সুস্থ্য থাকতে চাইলে আপনার বাথরুম থেকে এখনই ফেলে দিন এই ৮টি জিনিস

amitumi_woman cleaning toilet

শুনতে খারাপ লাগলেও এটা সত্যি যে ঘরের সবচাইতে অগোছালো এবং নোংরা জায়গার মাঝে একটি হলো বাথরুম। এ জায়গাটা ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে থাকে বলে নোংরা হয় বেশি। আর আমাদের নিজেদেরও কিছু দোষ আছে। আমরা বাথরুমে দীর্ঘদিন রেখে দেই এমন কিছু জিনিস যা মোটেই রাখা উচিত নয়। বিশেষ করে এমন কিছু জিনিস আছে যা খুব দ্রুতই ফেলে দেওয়া উচিত। এই জিনিসগুলো কি আপনার বাথরুমেও আছে?

১) ছাতা পড়া স্পঞ্জ বা ধুন্দলের খোসা
শরীর ঘষে পরিষ্কার করতে কেউ কেউ ব্যবহার করেন স্পঞ্জ। কেউ ব্যবহার করেন লুফাহ। কেউ বা একেবারেই দেশি ধুন্দলের খোসা ব্যবহার করেন। যে যেটাই ব্যবহার করেন না কেন, জেনে রাখুন এগুলো অনন্তকাল ধরে ব্যবহার করার কোনো উপায় নেই। প্রতি তিন থেকে চার সপ্তাহ পর পর এগুলোকে ফেলে দিন এবং নতুন স্পঞ্জ ব্যবহার করুন।

২) ট্রাভেল সাইজের টয়লেট্রিজ
ছোট্ট ছোট্ট টুথপেস্টের টিউব, শ্যাম্পু বা কন্ডিশনারের স্যাশে, ছোট্ট তেলের বোতল, ফেসওয়াশের কন্টেইনার- এগুলো সবার কাছেই থাকে। প্যাকেটগুলো খুলে রাখলে এতে ব্যাকটেরিয়া ঢুকে ছড়াতে পারে। এছাড়া বেশিদিন থাকলে এগুলো শুকিয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে। এ কারণে এমন ট্রাভেল সাইজের পণ্য থাকলে আপনি দ্রুত এগুলো ব্যবহার করে ফেলুন, নয়তো ফেলে দিন।

৩) প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া শ্যাম্পু/বডিওয়াশ/কন্ডিশনারের বোতল
প্রায় শেষ হয়ে গেছে এগুলো এবং আপনি নতুন বোতল কিনেও ফেলেছেন। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায় এসব পুরনো বোতল আর ধরাও হয় না, এগুলোতে থাকা প্রোডাক্টটুকু ব্যবহার করাও হয় না। জঞ্জাল না বাড়িয়ে এগুলো ফেলে দিন দ্রুত।

৪) ঝরঝরে হয়ে যাওয়া পুরনো টাওয়েল এবং ম্যাট
প্রতি তিন-চারবার ব্যবহারের পরই টাওয়েল ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে নেওয়া উচিত। আর ব্যবহার করতে করতে টাওয়েল যখন একেবারে ঝরঝরে হয়ে যাবে, তখন এটাকে বাদ দিয়ে নতুন টাওয়েল ব্যবহার করাই ভালো। এই টাওয়েল তখন ঘর ঝাড়ামোছার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। বাথরুমের ম্যাটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এটাকে ধুতে হবে নিয়ম করে। বাথরুমের ম্যাট যদি সবসময় ভিজে থাকে তাহলে প্রতি সপ্তাহে একবার করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। দুর্গন্ধ কম হলে এবং এটা শুকনো থাকলে আর বেশি সময় পর পর ধুতে পারবেন। কিন্তু এটা যখন একেবারে ছেঁড়াখোঁড়া হয়ে পড়বে এবং পানি শুষবে না আর আগের মত, তখন এটা ফেলে দেওয়াই ভালো।

৫) এক্সপায়ারড ওষুধ
ডেট এক্সপায়ারড হওয়া ওষুধ খাবেন না, কোনোভাবেই না। একইভাবে আই ড্রপ, নাসাল ড্রপ, বিভিন্ন মলমগুলোও ডেট এক্সপায়ারড হয়ে গেলে ব্যবহার করা উচিত নয় মোটেই। যেসব ওষুধের ডেট এক্সপায়ারড হয়ে গেছে সেগুলো ফেলে দিন। যেগুলো আর ব্যবহার করবেন না কিন্তু এখনো এক্সপায়ারড হয়নি, সেগুলো পরিচিত কোনো ওষুধের দোকানে ফেরত দিয়ে আসতে পারেন।

৬) নরম হয়ে যাওয়া চুলের ব্যান্ড
অনেকেরই বেসিনের ওপরের স্ট্যান্ড জুড়ে থাকে অনেকগুলো পুরনো চুলের ব্যান্ড যেগুলো নরম হয়ে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে ইলাস্টিক। এগুলোকে রেখে দিয়ে কোনোই লাভ নেই। ফেলে দিন এখনই।

৭) পুরনো মেকআপ, মেকআপ ব্রাশ এবং নেইলপলিশ
মেকআপ অনেকে বহুদিন ধরে ব্যবহার করেন। এটা মোটেই উচিত না। মেকআপ এক্সপায়ারড হয়ে যেতে পারে ছয় মাস থেকে এক বছরের মাঝেই। আপনার মেকাআপের পণ্যগুলো চেক করে দেখুন। এক্সপায়ারড হয়ে গেলে দ্বিতীয়বার চিন্তা না করে ফেলে দিন। একইভাবে বহুদিনের পুরনো মেকআপ ব্রাশগুলোকেও বদলে ফেলুন। আর শুকিয়ে যাওয়া নেইলপলিশগুলোর মায়াও ছেড়ে দিন।

৮) অব্যবহৃত স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট
খুব শখ করে কিনেছেন এক কৌটা ময়েশ্চারাইজার অথবা অ্যান্টি-এজিং ক্রিম। কিন্তু কেনার পর তা ব্যবহার করলে ফুরিয়ে যাবে- এই চিন্তা করে কৌটাটা খুলছেন না। জেনে রাখুন এটা বেশিদিন রেখে দিলে এক্সপায়ারড হয়ে যাবে। এতো শখ করে কেনা জিনিসটা ব্যবহার করতেই পারবেন না। এমন কোনো এক্সপায়ারড প্রোডাক্ট থাকলে তা ফেলে দিন, যত খারাপই লাগুক না কেন।

Check Also

ঘুমের সময় মেয়েদের অন্তর্বাস পরা কি জরুরি?

ঘুমের সময় পোশাকটি কেমন হবে তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন বেশিরভাগ নারী। কারণ আঁটসাঁট পোশাক পরলে …