এই গরমে স্বস্তিদায়ক সাজের কিছু টিপস্‌

amitumi_hot summer makeup tips

মেকআপের আগে ত্বককে মেকআপের উপযোগী করে তুলতে হবে। তবেই ভালোভাবে বসবে বেইস। মুখটা খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে-মুছে প্রথমেই ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ভালো। ত্বকে দাগ, রিংকেল নিষ্প্রাণ হলে মেকআপের আগে প্রাইমার লাগিয়ে নিন। এতে মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী হবে। তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের জন্য ম্যাটিফায়িং প্রাইমার আর শুষ্ক ত্বকে স্মুথেনিং বা টিন্টেড প্রাইমার লাগান। আর পার্টি মেকআপের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ব্রাইটেনিং প্রাইমার। একইভাবে ঠোঁট ও চোখের মেকআপে নিখুঁত ভাব ফুটিয়ে তুলুন আই ও লিপ প্রাইমার দিয়ে।

অফিসে বা ক্লাসেগরমের সাজ

অফিসে কিংবা ক্লাসে সহজ ও স্বাভাবিক সাজই ভালো। সানস্ক্রিন ব্যবহার করা খুবই জরুরি। এসপিএফ ২০-৪৫ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ত্বকের দাগছোপ ঢাকতে ব্যবহার করুন কনসিলার। ত্বকের রঙের চেয়ে এক শেড হালকা কনসিলার ব্যবহার করুন। ফাউন্ডেশনের ক্ষেত্রেও তাই। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য পাউডার বেইসড এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য দরকার লিকুইড বা ক্রিম ফাউন্ডেশন কিংবা টিনটেড ময়েশ্চারাইজার। ভ্রু-পেনসিল ব্যবহার না করে ব্রাশ দিয়ে ভ্রুটা সুন্দর করে শেপ করে নিন। অফিসে আইশেড বা লিপস্টিকে উজ্জ্বল রং এড়িয়ে চলাটাই ভালো। চোখসাজে ঘন করে কাজল দিন। হালকা সোনালি বা বাদামি রঙের শ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ দিনে নিতে পারেন লাইট ব্লু, পার্পল, গোল্ড, সিলভার ও ব্রাউন শেডের কালারগুলো। ব্লাশন ব্যবহার না করে কনট্যুর করে চিকবোনটা একটু ডার্ক করে নিতে পারেন। না করলেও মন্দ দেখাবে না। লিপগ্লসই আদর্শ অফিসে। প্রথমে দুই ঠোঁটে ভালো করে বাম লাগিয়ে তারপর লিপগ্লস লগিয়ে নিন। অফিস বা ক্লাসে সাধারণত এসি ঘরেই হয়। এসির ঠাণ্ডা বাতাস ত্বকের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। অফিসে এক সেট ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন ও লোশন রাখুন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ঠোঁটে ভ্যাসলিন বা গ্লস লাগিয়ে নিন।

দিনের দাওয়াতে

ভারী ফাউন্ডেশন দিনে এড়িয়ে চলুন যতটা সম্ভব। দিনের বেলা ম্যাট ফাউন্ডেশন দিয়ে বেইস করুন। প্রথমে ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন লাগিয়ে তারপর ফাউন্ডেশন লাগান। মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী হবে। ত্বক শুষ্ক হলে আগে বিবি বা সিসি ক্রিম লাগিয়ে তারপর ফাউন্ডেশন লাগান। চেহারার গড়ন অনুযায়ী প্রয়োজনমতো কনট্যুরিং করুন। নাক একটু টিকোলো দেখানোর জন্য নাকের দুই পাশে গাঢ় শেডের কনসিলার দিয়ে ওপরে লম্বা করে হালকা শেডের কনসিলার দিন। সবার জন্যই মুখের টি-জোন হচ্ছে হাইলাইটেড জোন। নাকের দুই পাশ এবং কপালের দুই পাশ কিছুটা ডার্ক করে নিন। এতে টিজোনকে হাইলাইট করা সহজ হবে। ত্বক যা-ই হোক, ফেস পাউডার দিয়ে শেষ করুন বেইস মেকআপ।

চোখের সাজে লাইনার, মাশকারা আর শ্যাডো ব্যবহার হয়। দিনের বেলা ব্যবহারের জন্য সংগ্রহে রাখতে পারেন বাদামি, ছাই, মভ, পিচরঙা শেডগুলো। পছন্দমতো আইশ্যাডো নিয়ে আইল্যাশের কিনারা থেকে চোখের পাতার ওপরের ভাঁজ পর্যন্ত লাগিয়ে নিন। তারপর ভালোমতো ব্লেন্ড করে মিশিয়ে দিন ত্বকে। চাইলে চোখের ভাঁজের রেখা বরাবর একই রঙের একটু গাঢ় টোনের শ্যাডো টেনে নিয়ে ব্লেন্ড করে দিতে পারেন। আরো ফুটে উঠবে সাজ। আইভ্রুয়ের ঠিক নিচের অংশে সিলভার, সাদা বা হালকা সোনালি হাইলাইটার ব্যবহার করুন। আইশ্যাডো দেওয়ার ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে পারেন চলতি কোনো ট্রেন্ড বা পছন্দসই কোনো শেড। কয়েক দফা মাশকারা লাগান চোখে। চোখের পাতা ঘন দেখালে আরো আর্কষণীয় লাগবে চোখটা। যাঁরা কাজল ও আইলাইনার পছন্দ করেন, তাঁরা চোখ টেনে দিতে পারেন। ম্যাট লিপস্টিক পরুন। লিপগ্লসও বাদ দিন। খুব বেশি উজ্জ্বল রং চাইলে প্রথমে লিপস্টিক দিয়ে তার ওপর ন্যাচারাল লিপগ্লস দিন।

রাতের জমকালো সাজগরমের সাজ

প্রথমে বেইস মেকআপ। ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন লাগিয়ে তারপর ফাউন্ডেশন লাগান। ফাউন্ডেশনের বদলে প্যানকেকও ব্যবহার করতে পারেন। যারা ন্যাচারাল মেকআপ পছন্দ করেন, প্যানকেক এড়িয়ে চলুন। এবার কমপ্যাক্ট পাউডার দিয়ে বেইস শেষ করুন। রাতের অনুষ্ঠানে চোখের সাজকে গুরুত্ব দিন। চোখ সাজাতে হবে চোখের শেপ অনুযায়ী। প্রথমে আইভ্রু এঁকে নিন। ভ্রু সেট করার জন্য ব্রাশে কিছুটা জেল বা হেয়ার স্প্রে দিতে পারেন। এবার শ্যাডো। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে শ্যাডো বেছে নিন। একটু গ্লসি শ্যাডো রাতে যোগ করবে বাড়তি চমক। সোনালি-রুপালি শ্যাডোতে সাজ হয়ে উঠবে আকর্ষণীয় আর জমকালো। শ্যাডো লাগানোর ক্ষেত্রে স্পঞ্জ বা ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। আঙুল দিয়েও কাজ সেরে নেওয়া যাবে। গাঢ় করে লাইনার দিন। চাইলে স্মোকি সাজ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক ভালো মানাবে। আর ডার্ক লিপস্টিক চাইলে চোখের সাজটা একটু নিয়ন্ত্রণেই রাখুন। মাশকারা দিয়ে শেষ করুন চোখের সাজ। কয়েক কোট মাশকারা লাগান। ব্লাশনের পালা এবার। গোলাপি, পাম বা স্ট্রবেরি লাল ব্লাশন ফর্সা ত্বকের সঙ্গে খুব ভালো মানায়। আর যাদের গায়ের রং কালো তাদের জন্য কোরাল অথবা পিচ রঙা ব্লাশন আদর্শ। ব্লাশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে গালের মানানসই জায়গাটা বেছে নেওয়াও খুব জরুরি। চেহারার গঠন মেনে তবেই এটি ব্যবহার করা উচিত। মুখ গোলাকার হলে গালের পাশে চিকবোন ‘সি’ শেপের মতো করে ব্লাশন লাগান। এতে মুখটা চাপা দেখাবে। চারকোনা যাদের মুখ, তারা চোখের নিচ বরাবর গালের ওপর থেকে চিকবোনের শেষ পর্যন্ত ব্লাশন লাগান। তারপর গাল, কপাল এবং চিনে ব্লাশন লাগিয়ে নিন। ডিম্বাকার মুখে চিকবোনের সবচেয়ে বেশি সুস্পষ্ট জায়গা থেকে ব্লাশন দিয়ে কানের পাশের জুলফি পর্যন্ত টেনে নিন। শুধু গালেই নয়, রাতের মেকআপে দ্যুতি ছড়াতে কপাল, টেম্পল এবং ব্রাও বোনে হালকা করে বুলিয়ে নিতে পারেন ব্লাশন। সবশেষে মুখের হাইলাইটেড জোনে শিমার বা শাইনি পাউডার বুলিয়ে নিন। রাতের পার্টিলুক পাবেন পুরোপুরি।

মনে রাখুন কিছু টিপস্‌

* মেকআপ করার আগে মুখে বরফ ঘষে নিন। দীর্ঘস্থায়ী হবে মেকআপ।

* ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অন্তত ১৫ মিনিট পরে শুরু করুন মেকআপ। এতে বেইস ত্বকে ঠিকমতো বসে যায়।

* শ্যাডো লাগানোর ব্রাশ বা স্পঞ্জ বহু ব্যবহৃত হলে সেটি ব্যবহার করবেন না। মেকআপ ওয়াইপ ত্বকের মেকআপ পরিষ্কারের সবচেয়ে সহজ উপায়। এটি কাজ করে চটজলদি।

* ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ প্রসাধনী গরমের জন্য উপযোগী। ঘাম বা লোমকূপের তেলে মেকআপ গলে যাবে না।

* ব্যাগে রাখুন মেকআপ স্পঞ্জ ও ব্লটিং পেপার। মেকআপ ঠিক রাখার জন্য স্পঞ্জ এবং ঘাম মুছতে ব্লটিং পেপার।

* লিপস্টিকের রং উজ্জ্বল দেখাতে লাগানোর আগে ঠোঁটের ওপর এক পরত কন্সিলার লাগিয়ে নিন।

* চোখের পাপড়ি ঘন দেখাতে মাশকারা লাগানোর আগে একটু সাদা লুজ পাউডার লাগান পাপড়িতে। তারপর মাশকারা লাগান। পাপড়ি ঘন ও বড় দেখাবে।

* প্রয়োজন শেষে বাড়ি ফিরে অবশ্যই যত্নের সঙ্গে মেকআপ তুলে ফেলুন। দীর্ঘস্থায়ী মেকআপ ত্বকে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

* মেকআপ তুলতে অয়েল বেইস ক্লিনজার ব্যবহার করুন। অলিভ অয়েল বা বেবি অয়েলও খুব ভালো মেকআপ রিমুভার। চোখের ভেতর যেন কেমিক্যাল ঢুকে না যায় পানিরোধক প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করলে ঘুমানোর আগে খুব ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে।

সূত্র: কালেরকণ্ঠ

Check Also

ফর্সা ত্বক চান? মেনে চলুন এই ৩ নিয়ম

আবহাওয়ার খামখেয়ালি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকেও। এই রোদ, বৃষ্টি, ধুলোবালি- সবকিছুর সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে …