কোন সেলিব্রেটি নন, তবুও শাহরুখ–সালমান-মোদি লাইকে তার পেছনে!

তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। সে জনপ্রিয়তা এতটাই যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা বলিউডের সুপারস্টার সেলিব্রেটিরাও তাতে অনেক পিছিয়ে।

বলা হচ্ছে ভারতের আইএএসের কর্মকর্তা বি চন্দ্রকলার কথা, যার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের ৮৫ লাখ ফলোয়ার। অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, সালমান খান থেকে শুরু করে দীপিকা পাডুকোনের ছবিতেও এত লাইক নেই, যা তার রয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএএস হওয়ার আগেই চন্দ্রকলার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পরে ডিস্টেন্স লার্নিং থেকে তিনি স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় সফলতা অর্জন করেন। টুইটারেও বেশ সক্রিয় তিনি।

বি চন্দ্রকলার জনপ্রিয়তার উদাহরণ হিসেবে ২৮ অক্টোবর দেওয়া তার ফেসবুক পোস্টের পরিসংখ্যানের কথা বলা যায়। এদিন চন্দ্রকলা ফেসবুকে নিজের ডিপি বদলান। তাতে দুই লাখ ৪৫ হাজার মানুষ লাইক করেন, ১৪ হাজার মানুষ মন্তব্য করেন। চন্দ্রকলা যদি ‘গুড মর্নিং’ বলেও কোনো ছবি দেন সেখানেও হাজার হাজার সংখ্যায় মন্তব্য জমা পড়ে। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর সেপ্টেম্বর ‘গুড মর্নিং’ লেখা একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি, যাতে ৪২ হাজার মানুষ লাইক দেন।

গত ২৫ দিনে চন্দ্রকলার পোস্ট করা ছবির ভিত্তিতে যখন তুলনা করা হয় তখন দেখা যায় যত লাইক বি চন্দ্রকলার একটি ছবিতে এসেছে, তত লাইক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কোনো ছবিতে নেই। ৩১ অক্টোবর অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী স্ট্যাচু অব ইউনিটির সঙ্গে নিজের একটি ছবি ফেসবুকে দিয়েছেন, তাতে এক লাখ ৮২ হাজার মানুষ লাইক করেছেন, ৫৬০০টি মন্তব্য এবং ১২৪৯৯ শেয়ার হয়েছে। যেদিন চন্দ্রকলা নিজের ২৪৫ হাজার লাইকের ডিপি বদলান, সেই একই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর শিজো আবের সঙ্গে ট্রেনে ভ্রমণের ছবিও পোস্ট করেন কিন্তু তাতে মাত্র ১১ হাজার লাইক পড়ে।

বলিউডের সেলিব্রেটিদের উদাহরণ দেওয়া যাক। অভিনেত্রী দীপিকা পাডুকোন ২১ অক্টোবর বিয়ের কার্ড পোস্ট করেন। তার সে পোস্টে এক লাখ ৫৯ হাজার লাইক, সাত হাজার কমেন্ট এবং ৬৪১৫টি শেয়ার হয়। এর পাশাপাশি দীপিকা ১৯ অক্টোবর দুটি ছবি পোস্ট করেন, যাতে ২৭ হাজার লাইক এবং মাত্র ৩৯৭ মন্তব্য আসে। দীপিকার পরিসংখ্যানও চন্দ্রকলার থেকে পিছিয়ে।

লাইকের ক্ষেত্রে বলিউডের কিং খান শাহরুখ খানও চন্দ্রকলার থেকে পিছিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ নানা ছবিতেও লাইক পাওয়ার বেলায় কিং খান আইএএস বি চন্দ্রকলার থেকে পিছিয়ে।

কেন এত আলোচিত চন্দ্রকলা

বি চন্দ্রকলা তেলঙ্গানার কারিমনগর জেলার বাসিন্দা। ২০০৮-এর ইউপি ক্যাডারের আইএএস তিনি। বুলন্দশহারে ডিএম থাকাকালীন তার ২০১৪ সালের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওটিতে দেখা গেছিল রাস্তার খারাপ মানের জন্য ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেন তিনি।

বি চন্দ্রকলা পৌরসভায় গিয়ে দেখেন নির্মাণে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানেও তীব্র ভর্ৎসনা করেন তিনি। ‘ডিএম হবেন এ রকম’ ক্যাপশন দিয়ে এই ভিডিও ছড়িয়ে দেন সাধারণ মানুষই। এর পরেই চন্দ্রকলার সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ারের সংখ্যা বেড়ে যায়।

Check Also

বাচ্চা কিছুই খেতে চায় না? তাহলে খাবার খাওয়ানোর পদ্ধতিতে আনুন ভিন্নতা।

একজন মা হিসেবে আপনি অনেক হতাশ হতে পারেন যখন কোনও একটি সুস্বাস্থ্যকর খাবার আপনি অনেক …