জেনে নিন চুল নিয়ে যত ভুল ধারণা

amitumi_hair care

যেমনই হোক না কেনো, নিজের চুল আরও সুন্দর করে তোলার চেষ্টা সবারই থাকে। তাই নানান ধরনের পণ্য, তেল, শ্যাম্পু ব্যবহার করার পাশাপাশি যখনই চুলের যত্নে কোনো টিপস পাওয়া যায় সেটাও ব্যবহার করার চেষ্টায় থাকেন অনেকেই।

তাছাড়া চুলের যত্নে বেশ কিছু প্রচলিত ধারণাও আছে, যেগুলো আবার ভুল।

হেলথ ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চুল সংক্রান্ত এমনই কিছু ভুল ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।

– চুল যত বেশি কাটা হবে, তত তাড়াতাড়ি বড় হবে। এমন ধারণা চলে আসছে বহুদিন ধরেই। তবে নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের কসমেটিক এন্ড ক্লিনিকাল রিসার্চ ইন ডারমাটলজি বিভাগের পরিচালক জশ জাখনার বলেন, “এই ধারণা পুরোপুরি ভিত্তিহীন।”

তার ভাষায়, “চুলের ছাঁটার সঙ্গে চুল বড় হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।”

তবে বিশেষজ্ঞরা প্রতি ছয় মাসে চুলের আগা ছাঁটার পরামর্শ দেন।

এর কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিকের চর্ম ও চুল বিশেষজ্ঞ মেলিসা পিলিয়াং বলেন, “আগা ফাটা চুলকে দুর্বল করে তোলো। আর এতে করে চুল ভেঙে যায়। তাছাড়া আগা ফাটা চুল দেখতেও পাতলা দেখায়। আগা ছাঁটা হলে চুল দেখতে কিছুটা ঘন দেখায়।”

– একটি পাকাচুল টেনে তোলা হলে আশেপাশের চুলগুলো জলদি পেকে যায়— এটি অনেক পুরাতন প্রচলিত একটি ধারণা। অনেকেই এটি মনে প্রাণে বিশ্বাসও করেন।

তবে ধারণাটি কিছুটা হলেও সত্যি। কারণ একটি পাকাচুল মানে আরও পাকাচুল গজাবে। তবে এর সঙ্গে চুল টেনে তোলার কোনো সম্পর্ক নেই বলেই জানিয়েছেন পিলিয়াং।

পিলিয়াং বলেন, “এই ধারণাটি জন্মেছে কারণ মানুষ একটি সাদাচুল তোলার পরই আরও কিছু পাকাচুল দেখতে পান। তবে একটি চুল তোলার সঙ্গে এটির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে চুল টেনে না তোলাই ভালো।”

– অনেকেই মনে করেন ভুল শ্যাম্পু ব্যবহারের কারণে চুল পড়া বাড়ে। পিলিয়াং বলেন, “গোসল করার সময় বেশিরভাগ মানুষের চুল বেশি পড়ে। আর এর কারণ হিসেবে শ্যাম্পুকে দোষারোপ করে থাকেন তারা। তবে এটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন।”

তিনি আরও বলেন, “মানসিক চাপ চুল পড়ার অন্যতম একটি কারণ। শ্যাম্পু করার সময় এর সঙ্গে ল্যাভেন্ডার, টি-ট্রি বা রোজমেরি এসেন্সশিয়াল অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করা গেলে তা চুল পড়া কমিয়ে চুল লম্বা করতে সাহায্য করবে।”

– যত বেশি চুল আঁচড়ানো, চুল তত বেশি স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হবে। আর এই ধারণার সূত্রে চলে এসেছে দিনে একশবার চুল আঁচড়ানোর প্রথা। তবে এই অভ্যাসটি চুলকে সুন্দর করার বদলে বরং ক্ষতিই করে বেশি, বলে জানিয়েছেন পিলিয়াং।

পিলিয়াং বলেন, “যখন চুল বেশি এলোমেলো হয়ে যাবে বা জট বেশি হবে তখনই চুল আঁচড়ানো উচিত।”

– চুলে খুশকি হওয়া মানেই মাথার ত্বক শুষ্ক। তবে মূলত তৈলাক্ত ত্বকের কারণেই খুশকি হয়ে থাকে।

পিলিয়াং বলেন, “এক ধরনের ইস্টের কারণে খুশকি হয়ে থাকে। আর তৈলাক্ত ত্বকেই মূলত এই ইস্ট জন্মায়।”

– প্রতিদিনই চুলে শ্যাম্পু করতে হবে, এমন একটি নিয়ম চালু আছে বহুদিন ধরেই। তবে চুল ধোয়ার ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। সবার চুল এক ধরনের না। যাদের চুল বা মাথার ত্বক তৈলাক্ত তাদের নিয়ম করে চুল ধুতে হবে। তবে চুলে তৈলাক্তভাব না আসলে প্রতিদিন শ্যাম্পু করার কোনো প্রয়োজন নেই।

– চুল ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে তা খুব ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। এই অভ্যাসটি চুলের জন্য ‍খুবই ক্ষতিকর।

জাখনার বলেন, “তোয়ালে চুলের জন্য খুবই রুক্ষ। যা ব্যবহারে চুল দুর্বল হয়ে ভেঙে যায়।”

পানি মোছার ক্ষেত্রে, চুলে তোয়ালে চেপে পানি বের করে ফেলা উচিত। এরপর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে অতিরিক্ত পানি ঝেরে ফেললে চুলের ক্ষতি হয় না।

সূত্র: বিডিনিউজ২৪.কম

Check Also

ফর্সা ত্বক চান? মেনে চলুন এই ৩ নিয়ম

আবহাওয়ার খামখেয়ালি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকেও। এই রোদ, বৃষ্টি, ধুলোবালি- সবকিছুর সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে …