খাওয়ার সাত বদভ্যাস এখনই ত্যাগ করুন, সুস্থ থাকুন

rupcare_eat well
ওজন কমানোর জন্য অনেকেই বাড়তি খাবার কিংবা অস্বাস্থ্যকর ফাস্ট ফুড বাদ দেওয়ার পর ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করেন। যদিও এ ধরনের কাজের সুফল নষ্ট হতে পারে নিচে দেওয়া সাতটি কারণে। তাই সুফল পেতে হলে এ কাজগুলোও বাদ দিতে হবে।
১. প্যাকেটজাত ডায়েট খাবার
বাজারে বিক্রি হওয়া বহু খাবারই রয়েছে ডায়েট লেবেলযুক্ত। এসব খাবার আপনার দেহের ক্যালরি বাড়াবে না-এমনটাই প্রচার করে প্রতিষ্ঠানগুলো। যদিও বাস্তবে এ ধরনের খাবারগুলোর স্বাদ তৈরির জন্য অপ্রয়োজনীয় বহু উপাদান দেওয়া হয়। এ উপাদানগুলো স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এ ছাড়া এগুলো প্রায়ই ক্ষুধা দূর করে না।
২. আবেগগত খাবার
খাবার খাওয়া উচিত দেহের শারীরিক চাহিদা পূরণের জন্য ক্ষুধা দূর করতে। কিন্তু অনেকেই এ উদ্দেশের বাইরের নানা কারণে খাবার খেতে অভ্যস্ত। অনেকেই একঘেয়েমি, উদ্বেগ, রাগ কিংবা সুখের কারণে বাড়তি খাবার খান। এ ছাড়া রয়েছে খাবারের ছবি দেখা, রেস্টুরেন্টের প্রলোভন কিংবা হাতের নাগালে অতিরিক্ত খাবার থাকার কারণে বাড়তি খাওয়ার প্রবণতা। এসব বিষয় ছাড়াও রয়েছে মানসিক ক্ষুধা। এ প্রবণতা থাকলে শারীরিক ক্ষুধা না লাগলেও খাবার খাওয়ার ইচ্ছা হতে পারে। দেহের জন্য ক্ষতিকর এই অভ্যাসগুলো বর্জন করাই ভালো।
খাওয়ার সাত বদভ্যাস এখনই ত্যাগ করুন, সুস্থ থাকুন
৩. অতিরিক্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস ভালো। তবে তা যদি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করার পর্যায়ে চলে যায়, তা মোটেই ভালো নয়। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। আর তাই এ ধরনের খাবারও আপনি যত ইচ্ছা তত খেতে পারবেন না।
৪. কোনো একটি বেলার খাবার বাদ দেওয়া
সকালের নাশতা বা কোনো একটি বেলার খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। আর এ অভ্যাস মোটেই ভালো নয়। এতে শরীরের ক্যালরি তেমন একটা না পুড়লেও দেহের ক্ষতি হয়। এ ছাড়া বাড়তি ক্ষুধার কারণে পরবর্তী খাবারের সময় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় এতে। খাওয়া কমাতে এ কাজটি মোটেও কাজ করে না। তাই দিনের খাবার বাদ দেওয়ার বদলে বড় খাবারের কিছু আগে অল্প খাবার খেতে বলেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এতে ক্ষুধা কমে যাবে।
৫. সারাক্ষণ ক্যালরি গোনা
ওজন-সচেতন অনেকেই খাবার খাওয়ার আগে ক্যালরি গোনা শুরু করেন। আর এতে সমস্যা কমার বদলে বেড়ে যায়। কারণ ক্যালরির হিসাব সব ক্ষেত্রে সমানভাবে কাজ করে না। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যালরি হিসাব করে খেতে গিয়ে অনেকেই প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। নারীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি হয়। এতে কিছু হরমোন নিঃসৃত হয়ে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে।
৬. ফ্যাট সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া
অনেক পুষ্টি বিশেষজ্ঞই মানুষের ভুল ধারণাটি বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে, ফ্যাট খাবার খেলেই তা দেহের চর্বি বাড়ায়। বিষয়টি এর চেয়ে অনেক জটিল। ফ্যাটসমৃদ্ধ বহু নিরামিষ রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং পরিমিত খেলে তা দেহের চর্বি বাড়ায় না। ফ্যাট পাকস্থলীতে বহু সময় ধরে অবস্থান করে এবং বাড়তি খাওয়ার ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। ভেষজ ফ্যাট বিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করে। এতে দেহের জন্য উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টও থাকে।
৭. পানীয়
বাজারে প্রচলিত কোমল পানীয় নামধারী সফট ড্রিংকস কিংবা হার্ড ড্রিংকস, যে পানীয়ই হোক না কেন, তা বর্জন করাই শ্রেয়। কারণ এগুলো দেহের ক্যালরির মাত্রা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। আর এই বৃদ্ধির ফল মোটেই ভালো হয় না।
সূত্র: কালেরকণ্ঠ

Check Also

আপেল সাইডার ভিনেগার কি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়?

আপেল সাইডার ভিনেগার আপেলের রস ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এটি অত্যন্ত অম্লীয় এবং তীব্র …