এসময়ের ত্বক ও চুলের যত্নে

amitumi_skin & hair care now

সময় এখন শরতের শেষর দিকে, শুরু হচ্ছে হেমন্ত ঋতু। তবে শীতের আগমন টের পাওয়া যাচ্ছে ত্বক আর চুলে। এই সময়ে ভালো থাকতে যত্ন নিন নিয়ম মেনে। কীভাবে, তা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চুলের যত্ন
রুক্ষ আবহাওয়ায় চুলও নিষ্প্রাণ হতে থাকে। তার ওপর ধুলাবালির প্রকোপ তো আছেই। প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন তেল অল্প গরম করে চুলের গোড়ায় এবং পুরো চুলে মালিশ করতে হবে। যদি তেল দিলে অস্বস্তি বোধ হয় তাহলে ননস্টিকি (আঠালো নয়) অলিভ অয়েল বা বেবি অয়েল অল্প গরম করে নিয়ে তাতে ভিটামিন ই ক্যাপসুল বা কয়েক ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে লাগানো যেতে পারে। এগুলো নারকেল তেলের সঙ্গেও মেশানো যাবে। রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা এবং ফারজানা মুন্নী দুজনই একটা ব্যাপারে জোর দেন, তা হলো কন্ডিশনিং।

চুল এ আবহাওয়ায় তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে তাই ভালোমতো চুল পরিষ্কারের পর কন্ডিশনিংয়ের প্রয়োজন। শ্যাম্পু করার পর ডিমের সাদা অংশ, মেয়োনেজ অথবা ভিনেগার চুলে কন্ডিশনারের কাজ করবে। চুল যাঁদের বেশি রুক্ষ তাঁরা পারলারে হেয়ার স্পা করাতে পারেন। চুলের ধরন বুঝে প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন হারবাল প্যাক ব্যবহার করলেও চুল ভালো থাকবে। টকদইয়ের সঙ্গে মেথি এবং পাকা কলা ও নারকেল তেলের মিশ্রণ চুলকে কোমল করে। খুশকির সমস্যা দেখা দিলে রাহিমা সুলতানার পরামর্শ মানতে পারেন। তিনি বলেন, সপ্তাহে দুই দিন নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস অথবা নিমপাতার রস মিশিয়ে চুলে ২০-৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের যত্ন
তৈলাক্ত ত্বকও এ সময় কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। শুষ্ক এবং স্পর্শকাতর ত্বকের অধিকারীরা এ সময় আরও বিপাকে পড়েন। ত্বক পানির সংস্পর্শে আসার পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে বলে মনে করেন রূপবিশেষজ্ঞরা। ওয়াটার-বেসড নয় এ সময় ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। মুখ বেশি তেলতেলে মনে হলে মুখে একটা টিস্যু কিছুক্ষণ চেপে ধরে রেখে বাড়তি তেলটা শুষে নিতে পারেন। তবে ক্রিম লাগিয়ে বাইরে বের হলে মুখে ধুলাবালি আরও বেশি আটকে যাবে, বাইরে থেকে এসে খুব ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। অধিক ময়েশ্চারাইজার যুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে এ সময়। অভিজ্ঞ কোনো রূপবিশেষজ্ঞের কাছ থেকে নিজের ত্বকের ধরন জেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী ফেস প্যাক ব্যবহার করতে হবে। ফারজানা মুন্নীর মতে, মাসে দুবার পারলারে গিয়ে ত্বক পরিষ্কার করলে ব্ল্যাকহেডস ও ত্বকের মৃত কোষগুলো ভালোমতো উঠে আসবে। স্বাভাবিক ও শুষ্ক ত্বকের জন্য দুধ ও মধু ভালো। তৈলাক্ত ত্বকে ভালো টকদই আর শসার রস। এই মিশ্রণগুলোর সঙ্গে বাইন্ডার হিসেবে ময়দা বা বেসন ব্যবহার করতে হবে। এখন রোদের তাপ অনেক বেশি, রোদের হাত থেকে ত্বক বাঁচাতে বাইরে বের হওয়ার ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ক্রিম লাগিয়ে হালকা পাউডার পাফ করে নিতে পারেন।

ঠোঁটের যত্ন
এ সময় একটু পরপর ঠোঁট শুকিয়ে যায়। অল্প মধু, লেবুর রস ও চিনি দিয়ে ঠোঁটে হালকা ম্যাসাজ করলে ঠোঁট নরম ও কোমল থাকবে। সমপরিমাণ গ্লিসারিন ও অলিভ অয়েল মিশিয়েও ঠোঁটে লাগিয়ে রাখতে পারেন। চালের গুঁড়া সামান্য পানিতে মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। এটি ঠোঁটের মরা চামড়া উঠে আসতে সাহায্য করে। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে একটু পরপর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো, নখ দিয়ে ঠোঁটের চামড়া খোটার মতো বদভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। সব সময় ভালো মানের লিপবাম বা লিপজেল ব্যবহার করুন।

হাত-পায়ের যত্ন
ফারজানা মুন্নী বলেন, ‘চলাফেরা করতে গিয়ে পা দিয়েই সব জীবাণু আমাদের শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে, পা দুটো তাই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’ বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে পা ভালোমতো পরিষ্কার করে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পরমার্শ দেন তিনি। পা ফাটা রোধ করতে পেট্রোলিয়াম জেলি ভালো কাজ করে। হাত-পায়ের ত্বক সজীব রাখতে গ্লিসারিনের সঙ্গে সামান্য একটু পানি মিশিয়েও মালিশ করতে পারেন। যাঁদের পানি নাড়াচাড়ার কাজ বেশি করতে হয় তাঁরা হাতে হ্যান্ড লোশন ব্যবহার করতে পারেন। গায়ে সাবানের বদলে ময়েশ্চারাইজার যুক্ত তরল বডি ওয়াশ এ সময়ের জন্য ভালো। আর সাবান ব্যবহার করলেও তা হতে হবে গ্লিসারিনসমৃদ্ধ। তা ছাড়া গোসলের আগে সারা শরীরে অলিভ অয়েল, আমলকী ও কাঁচা হলুদের রস জ্বাল দেওয়া মিশ্রণ মেখে পরিষ্কার ও ভেজা একটি তোয়ালে দিয়ে গা মোছার পর গোসল করে ফেলতে হবে, কোনো সাবান ব্যবহার করার দরকার নেই। এটি শরীরে ডিপ ময়েশ্চারাইজিংয়ের কাজ করবে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের চর্ম বিভাগের প্রধান রাশেদ মোহাম্মহ খান জানালেন, এ সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, ত্বক রুক্ষ হতে শুরু করে। এ সময় যতটা সম্ভব পানির কাজ কম করতে হবে। সাবান বেশি ব্যবহার করা যাবে না। রোদে পোড়া থেকে রক্ষা পেতে ছোট-বড় সবাইকেই সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। যাঁদের ত্বক স্পর্শকাতর তাঁরা মেডিকেটেড সানস্ক্রিন লাগাতে পারেন। খুশকি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকতেই তা দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে, তা না হলে মাথার ত্বকে গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে মেডিকেটেড খুশকিরোধক শ্যাম্পু নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। যাঁরা সারা দিন জুতা-মোজা পরে থাকেন, তাঁদের অনেকের এ সময় পায়ে দুর্গন্ধ হয়। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে একটি বড় বাটিতে কুসুম গরম পানিতে কয়েকটি পটাস দানা মিশিয়ে ১০ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখতে হবে।

সূত্র: প্রথমআলো

Check Also

ফর্সা ত্বক চান? মেনে চলুন এই ৩ নিয়ম

আবহাওয়ার খামখেয়ালি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকেও। এই রোদ, বৃষ্টি, ধুলোবালি- সবকিছুর সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে …