আপনার সংসারে ভাঙনের সুর, বুঝে নিন ৭টি লক্ষণে

rupcare_breakup
সংসার মানেই দুটি মানুষের চিরন্তন সম্পর্কে আবদ্ধ থাকা। দাম্পত্য মানেই দুজন মানুষের ভালোবাসার এক অসামান্য বন্ধন। দুজন মিলে নিষ্প্রাণ বাড়ি আর আসবাবপত্রের সমষ্টিকে স্বপ্নের ঘর বানিয়ে তোলা। কিন্তু দুজন মানুষ একত্রে বসবাস করলেই কি সবসময় তারা সব বিষয়ে একমত হতে পারেন? যেকোনো বাস্তববাদী মানুষই জবাব দেবেন, ‘না’। দুজনের মানসিকতা যেহেতু আলাদা তাই দেখা দিতেই পারে যৌন চাহিদার পার্থক্য, ইগো ক্ল্যাশ, পারিবারিক অশান্তির মতো এক বা একাধিক সঙ্কট। আর এসব কারণেই অনেক সময় সুখের সংসারে দেখা দিতে পারে ভাঙন। আপনার সংসার ঠিকঠাক আছে তো? জেনে নিন কিছু সমস্যার কথা, যেগুলো দেখা দিলেই বুঝতে শুরু করবেন আপনার সংসারে শোনা যাচ্ছে ভাঙনের সুর। সময় থাকতেই চেষ্টা করুন সবকিছু ঠিক করে ফেলতে।
১. একই ছাদের নিচে থাকছেন, একই বিছানায় ঘুমাচ্ছেন, নিয়মমতো প্রতিদিনের কাজও করে যাচ্ছেন, তারপরও কীসের যেন শূন্যতা অনুভব করেন। কী যেন নেই, কোথায় যেন ফাঁকা বলে মনে হচ্ছে। নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা কমে এসেছে ভীষণভাবে। কথা বললেও তা যেন শুধুই কাজের কথা। অথচ আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবদের সাথে কথা বলার বিষয়ের বা উত্‍সাহের কোনো কমতি দেখা যাচ্ছে না দুজনের কারো মধ্যে। শুধু একে অপরের সাথে কথা বলার ব্যাপারেই কথার ঝুলি ফাঁকা হয়ে যায়। দু’একটি কথা বলার পর পরই কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যাচ্ছে। সম্পর্কের নিস্তব্ধতাই দাম্পত্য সঙ্কটের প্রথম বিপদ সংকেত।
২. সম্পর্ক এমন একটা মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে স্বামী বা স্ত্রীর প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজেই খুঁত খুঁজে পাচ্ছেন। এমনকি তেমন কোনো ভুল না থাকলেও তা আপনার মনমতো হচ্ছে না। তিনি অথবা আপনি অতি সাধারণ ব্যাপারকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে ঝগড়ার চূড়ান্ত করছেন। অনবরত এমনটা ঘটতে থাকলে বুঝতে হবে একটা সমাধান খোঁজার সময় চলে এসেছে।
৩. আপনার স্বামী প্রমোশন পেয়েছেন, তাও প্রায় এক মাস হয়ে গেল। অথচ এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না, জানলেন তৃতীয় ব্যক্তির কাছ থেকে। একই রকমভাবে ছুটির দিনে স্ত্রী তার কলিগদের নিয়ে পিকনিকে যাবেন। বাড়ির অন্য সবাই জানলেও আপনি জানেন না। অর্থাত্‍ একে অপরের ব্যক্তিগত প্রাপ্তি, সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনার সম্বন্ধে ক্রমাগত অন্ধকারে রয়ে গেলে এ নিয়েও ভাবতে হবে।
৪. কথা বললেই ঝগড়া, অশান্তি, দোষারোপ। এই ঝগড়ার মাত্রা এমনই বেড়ে গিয়েছে যে ছেলেমেয়ে, বাড়ির অন্য লোকজনও এ থেকে নিস্তার পাচ্ছে না। ছোট্ট একটি কথা থেকে হয়ে যাচ্ছে বড় আকারের ঝগড়া। সবার সামনে একে অপরের পরিবার এমনকি ব্যক্তিগত জীবন, চরিত্র নিয়েও টানাহেঁচড়া করছেন, এটা চিন্তার বিষয় বই কি!
৫. নিজেদের মধ্যে ঘটে যাওয়া ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান করতে নিতে হচ্ছে তৃতীয় ব্যক্তির সাহায্য। যেকোনো ধরনের ঝগড়া বা মনোমালিন্য দূর করতে দ্বারস্থ হতে হচ্ছে অন্যের। স্বামী বা স্ত্রী ফোন করলেই তা ধরতে ইচ্ছে করে না? কেউ কারো কাছে ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, কোনোভাবে মিটমাট করতেও ইচ্ছে করে না? তাহলে সময় এসেছে কোনো একটা সিদ্ধান্ত নেয়ার।
৬. সারাদিন বাইরে কাজের ভীষণ চাপে থাকার পরও দিনশেষে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করে না? মনে হয় সন্ধ্যাটা বন্ধুবান্ধব নিয়ে অথবা একাই কোথাও বসে কাটিয়ে দিতে? বাড়ি বা সংসারে ফেরার এই অনীহা সম্পর্কে ভাঙন ধরার পূর্ব লক্ষণ।
৭. আগে প্রায়ই দুজনে মিলে ঘুরতে যেতেন, এখন আর একেবারেই উত্‍সাহ পান না? বিশেষ করে বেশিদিনের জন্য দূরে কোথাও যেতে? দুজনে মিলে যেসব কাজ করতে চেয়েছিলেন সেগুলোর কোনোটিতেই আর উত্‍সাহবোধ করেন না? যে কাজগুলো দুজনে মিলে করতেন বা প্ল্যান করেছিলেন করবেন বলে, সেগুলো নিয়ে পুরোপুরি নিরুত্‍সাহিত হয়ে যাওয়াও সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য মোটেও ভালো নয়।
সূত্র: প্রিয় লাইফ

Check Also

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে যেসব রোগ হতে পারে

দুশ্চিন্তা আমাদের এমন এক সঙ্গী, না চাইতেও যে সঙ্গে সঙ্গে থাকে। একটি দূর হতে না …