আপনাকে অন্যদের প্রিয় পাত্র করে তুলবে যে কাজগুলো

rupcare_be the one among all
ঠিক পাশে বসে থাকা সহকর্মীকেই বস দারুণ পছন্দ করেন, অথচ আপনাকে তেমন পছন্দ করেন না। আপনি ধরেই নিলেন সেই সহকর্মী এমন কিছু গুণ নিয়ে জন্মেছেন যার কারণে তাকে সবাই পছন্দ করে। আপনার তেমন কোন বিশেষ গুণ নেই তাই আপনাকে পছন্দ করার কারণও নেই। কিন্তু আসলেই কি তাই? না, আসলে এমন কিছু অভ্যাস আছে যেগুলোর কারণেই এসব মানুষ অন্যদের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন। এই অভ্যাসগুলো আয়ত্ত করে নিতে পারেন আপনিও।
বেশিরভাগ মানুষ যাদেরকে পছন্দ করে, তাদেরকে হয়তো প্রথম দেখায় মনে হতে পারে সুদর্শন, সামাজিকতা বজায় রাখতে পটু অথবা দারুণ প্রতিভাধর। আসলে কিন্তু এ সবকিছুর পেছনে রয়েছে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স (EQ)। UCLA এর এক গবেষণায় দেখা যায়, আন্তরিকতা, বিশ্বস্ততা এবং অন্যকে বোঝার ক্ষমতার ওপরেই নির্ভর করে অন্যরা তাকে পছন্দ করবে কি করবে না। দেখে নিন Forbes, Business Insider এবং MensXP কী বলে এ ব্যাপারে-
১) তারা প্রশ্ন করেন। এর অর্থ হলো, কথোপকথনের সময়ে অন্য ব্যক্তির প্রতি তাদের পূর্ণ মনোযোগ থাকে এবং আলোচনার বিষয়ে তাদের উৎসাহ থাকার কারণে তারা অনেক প্রশ্ন করেন। আপনিই ভাবুন, আপনার কথা কেউ মন দিয়ে শুনছে এবং উৎসাহ দেখাচ্ছে, তাহলে তাকে তো আপনার পছন্দ হবেই, তাই না?
২) তারা ফোনের দিকে বেশি মনোযোগ দেন না। কথা বলার সময়ে আপনি বারবার ফোন চেক করছেন, চ্যাট করছেন বা নোটিফিকেশন চেক করছেন। এতে মানুষ মনে করে থাকে আপনি তাকে মোটেই পাত্তা দিচ্ছেন না। বরং আপনার কাছে ফোনটাই বেশি দরকারি। এর বদলে আপনি ফোন সরিয়ে রাখুন, মনোযোগ দিন সামনে বসে থাকা মানুষটির দিকে। এতে তারা আপনাকে পছন্দ করবে বেশি।
৩) তারা একেবারেই খাঁটি চরিত্রের মানুষ। এর অর্থ হলো তারা নিজেদেরকে চেনেন এবং তারা ভান করেন না, সত্যতা বজায় রাখেন। আপনি নিজের মতো আচরণ করুন, অন্যর সামনে ভাব ধরতে গিয়ে নিজেকে কেউকেটা বলে জাহির করতে যাবেন না। এতে মানুষ আপনাকে পছন্দের চাইতে অপছন্দই করবে বেশি। আপনি যা, অন্যের সামনে সেটাই উপস্থাপন করুন।
৪) খোলা মনে চিন্তা করুন। আপনি যদি মনটাকে ছোট করে রাখুন, ছোটখাটো ব্যাপারে আপত্তি করেন, অন্যের কথায় কান না দেন তাহলে মানুষ আপনাকে শুরু থেকেই অপছন্দ করবে। অন্যদের মতামত যে আপনার থেকে আলাদা হতেই পারে, এটা মেনে নিতে শিখুন। আপনার বিশ্বাস আর অন্যদের বিশ্বাস আলাদা হতেই পারে, তা দোষের কিছু নয়। মন খোলা রাখলে আপনি অনেক সহজেই অন্যদের পছন্দের মানুষ হয়ে উঠবেন। নিজেকে নিয়ে অহংকার করবেন না। আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো, অহংকার নয়, জানা যায় MensXP থেকে।
৫) অন্যদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকার চেষ্টা করবেন না।অন্যদের মনোযোগ ধরে রাখার খুব বেশি চেষ্টা করতে থাকলে মনে হতে পারে আপনি শো-অফ করছেন। এর চাইতে থাকুন বন্ধুত্বপূর্ণ এবং অন্যকে সাহায্য করার একটা মনোভাব রাখুন। আপনি যদি কখনো অনেকটা স্পটলাইটের নিচে চলেই আসেন কোনো কাজের ফলে, তাহলে এমন সব মানুষকে ধন্যবাদ দিন যারা আপনাকে এই কাজে সাহায্য করেছে, একাই পুরো ব্যাপারটার কৃতিত্ব নেবেন না। ব্যাপারটা অন্যদের চোখে আপনাকে পছন্দনীয় করে তুলবে।
৬) নিজের মন-মেজাজ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করুন। একই মানুষের সাথে গতকাল ভালো ব্যবহার করলেন, আজই আবার খারাপ ব্যবহার করছেন, এতে আপনার প্রতি তার মনোভাব আর যাই হোক ভালো হবে না। তাই মেজাজ খারাপ থাকলেও অন্যদের সাথে ভালো ব্যবহার বজায় রাখার চেষ্টা করুন।
৭) ইতিবাচক থাকুন এবং সেটা প্রকাশ করুন। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অথবা শরীরের ভাশাতেও সেটা ফুটিয়ে তুলুন। বুকের ওপর হাত ভাঁজ করে রাখলে অন্যরা মনে করে থাকে আপনি আন-অ্যাপ্রোচেবল বা আপনার সাথে কথা বলতে গেলে খুব একটা লাভ হবে না। হাত ভাঁজ করে রাখবেন না। চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন, স্বরে রাখুন বন্ধুসুলভ সুর। কথার সুরেই অনেক সময়ে কথার অর্থ পাল্টে যায়। শুধু তাই না, এমন ইতিবাচক থাকলে আপনি জীবনে সফলতার স্বাদও পাবেন সহজে।
৮) প্রথম দেখাতেই অন্যের মাঝে আপনার একটা ভালো ধারণা তৈরি হয়ে গেলে তারা আপনাকে পছন্দ করবে বলে ধরে নেওয়া যায়। প্রথম দেখার সাত সেকেন্ডের মাঝেই আপনাকে কেউ পছন্দ করবে নাকি অপছন্দ করবে তা ঠিক করে ফেলে। এই ব্যাপারটাকে ব্যবহার করে আপনি এই সময়ের মাঝেই তার মনে আপনার ব্যাপারে একটা ভালো অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারেন।
৯) মুখে হাসি ফুটিয়ে রাখুন। কেউ আপনার সাথে কথা বলার সময়ে অবচেতনভাবেই আপনাকে অনুকরণ করবে। তাদের দিকে তাকিয়ে হাসলে তারাও হাসিমুখ করে ফেলবে। এতে উপকার হবে আপনারই। এমনকি যারা আপনাকে অপছন্দ করে তাদের সাথেও কথা বলুন হাসিমুখে।
১০) তথ্য দেবার সময়ে থাকুন সাবধান। নিজের ব্যাপারে খুব বেশি ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়াই ভালো। বিশেষ করে নিজের সমস্যার কথাগুলো বলতে গেলে তারা আপনাকে ছিঁচকাঁদুনে মনে করতে পারে।
১১) মানুষের নিন্দা করবেন না। বিশেষ করে কারও অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলা বা তার ব্যাপারে রটনা ছড়ানোটা মোটেই ভালো নয়। তাকে অন্যদের চোখে অপছন্দনীয় করে তুললে আপনার কোন লাভ হবে না। বরং মানুষ আপনাকেই বেশি অপছন্দ করবে।

Check Also

শ্বশুরবাড়িতে যেসব কথা সরাসরি বলবেন না

শ্বশুরবাড়ি মানেই নতুন একটি পরিবেশ। যদিও মেয়েরা সেই নতুন পরিবেশে দ্রুতই মানিয়ে নেয়। কারণ সে …