গ্রীষ্মে সুন্দর ও সতেজ থাকতে ৫টি করণীয়

amitumi_fresh skin in summer

গ্রীষ্মকালে ঘর ও বাইরের পরিবেশ কী দারুণ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, তাই না! কিন্তু সবকিছুই কি এমনই উজ্জ্বল হয়ে ওঠে প্রচণ্ড গরমের এই সময়ে? ভীষণ দাবদাহে আর সূর্যের প্রখর রোদের সাথে কি এরই মধ্যে যুদ্ধ শুরু করে দেয়নি আপনার ত্বক? গ্রীষ্মে ত্বকের সব ধরনের সমস্যা থেকে সুরক্ষায় সতর্ক হোন তাই এখনই!

প্রচণ্ড গরমে ত্বক তার স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য হারায় এবং ত্বকে দাগ পড়ে। এছাড়া ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায় বলে চামড়া ঝুলে পড়ে আর নির্দিষ্ট বয়েসের আগেই ত্বকে পড়ে বয়সের ছাপ, রোদের আঁচড় তো থাকেই।

দেহের যে জায়গাগুলোর ত্বকে এসব সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলো হলো- মুখ, ঘাড়-গলা, পিঠ, পোশাক থেকে বেরিয়ে থাকা হাত ও পায়ের অংশগুলো এবং পায়ের পাতার উপরিভাগ। এসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কোথাও ত্বকের রঙ একরকম থাকে না রোদে পোড়ার কারণে।

এসব সমস্যার সমাধানে কী, তাই এবার জানুন।

সানব্লক/সানস্ক্রিন লোশন/ক্রিম
বাইরে বেরিয়ে রোদে পোড়া থেকে বাঁচতে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে, তা হলো- সানব্লক বা সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম হাত-পা ও মুখে এবং যেসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সূর্যের তাপ লাগতে পারে, সব জায়গায় ক্রিম বা লোশন লাগিয়ে বের হওয়া।

বাইরে বের হওয়ার ২০ মিনিট আগে এ কাজটি করতে হবে। এতে আপনার ত্বকের রঙ সমান থাকবে।

এসব ক্রিম বা লোশন তিন-চার ঘণ্টা পরই কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। তাই বাইরে থাকলেও নির্দিষ্ট সময় পরই হাত-মুখ ধুয়ে আবারো যেন তা লাগিয়ে ফেলতে পারেন, সেজন্য সাথেই রাখুন পণ্যটি।

* খেয়াল রাখুন আপনার সানব্লক বা সানস্ক্রিন লোশনটি কত এসপিএফ যুক্ত, সেদিকে। সবসময় উচ্চ এসপিএফ যুক্ত পণ্যই যে ভালো, তা কিন্তু নয়। যদি নিয়ম অনুযায়ী এসপিএফ-২০ যুক্ত পণ্য ব্যবহার করেন, তাহলে সেটাই ত্বকের সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেন ত্বক বিশেষজ্ঞরা।

* পণ্যের গায়ে ‘ডুয়েল স্পেকট্রাম’ বা ‘ব্রড স্পেকট্রাম’ লেখা রয়েছে কিনা, সেদিকটাও লক্ষ্য রাখুন- এই লেখার মানে হলো আপনার ব্যবহৃত পণ্যটি সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি ‘এ’ ও ‘বি’- দু’টোর বিরুদ্ধেই লড়াই করবে।

* বার্ধক্যের ছাপ ও ত্বক ঝুলে পড়া প্রতিরোধ করে, এমন পণ্য বেছে নেয়ার চেষ্টা করুন। এতে ত্বক পুড়ে গেলে বা ঝুলে যাওয়ার মতো রোদ থাকলে এর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কাজ শুরু করবে লোশন বা ক্রিমটি।

যোগব্যায়াম ও ধ্যান
যোগব্যায়াম বা ধ্যান করুন নিয়মিত এবং ধীরে ধীরে শ্বাসপ্রশ্বাস নিন মাঝে মাঝে কাজের ফাঁকে। এতে দেহ যেমন ঠাণ্ডা থাকবে, তেমনি নিয়মিত চর্চা করলে সারা দেহের ত্বক সুন্দর রাখতে তা দারুণ কার্যকরী। এতে মন শান্ত থাকে, দেহের রক্ত চলাচল বাড়ে এবং ত্বকে আসে বাড়তি উজ্জ্বলতা।

প্রতিদিন হাতে অন্তত পাঁচ মিনিট সময় রাখুন ধীরে ধীরে গভীর থেকে শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য।

পানীয়
দেহে পর্যাপ্ত পানি গেলে অর্থাৎ প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি খেলে রোগশোক যেমন থাকবে না, তেমনি ত্বকেও থাকবে তারুণ্য। শুধু পানিই নয়, এ সময় খান তরমুজ, টমেটো, গাজর ও শসার মতো ফলগুলো এবং প্রচুর পরিমাণে। নিজের দেখবেন পার্থক্য।

বাইয়ে গেলে সাথে রাখুন আনুষঙ্গিক
গ্রীষ্মকালে দেহকে ভেতর থেকে রক্ষার পাশাপাশি বাইরে থেকেও রক্ষা করতে হবে। তাই সাথে রাখুন ছাতা, স্কার্ফ, ফেসওয়াশ, পানি ইত্যাদি।

ঘরোয়া সৌন্দর্যচর্চা
সৌন্দর্যচর্চায় কিন্তু খুব বেশি সময় দেয়ার দরকার হয় না। প্রতিদিন ঘরে থাকা যেকোনো প্রাকৃতিক পণ্য, যেমন- বেসন বা দুধ, কিংবা মধু, ময়দা বা আপনার পছন্দমতো এমন যেকোনো কিছু বা এসবের মিশ্রণ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন, চাইলে ত্বকে কিছুক্ষণ রাখতেও পারেন। এরপর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ফেলুন। ব্যাস, হয়ে গেলো!

এছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠে, বাইরে যাওয়ার আগে ও বাইরে থেকে এসে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালোভাবে হাত-মুখ ধুয়ে নিন।

গ্রীষ্মকালে এই নিয়মগুলো মেনে চলার ওপর নির্ভর করবে আপনার সারা বছর সতেজ থাকাও। তাই অবশ্য করণীয় এই সহজ কাজগুলো করুন রোজ, সুন্দর থাকুন।

সূত্র: পরিবর্তন.কম

Check Also

ফর্সা ত্বক চান? মেনে চলুন এই ৩ নিয়ম

আবহাওয়ার খামখেয়ালি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকেও। এই রোদ, বৃষ্টি, ধুলোবালি- সবকিছুর সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে …