রমজানে ত্বকের যত্নে

আসছে রমজান। সারাদিন রোজা রাখার ফলে এ সময় দেহে প্রচুর ডিহাইড্রেশন হয়, যেটা শরীরের সেল বা কোষের জন্য খারাপ। তাই একজন রোজাদারের এ সময় উচিত রোজা রাখার পাশাপাশি ত্বকের প্রতি বিশেষ যত্বশীল হওয়া।

ক্লিওপেট্রা বিউটি সেলুনের প্রধান রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, রোজা রেখে সারাদিনে যতবার মুখ ধোবেন ততবার ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের ধরন অনুযায়ী লাগাতে হয়। আমাদের ত্বক সাধারণত পাঁচ ধরনের হয়ে থাকে_ অয়েলি, নরমাল, ড্রাই, মিক্স এবং সেনসেটিভ। অয়েলি ত্বক চেনার সহজ উপায় হচ্ছে তাদের মুখের লোমকূপ বড় হয় ও ঘুম থেকে ওঠার পরে মুখ তেল তেলে দেখায়। আর রুক্ষ ত্বক দেখলে সহজেই বোঝা যাবে যে, ত্বক খসখসে। কম্বিনেশন ত্বকের বেলায় নাকের কাছে অয়েল থাকে আর গালের দিকটা নরমাল থাকে। সেনসেটিভ ত্বক অসম্ভব পাতলা থাকে ত্বকের নিচের শিরা-উপশিরা দেখা যায়। সাধারণত এদের গায়ের রঙ ফর্সা হয়ে থাকে। সাধারণ বা নরমাল ত্বকে খুব সহজে কোনো কিছুর প্রভাব পড়ে না। কাজেই রমজান তথা সারা বছরই এসব ত্বকের যতটুকু সম্ভব প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নিতে হবে।

সাবান আর ফেসওয়াশটা এ সময় যতটা কম ব্যবহার করা যায় তত ভালো। যাদের ড্রাই ত্বক তারা হাফ অলিভ অয়েল হাফ পানি মিক্স করে ভেজা তুলো দিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। যাদের অয়েলি ত্বক তারা শশার রস কাচের বয়ামে রেখে ঠাণ্ডা করে তা দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের ভেতর থেকে অয়েলটা বেরিয়ে আসে। এ ছাড়া শসার রস খুব ভালো ক্লিনার হিসেবে কাজ করে। যাদের ত্বক নরমাল ও সেনসেটিভ তারা চাইলে খাওয়ার লাল আটা অথবা মসুর ডালের বেসন পানি দিয়ে পেস্ট করে ব্যবহার করতে পারেন। তবে যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে তা হলো, বেসন অনেকের ত্বকে সুট করে না, র‌্যাশ উঠে যায়। কাজেই এদিকে সচেতন থাকতে হবে। যাদের শুষ্ক ত্বক তাদের ত্বক পরিষ্কার করতে দুধ এবং মধু ব্যবহার করতে পারেন। অয়েলি ত্বকের ক্ষেত্রে টকদইয়ের সঙ্গে দু-তিন ফোঁটা লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া মৌসুমি ফল যেমন_ টমেটো, পাকা পেঁপে, তরমুজ দিয়েও রমজানে ত্বকের যত্ন নেওয়া যেতে পারে।

রমজানে ত্বকের যত্নে তিনটি জিনিস মনে রাখা খুব প্রয়োজন। প্রথমত, প্রপার ওয়েতে ক্লিন করা; দ্বিতীয়ত, প্রটেকশন দেওয়া বা রোদে বেশি না থাকা। বিশেষ করে দুপুর ১২-৩টা পর্যন্ত চেষ্টা করুন রোদে না যেতে। তৃতীয়ত, বাইরে গেলেও ছাতা নিতে হবে, সুতির ড্রেস ও ওড়না ব্যবহার করতে হবে। সিনথেটিক ড্রেস ব্যবহার না করাটাই উত্তম, কারণ এতে বাতাস চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। তাই প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে এবং খাবারের তালিকায় দেশীয় ফল অবশ্যই রাখতে হবে। ভোররাতে অনেকেই না খেয়ে রোজা থাকেন যেটা ত্বক ও দেহের জন্য মোটেও উপকারী নয়, তাই ভোর রাতে ভাজাপোড়া পরিহার করে পানি এবং দুধ জাতীয় খাবারটা বেশি খেতে হবে। এতে সারাদিন ত্বক সতেজ থাকে। রমজানে মানসিক চাপ যতটা কম রাখা যায় তত ভালো। পাশাপাশি ইফতারের দুই ঘণ্টা পরে ঘরের ভেতরে হাঁটাহাঁটি করলে খাবার হজম হবে ভালো, ত্বকেও তার প্রভাব পড়বে। রমজানে ত্বকের যত্নে আরেকটি ব্যাপার হলো ঘুম। খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

সূত্র: সমকাল

Check Also

ফর্সা ত্বক চান? মেনে চলুন এই ৩ নিয়ম

আবহাওয়ার খামখেয়ালি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকেও। এই রোদ, বৃষ্টি, ধুলোবালি- সবকিছুর সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে …