যে ঘাতক ব্যাধিগুলো গোপনে শরীরে বাসা বাঁধে

amitumi_secret disease

সব অসুখেরই যে যন্ত্রণাদায়ক ও অত্যন্ত লক্ষণীয় উপসর্গ দেখা যাবে এমন কোন কথা নেই। আসলে এমন অনেক অসুখ আছে যারা তেমন কোন লক্ষণ প্রকাশ করে না এবং আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই বুঝতে পারেন না যে তাঁর কোন অসুখ হয়েছে। এর মানে এই নয় যে,অসুখটি তাঁর জন্য হুমকি স্বরূপ নয়। আসলে এই অসুখ গুলো হতে পারে মারাত্মক, এমনকি অকাল মৃত্যুও ঘটাতে পারে। আসুন জেনে নিই সেই সব নীরব ঘাতক অসুখ গুলো সম্পর্কে ।

১। সিলিয়াক রোগ

সিলিয়াক রোগের কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায় কিন্তু আপনি বুঝতে পারেন না যে আপনার অসুখটি আছে। এই রোগের কারণে গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার হজম হয়না। অর্থাৎ পাউরুটি, পাস্তা ইত্যাদি খেলে আপনার সমস্যা হয়। আপনার স্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণ করা সত্ত্বেও হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া আরেকটি লক্ষণ। এছাড়াও অবসাদ, সাধারণ দুর্বলতা এবং পেট ফুলে যাওয়া এই লক্ষণ গুলো কিছু সময়ের জন্য প্রকাশ পায় এবং আপনি হয়তো কখনোই জানেননা যে সিলিয়াক রোগের জন্যই আপনার এই সমস্যাগুলো হচ্ছে। অনেকেই এই সামান্য উপসর্গ গুলোর জন্য ডাক্তারের কাছে জাননা।

২। কোলন ক্যান্সার

কোলন ক্যান্সার এমন একটি জঘন্য রোগ যা কোন লক্ষণ প্রকাশ করেনা। নীরব ঘাতক এই রোগটি চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে লক্ষণ প্রকাশ করে অনেকটা হৃদরোগের মত। তখন পেটে ব্যথা অনুভব করা ও মলের সাথে রক্ত যাওয়া এই লক্ষণ গুলো দেখা যায়।

৩। লাইপোসারকোমা

লাইপোসারকোমা হচ্ছে একধরণের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার যা ফ্যাট সেলের নরম টিস্যুতে হয়। সাধারণত এই টিউমার বড় হয়ে টিস্যুর গভীরে না যাওয়া পর্যন্ত কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ফলে এই টিউমারটি অপসারণে অনেক ব্যথা ও অস্বস্তি হয়।

৪। হাইপোকন্ড্রিয়াসিস

হাইপোকন্ড্রিয়াসিসকে হাইপোকন্ড্রিয়া ও বলা হয়। এই রোগে কোন শারীরিক লক্ষণ প্রকাশ পায়না। এই রোগে আক্রান্তরা চরম অন্ধবিশ্বাসে ভোগে। তাঁরা যা শুনে বা পড়ে তার সবই বিশ্বাস করে।

৫। হৃদরোগ

আপনার ধমনীতে যখন বাঁধার সৃষ্টি হয় তখন বুঝতে হবে যে, অনেক আগে থেকেই এটা শুরু হয়েছে কিন্তু আপনি খেয়াল করেননি। এজন্য স্বাস্থ্যকর ভাবে জীবনযাপন করা ও খাওয়া প্রয়োজন। তাহলে আপনি এই নীরব ঘাতক এর বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারবেন।

৬। প্রি ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস এর আগের অবস্থা হল প্রি ডায়াবেটিস। এটা হলে রক্তের সুগার লেভেল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয়। প্রি ডায়াবেটিস তেমন লক্ষণীয় না এবং নির্ণয় করাও বেশ কঠিন। এটা খুব বেশিদিন স্থায়ী হলে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে হার্টের ক্ষতির কারণ হয়।

এই রকম আরো কিছু রোগ হল- পালমোনারি লেন্টিসেলুলার ইকথাইওসিস, এডোলোসেন্স ইনফারনো, পিবডিস ডিমোনোসন, সাডেন অনসেট ডেন্টাল কলাপ্স ইত্যাদি। সুতরাং বছরে অন্তত একবার ডাক্তারের কাছে আপনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিৎ যাতে আপনি ভালো থাকতে পারেন। এবং এইসব উপসর্গহীন অসুখ গুলো চিহ্নিত করে এগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।

Check Also

ঘুমের সময় মেয়েদের অন্তর্বাস পরা কি জরুরি?

ঘুমের সময় পোশাকটি কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন বেশিরভাগ নারী। কারণ আঁটসাঁট পোশাক পরলে …