যেমন হবে ঈদের সাজ

|রূপ-কেয়ার ডেস্ক|

rupcare_eid makeup

ঈদের জন্য পছন্দের পোশাকটি তো কেনা হল, তার সঙ্গে মিলিয়ে আনুষঙ্গিক সব জিনিসপত্রও বুঝি কেনা শেষ। সারা বছরে মাত্র একটা দিন বলে কথা! সময়ের ধরন বুঝে আপনার সাজের ধরনও হওয়া চাই আলাদা রকমের। ঈদের দিনে তিনবেলার সাজগোজের পরামর্শ দিয়েছেন রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভিন

সতেজ সকালে :
ঈদের সকালের স্নিগ্ধতা আপনার সাজেও যদি ধরে রাখতে চান তবে সাজটা একটু ন্যাচারাল করলেই ভালো লাগবে। মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে প্রথমে হালকা কমপ্যাক্ট পাউডার বুলিয়ে নিন। সকালের সাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ চোখের সাজ। কাজল, মাশকারা ও আইলাইনার ব্যবহারে সাজ পূর্ণতা পায়। চোখের সাজের ক্ষেত্রে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বা কন্ট্রাস্ট করে আইশ্যাডো দিতে পারেন। তবে সকালের সাজে কোনো ধরনের তরল আইশ্যাডো, ক্রিম বা গ্লিটার দেয়া আইশ্যাডো ব্যবহার করা উচিত নয়। এরপর আইলাইনার কিংবা কাজল দিয়ে চোখ এঁকে নিতে পারেন। শুধু কাজল দিয়ে চোখের সাজ এখন বেশ ট্রেন্ডি। ঈদের দিন সকালে বাইরে গেলে ত্বকের সঙ্গে মিলিয়ে ফাউন্ডেশন প্রথমে ব্যবহার করুন। কিন্তু ভালোভাবে যেন মিশে যায়, তা খেয়াল রাখতে হবে। তারপর ব্লাশন দিতে হবে। হালকা গোলাপি, মভ কিংবা বাদামি রং বেছে নিতে পারেন। ঠোঁট হালকা রঙের লিপস্টিক দিয়ে রাঙাতে পারেন। চুলটা গোসলের পর ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে নেয়া যায়। ব্লো ডাই করে সারা দিনের জন্য রেখে দেয়া যেতে পারে অথবা আয়রন করেও খুলে রাখা যেতে পারে। যাদের কাজের চাপ থাকবে, তারা চুল ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে বেঁধে রাখতে পারেন।

যখন দুপুর :
দুপুরে বাসায় থাকুন কিংবা বাইরে, ব্যস্ততা একটু বেশিই থাকবে। তাই মেকাপটা যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। মেকাপের আগে বরফ ঠাণ্ডা পানিতে তুলো ডুবিয়ে দুই হাতের তালুতে চেপে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর এ তুলা মুখের ওপরে চেপে ধরে রাখুন। এ কোল্ড কম্প্রেশনের কারণে আপনার মেকাপে ন্যাচারাাল লুক আসবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। ফাউন্ডেশন, পাউডার ও ব্লাশ-অন লাগানোর পর এবং চোখ ও ঠোঁটের মেকাপের আগে কোল্ড কম্প্রেস করতে হবে। মেকাপের শুরুতে ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে টোনিং শেষে অল্প পরিমাণে ময়েশ্চারাইজিং লোশন লাগিয়ে নিন। ফাউন্ডেশন হাল্কা করার জন্য এতে খানিকটা পানি অথবা গোলাপ জল মিশিয়ে নিতে পারেন। খুব অল্প পরিমাণে লাগিয়ে এর ওপরে পাউডার বুলিয়ে নিন। এরপর খুব আলতো করে সফট কোনো পাউডার ব্লাশ-অন লাগাবেন। দিনেরবেলাতে লিকুইড আইলাইনার না লাগিয়ে পেনসিল আইলাইনার লাগানো উচিত। মাশকারা লাগাতে ভুলবেন না। লিপস্টিকের কালারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে লাইনার দিয়ে ঠোঁট এঁকে তারপর লিপস্টিক লাগিয়ে একটি ফেসিয়াল টিস্যু দিয়ে চেপে আবার ব্যবহার করুন, এতে আরও বেশি ন্যাচারাল লুক আসবে। আইশ্যাডো লাগানোর আগে চোখের পাতায় কন্সিলার লাগিয়ে নিলে আইশ্যাডো ২৪ ঘণ্টাই ঠিকঠাক থাকবে। কপালে টিপ পরতে পারেন। চুলকে বেণী, খেজুর পাটি বেণী, ফ্রেঞ্চ বেণী, টপনট, একটু ছেড়ে রেখে বাঁধা, বিভিন্ন স্টাইলে বাঁধতে পারেন। ক্লিপ, আলগা বিভিন্ন খোঁপা দিয়েও চুলকে সাজাতে পারেন। সামনের চুলকে সেট করে অথবা একটু এলোমেলোভাবে বেঁধে পেছনে ক্লিপ বা খোঁপা বেঁধে নিলেই অল্প সময়ে পরিপাটি সাজ হয়।

রাতটা হোক জমকালো :
রাতের সাজে বেইসটা একটু ভারী করতে পারেন। রাতে মেকাপ বেইস হিসেবে প্যানস্টিক, প্যানকেক, তার ওপর ফেস পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। স্কিনে দাগ না থাকলে সরাসরি প্যানকেক ব্যবহার করতে পারেন। ফাউন্ডেশনও ব্যবহার করতে পারেন। ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে আঙুলের ডগায় ফাউন্ডেশন নিয়ে নাকে, গালে, কপালে, গলায় কয়েক ফোঁটা লাগিয়ে ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। আপনার ত্বকে যদি কোনো দাগ থাকে তবে তা কনসিলার বা ত্বকের রঙের থেকে এক শেড হালকা ফাউন্ডেশন দিয়ে বেইস দেয়ার আগেই ঢেকে নিতে পারেন। ফাউন্ডেশন দেয়ার পর হালকা কমপ্যাক্ট পাউডার বা প্যানকেক ব্যবহার করতে পারেন। লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট এঁকে লিপস্টিক লাগান। রাতের সাজে ডার্ক কালার যেমন রেড, অরেঞ্জ, ম্যাজেন্টা প্রভৃতি গাঢ় রঙের লিপস্টিক পরতে পারেন। ডার্ক পিংক, ম্যাজেন্টা, বব্র্রাউন ব্লাশন ব্যবহার করুন। লিপস্টিকের সঙ্গে মিল রেখেও ব্লাশন ব্যবহার করতে পারেন। রাতে চোখটা একটু গাঢ় করতে পারেন। স্মোকি আই এখন খুব চলছে। স্মোকি আই করার জন্য কালো আইশ্যাডো চোখের পাতার ওপর দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন। এবার একটু বাদামি বা ব্রোঞ্জ অথবা আপনার পোশাক অনুযায়ী যে কোনো রং ভ্রুর হাড়ের নিচে এবং চোখের পাতার ওপরের অংশে লাগান। সাদা, রুপালি বা হালকা সোনালি রঙের আইশ্যাডো দিয়ে হাইলাইট করুন। কালো আইশ্যাডো বা বাদামি পেনসিল দিয়ে ভ্রু সুন্দর করে এঁকে নিন। চাইলে আলগা পাপড়ি লাগাতে পারেন। তারপর চোখের ওপরের পাতায় চিকন করে টেনে আইলাইনার বা কাজল দিন এবং চোখের নিচের পাতায় মোটা করে কাজল দিন। চোখের কোনা কালো আইশ্যাডো দিয়ে একটু ঘষে দিতে পারেন। রাতে যেমন চুল খুশি বাঁধতে পারেন। সামনে লুস ফ্রেঞ্চ ব্রেইড বা টুইস্ট করে পেঁচিয়ে নিয়ে পিছে সামান্য বাঁধতে পারেন। চুল সম্পূর্ণ কার্ল বা শুধু নিচে কার্ল করে ছেড়ে রাখতে পারেন।

কখন কোন রঙের পোশাক :
পোশাকের রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় বেছে নিতে পরেন গোলাপি, নীল, সাদা, অফহোয়াইট, স্কিন কালার, পিচ ইত্যাদি হাল্কা শেডের রংগুলো। রাতের অনুষ্ঠানের জন্য পরতে পারেন উজ্জ্বল ও গাঢ় রঙের পোশাক যেমন- গাঢ় নীল, ম্যাজেন্টা, লাল, খয়েরি, মেরুন, কালো, গাঢ় হলুদ, সবুজ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর

Check Also

নিয়মিত হাই হিল পরলে কী হয়?

হাই হিল ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে বেশ প্রিয়। আবার বিশ্বের নামীদামী মডেল-অভিনেত্রীদেরও হাই হিলেই অভ্যস্ত দেখা যায়। …