Advertisements

শুঁটকি মাছ এবার স্বাস্থ্যসম্মত প্যাকেটে!

amitumi_shutki-mas শুঁটকি মাছ এবার স্বাস্থ্যসম্মত প্যাকেটে!

‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ একসময় এভাবেই পরিচয় দেওয়ার চল ছিল। এখন ভাতের থালা থেকে মাছ একেবারে উঠে না গেলও সবার পক্ষে রোজ রোজ মাছের স্বাদ পাওয়া হয়ে ওঠে না। নদীনালার মতো প্রাকৃতিক উৎসে একদা মাছের যে প্রাচুর্য ছিল, তা আর নেই। প্রধানত বাণিজ্যিক চাষের মাছ এখন চাহিদার যে জোগান দিচ্ছে, নিত্যদিনের ভাতের থালায় তার সংযুক্তি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খুবই কঠিন।

খালে-বিলে যখন প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, তখন অনেকেই রোজকার প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাছ রোদে শুকিয়ে রাখতেন। সাধারণত বর্ষা ও শরতে মিঠাপানির নানা জাতের মাছ পাওয়া যেত প্রচুর। বাজারে আমদানি বেশি থাকায় বেশ সস্তায় মাছ পাওয়া যেত। আবার অনেকে বিল-ঝিল থেকে নিজেরাও প্রচুর মাছ ধরতেন। এসব মাছ কেটেকুটে লবণ-হলুদ মাখিয়ে ডালা-চালুনিতে বা সুতোয় গেঁথে মহিলারা রোদে শুকিয়ে বয়ামে ভরে রাখতেন।

শুঁটকি মাছ অনেকেরই প্রিয়। সারা বছর হরেক রকম রান্নায় এসব শুঁটকি মাছ আমিষের জোগান দেওয়ার পাশাপাশি স্বাদেও বৈচিত্র্য সংযোজন করে।
শুঁটকি মাছ অবশ্য এখনো পাওয়া যায়। তবে প্রক্রিয়াটি অনেক বদলে গেছে। যেমন বলা হলো, আগের দিনে সারা দেশেই গ্রামগঞ্জে বাড়িতেই লোকে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা দেশি মাছ শুকিয়ে রাখতেন। এখন সেই চল প্রায় উঠেই গেছে দেশি মাছের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে। শুঁটকি মাছের এখন প্রধান উৎস সামুদ্রিক মাছ। কাঁচাবাজার ও মুদিখানায় পাওয়া যায় নানা জাতের মাছের শুঁটকি।

Advertisements

বাজারের এসব শুঁটকি নিয়ে একটা সন্দেহ ও আশঙ্কা আছে। পোকামাকড়ের আক্রমণ রোধে এসব শুঁটকিতে ডিডিটিসহ বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে। সে কারণে এসব শুঁটকিতে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকে। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিকীকরণের ছোঁয়া লেগেছে শুঁটকিতেও। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রথাগত পদ্ধতিতে রোদে শুকিয়ে খোলা অবস্থায় বিক্রির পদ্ধতিতে এনেছে ব্যাপক পরিবর্তন। কারখানায় বিশেষ প্রক্রিয়ায় দেশি ও সামুদ্রিক মাছ শুকিয়ে বায়ুরোধক সুদৃশ্য প্যাকেটে করে শুঁটকি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ঢাকার অভিজাত বিপণিবিতানগুলো ছাড়াও পাড়া-মহল্লার মুদির দোকানেও ইদানীং এসব প্যাকেটজাত শুঁটকি পাওয়া যায়। প্যাকেটের গায়েই লেখা থাকে মাছের নাম, ওজন, প্রস্তুত ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ। মম স্বাদ ফুড প্রডাক্ট, মাশুকা, ফ্রেশ ফিশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব প্যাটেকজত শুঁটকি বাজারজাত করছে।

সচরাচর যেসব মাছের শুঁটকির প্যাকেট বাজারে পাওয়া যচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে কাঁচকি, মলা, চাঁদা, লইট্যা, ছুরি ইত্যাদি। এসব শুঁটকি পাওয়া যায় ৭০ গ্রাম থেকে শুরু করে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত নানা ওজনের প্যাকেটে। দাম, ওজন ও মাছ অনুসারে ৮৫ টাকা থেকে ৩০৫ টাকা পর্যন্ত।

শুঁটকি মাছ সম্পর্কে বারডেমের পুষ্টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আখতারুন নাহার বলেন, শুঁটকি মাছ উচ্চমাত্রার খাদ্যগুণসমৃদ্ধ। এতে প্রোটিন ছাড়া প্রচুর ক্যালসিয়াম ও আয়রনসহ বিভিন্ন মূল্যবান খনিজ উপাদান রয়েছে। বিশেষ করে চিংড়ি শুঁটকিতে আয়রন থাকে সবচেয়ে বেশি। আবহমানকাল থেকেই দেশে শুঁটকি প্রচলিত। ইদানীং প্যাকেটে করে এসব বাজারজাত করা হচ্ছে। শুঁটকিতে ডিডিটিসহ বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা খুবই ক্ষতিকর। সেজন্য খোলা হোক আর প্যাকেটের শুঁটকিই হোক, যিনি রান্না করবেন তাঁকে সতর্ক হতে হবে। শুঁটকিতে মাছের গন্ধের পাশাপাশি রাসায়নিকের গন্ধ থাকে। রান্নার আগে হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে শুঁটকিগুলো বারবার ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। যতক্ষণ গন্ধ থাকবে, ততক্ষণ ধুতে হবে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় বাজার থেকে মাছ কিনে নিজেরাই যদি শুঁটকি তৈরি করেন। কঠিন কিছু নয়। তবে শহরে সব বাড়িতে রোদ পাওয়া যায় না। বারান্দায় রোদ থাকলে বা ছাদে শুকানোর ব্যবস্থা থাকলে নিজেরাই শুঁটকি তৈরি করে নিতে পারেন।

সূত্র: প্রথমআলো

Advertisements

Check Also

অভিজাত এলাকায় বিচরণ ডিজে নেহার, চলত উদ্যাম নৃত্য

ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় …