জেনে নিন পছন্দের রঙ থেকে-কেমন হবে আপনার প্রেম-ভালোবাসার জীবন?

rupcare_love colour
একেকজন মানুষের পছন্দ যেমন আলাদা তেমনই আলাদা তাদের ব্যক্তিত্ব। পছন্দের রঙটি কিন্তু অনেকাংশেই ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। মানুষটি কেমন হবে, তার চিন্তাভাবনা কেমন ইত্যাদি কিন্তু তার পছন্দের রঙের মাধ্যমেই বোঝা যায় অনেকখানি। এরই সাথে বোঝা যায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পছন্দের রঙ কিন্তু বলে দেয় সেই মানুষটির ভালোবাসার জীবন কতোটা রোম্যান্টিক এবং সুখকর হবে।
সাইকোলজিস্টদের মতে, প্রত্যেকের একটি করে নির্দিষ্ট রঙের প্রতি বেশি দুর্বলতা থাকে। যা আমাদের অবচেতন মন করে থাকে। অনেকগুলো রঙ পছন্দ হলেও একটি বিশেষ রঙের প্রতি আমরা দুর্বল হই অনেক বেশি। এই রঙটি নির্ধারণ করে আমাদের চিন্তাভাবনা এবং মনোমানসিকতা। এবং এই চিন্তা ভাবনা এবং মনোমানসিকতার উপরে কিন্তু আমাদের জীবন এবং ভালোবাসা অনেকাংশে জড়িত থাকে। আর তাই আমাদের পছন্দের রঙ থেকেও আমরা বুঝতে পারি আমাদের ভালোবাসার জীবনটি কেমন হবে।
লাল, খয়েরী, চকলেট
এই রঙগুলো স্বাধীনচেতা, রাগী এবং জেদি মানুষদের একটু বেশি পছন্দের রঙ। তবে লাল, চকলেট ও খয়েরী রঙ যারা পছন্দ করেন তারা বেশ রোম্যান্টিকও হয়ে থাকেন। তাই যারা এই ধরণের রঙ পছন্দ করেন তাদের ভালোবাসার জীবনটি অনেক বেশি রোম্যান্টিক হয়। তবে রাগ বেশি বলে সঙ্গীর সাথে মনোমালিন্যটাও একটু বেশিই হয়ে থাকে।
কমলা
আনন্দ উচ্ছলতার প্রতীক কমলা রঙটি যারা পছন্দ করেন তারা বেশ হাসিখুশি মানুষ হন এবং ভবিষ্যতের চাইতে বর্তমানের দিকে বেশি নজর দিয়ে থাকেন। আর একারণেই এই রঙটি পছন্দ করা মানুষেরা নিজের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে ভবিষ্যতে কি হবে তা একেবারেই ভাবতে চান না বরং বর্তমানের আনন্দ নিতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।
হলুদ
ইচ্ছা, আনন্দ, কল্পনার রঙ এই হলুদ যাদের পছন্দ তারা অনেক ডমিনেটিং স্বভাবের হয়ে থাকেন। সঙ্গীর উপর খরবদারি করতে বেশ পছন্দ করেন। যদি এই স্বভাবটি সঠিক ও নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রয়োগ করতে পারেন তাহলে ভালোবাসার জীবন অনেক সুখের হয়। আর যদি একই ধরণের দুজন মানুষের মধ্যে সম্পর্ক হয় তবে সম্পর্ক খুব বেশিদূর যেতে পারে না।
সবুজ
সবুজ রঙটি যাদের পছন্দ তারা অনেক বেশি সহনশীল ও ধৈর্যধারণ করতে পারেন। অনেক বেশি দায়িত্বপরায়ণ হন। সঠিক জীবনসঙ্গী পেলে অনেক আনন্দ এবং সুখের কাটে সবুজ রঙ পছন্দ করা মানুষগুলোর। কিন্ত সঙ্গী সঠিক না হলে তার পরোপকারী স্বভাবের জন্য অনেক দুঃখ পেতে হয়।
নীল, ইন্ডিগো, সি গ্রিন
অনেক কোমল মনের মানুষ হয় এই জাতীয় রঙ পছন্দের মানুষেরা। আবেগটা একটু বেশিই কাজ করে তাদের মধ্যে। সেকারণে অনেক বেশি আবেগপূর্ণ রোমান্স থাকে সম্পর্কে। অনেক বেশি ভালোবাসা কাজ করে এই ধরণের মানুষের মধ্যে। আর সেকারণেই সম্পর্কের জন্য ভুল মানুষটি বেছে নিতে দেখা যায় এই রঙ পছন্দ করা মানুষগুলোর।
বেগুনী, ল্যাভেন্ডার, পার্পল
একটু কঠোর এবং আদর্শবাদী মনোমানসিকতার মানুষেরাই এই ধরণের রঙ পছন্দ করে থাকেন। তাদের মধ্যে আবেগটা একটু কম কাজ করে। তারা ভালোবাসাকেও লজিকের মধ্যে ফেলতে চেষ্টা করেন। সে কারণে এই রঙ পছন্দ করা মানুষগুলোর জীবনসঙ্গীরা একটু বেশিই কষ্ট পেয়ে থাকেন।
গোলাপি, ম্যাজেন্টা
খুব বেশি মাত্রায় পরনির্ভরশীল হয়ে থাকেন এই মানুষগুলো। তারা ডমিনেট হতে একটু হলেও পছন্দ করেন। তবে যার প্রতি নির্ভরশীল থাকেন তাদের নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবেসে ফেলেন। তাই সঠিক জীবনসঙ্গী না পেলে জীবনে ভালোবাসার ক্ষেত্রে ধোঁকা পাবার সম্ভাবনাই বেশি থাকে তাদের।
কালো
কালো রঙ পছন্দ করা মানুষগুলো অনেক বেশি ডমিনেটিং স্বভাবের হয়ে থাকেন। তারা সঙ্গীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশি পছন্দ করেন। তবে তাদের মধ্যে একটি বিশেষ গুণ রয়েছে। সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলেও কালো রঙ পছন্দ করা মানুষগুলো অনেক বেশি ভালোবাসেন নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে। পুরো পৃথিবীর বিপরীতে যেতে পারেন এই ধরণের মানুষগুলো নিজের পছন্দের মানুষটির জন্য।
সাদা
শান্তিপ্রিয় এবং শুভ্রতার প্রতীক সাদা যারা পছন্দ করেন তারা অনেক সাধারণ একটি জীবন যাপন করতে আগ্রহী থাকেন। তাদের চাহিদা অনেক কম থাকে। সঙ্গীর জন্য অনেক কিছুই করতে পারেন। এতে করে খুব স্বাভাবিক এবং আনন্দময় কাটে এই রঙ পছন্দ করা মানুষের ভালোবাসার জীবন।
রূপালী, ধূসর
রূপালী, ধূসর রঙগুলো আধ্যাত্মিকতা এবং অতিমানবিকতা প্রকাশ করে। এই ধরণের মানুষগুলো নিজের মনের আবেগ প্রকাশ করতে পারেন না সঠিকভাবে। সঙ্গীও ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না তাদেরকে। আর একারণেই অনেক সময় একাকী জীবন কাটাতে দেখা যায় এই রঙ পছন্দ করা মানুষগুলোকে। তবে যদি কেউ তাদের আসল ব্যক্তিত্ব বুঝতে পারেন তবে অনেক সুখের হয় ভালোবাসার জীবন।
সোনালি, বাদামী
আভিজাত্য এবং ব্যক্তিত্বের প্রতীক সোনালী ও বাদামী রঙ পছন্দকারী মানুষগুলো অনেক বেশি মাত্রায় খুঁতখুঁতে হয়ে থাকেন। একারণে তাদের পছন্দের মানুষগুলো একটু বিপদেই থাকেন। কারণ খুব সহজে তাদের খুশি করা যায় না। এতে করে সম্পর্ক খুব বেশীদিন টিকে থাকে না। তবে তাদের মতের সাথে মানিয়ে চলতে পারলে জীবন অনেক সুখের হয়।
সূত্র: প্রিয় লাইফ

Check Also

যে কথা কখনোই স্ত্রীকে বলবেন না

দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই ভালোবাসা, সহমর্মিতা, আন্তরিকতা এবং আত্মত্যাগ অনেক জরুরি। এর …