আমাদের গর্বের মহান বিজয় দিবস

rupcare_victory day
আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সবচাইতে গৌরবময় একটি দিন। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পৃথিবীর মানচিত্রে নতুন স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার অত্যন্ত গৌরবময় দিন। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৪৩ বছর পূর্তি আজ।
সেই ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তে আমরা হারিয়েছিলাম আমাদের বাংলাকে, ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা পুনরায় ফিরে পেয়েছি আমাদের আপন মাটিকে আমাদের মতো করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে ৯১ হাজার ৫৪৯ পাকিস্তানি সৈন্য প্রকাশ্যে আত্মসমর্পণ করেছিল। ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী মিত্র বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সর্বাধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। এই জয় ছিল এক সাগর রক্তের বিনিময়ে। আমাদের অর্জিত বিজয়ের পর নত মস্তকে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয় মেনে নেয়। পৃথিবীতে নতুন একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
বাংলাদেশের এই গৌরবমন্ডিত বিজয় একদিনে আসেনি। প্রায় ২শ’ বছর শোষিত হয়েছি আমরা। এবং এই ২শ’ বছরে উপমহাদেশে সবচাইতে বেশি রক্তক্ষয় হয়েছে এই মাটিতে। আমাদের স্বাধীনতার সূর্য উঠার ব্যাপারটি মূলত ১৯৪৭ সালে দেশ ভাঙনের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল। পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর বাঙালিদের ঘোর কেটে যায় নানা অত্যাচার ও অবিচারের কারণে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এসবই ইতিহাসের বাঁক ঘুরিয়ে দেয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে। এর থেকেই শুরু হয় নতুন অধ্যায়ের। এরপর হয় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’। এই ঘোষণায় জাতি পায় নতুন করে বাঁচার প্রেরণা এবং মুক্তির আলো।
মহান বিজয় দিবস পালনে প্রতিবারের মতো আজও নতুন রূপে সেজেছে বাংলাদেশ। সারা দেশে শোভা পাচ্ছে লাল-সবুজ। আজ ভোরে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের সূচনা হয়েছে। আজ সরকারি ছুটির দিন। সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আমজনতা শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে পৌঁছে যাবেন। বীর শহীদ ও বীরঙ্গনাদের মহান ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞ মনে স্মরণ করে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যাবে পুরো জাতি। আমাদের পক্ষ থেকেও সবার জন্য রইলো গভীর শ্রদ্ধা।
লেখাঃ কানিজ দিয়া
সূত্র: প্রিয় লাইফ

Check Also

চিনি থেকে পিঁপড়া তাড়ানোর দারুণ উপায়

চিনি রাখা নিয়ে অনেকেই ঝামেলায় পড়েন। যেমন পাত্রেই রাখেন না কেন পিঁপড়া এসে হাজির হয়। …