে পারেন বিপরীত রঙের কাপড়। এক্ষেত্রে সাটিন ব্রোকেট কিংবা যে কোনো কাপড়কেই আপনি পাড় হিসেবে বেছে নিতে পারেন। বাজার ঘুরে দেখা গেল, জর্জেট শাড়িতে এসেছে বৈচিত্র্য। প্রিন্টের ফুলের নকশা, জ্যামিতিক নকশা, হালকা এবং গাঢ় কয়েক রঙের মিশেলে তৈরি জর্জেট শাড়ি পাওয়া যাবে বাজারে। বিক্রেতা জানালেন, প্রিন্টের শাড়ির চাহিদা বেশি ক্রেতাদের কাছে।

বর্ষার সাজ :
রোজকার চলাফেরা কর্মক্ষেত্র কিংবা অনুষ্ঠান যেখানেই যান না কেন, পোশাকের সঙ্গে একটু সাজগোজ তো করতেই হবে। এই বৃষ্টির দিনে সাজ-মেকআপ কেমন হওয়া উচিত_ এ নিয়ে কথা হয় রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা শাকিলের সঙ্গে। বৃষ্টির দিনে খুব ভারী মেকআপ বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন ফারজানা শাকিল। এ সময় অতিরিক্ত ঘাম থেকে সুরক্ষা পেতে আপনি ব্যবহার করতে পারেন কমপ্যাক্ট পাউডার। ওয়াটারপ্রুফ আইলাইনার ও লিপস্টিক বেছে নিতে পারেন। তাহলে বৃষ্টিতে ভিজলেও খুব বেশি সমস্যা হবে না। চুল খোলা রাখলে বৃষ্টির পানিতে চুল নষ্ট হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে পাঞ্চ ক্লিপ কিংবা রাবার ব্যান্ড দিয়ে চুল বেঁধে রাখতে পারেন। বৃষ্টির দিনে খুব বেশি সাজগোজ না করলেও হালকা সাজের উপকরণগুলো আপনার ব্যাগে রেখে দিতে পারেন। তাহলে বৃষ্টিতে ভেজার পরও আপনি আপনার কর্মস্থলে পেঁৗছে আবার নিজেকে টিপটপ করে নিতে পারবেন।

অনুষঙ্গ :
এই বাদলা দিনে সাজ-পোশাকটা যেমন সময়োপযোগী হওয়া চাই, তেমনি পোশাকের সঙ্গে অনুষঙ্গটাও কিন্তু মানানসই হতে হবে। প্রতিদিনকার চলাফেরার সঙ্গে তো একটা ব্যাগ থাকা চাই। তবে কাপড় কিংবা চামড়ার ব্যাগ কিন্তু এ সময় এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এ ধরনের ব্যাগ নিয়ে বাইরে বের হলে বৃষ্টিতে ভিজলে বিড়ম্বনার শেষ থাকবে না। তাই এই সময় আপনি ব্যবহার করতে পারেন ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ। তাহলে আর বৃষ্টিতে ভেজার ভয় থাকবে না। বাজারে বিভিন্ন রঙ ও ডিজাইনের ব্যাগ পাওয়া যাবে। সেখান থেকে আপনি সংগ্রহ করতে পারেন আপনার পছন্দের ব্যাগ। ওয়াটার প্রুফ ব্যাগ কিনতে আপনাকে গুনতে হবে ৪০০-৮০০ টাকা। সবসময় দৌড়াদৌড়ি করার জন্য ফ্ল্যাট স্যান্ডেলগুলো অনেক আরামদায়ক। কিন্তু এই বৃষ্টির দিনে নিচু স্যান্ডেল পরে বাইরে গেলে বিড়ম্বনার শেষ থাকবে না। পানি-কাদা পায়ে লাগবে আবার কাপড়ে কাদা পড়বে। এই ঝক্কি থেকে রক্ষা পেতে বৃষ্টির দিনে উঁচু হিলের স্যান্ডেল পরাটাই ভালো।

কোথায় পাবেন :
ফ্যাশন হাউস ইন্ডিগোতে রয়েছে প্রাকৃতিক মোটিভের সব পোশাক। সেখান থেকে সংগ্রহ করতে পারেন আপনার পছন্দের পোশাক। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, রাইফেলস স্কয়ারসহ রাজধানীর যে কোনো শপিংমল থেকে আপনি সংগ্রহ করতে পারেন আপনার পোশাক ও সাজের উপকরণগুলো।

সূত্র: সমকাল

Check Also

যেমন ব্লাউজ চাই এই বৈশাখে!

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। তারপরই পহেলা বৈশাখ। বছরের এই নতুন দিনে প্রায় সব নারীর পছন্দের …