ত্বকে স্ক্রাব ব্যবহারের আগে জেনে নিন এই ৯টি তথ্য

ত্বক নিয়ে বিভিন্ন ঝামেলায় যারা আছেন, তারা অনেক সময়েই স্ক্রাব ব্যবহার করতে চান না। যাদের ত্বক সেনসিটিভ, তারা ভাবেন স্ক্রাব ব্যবহার করলে ত্বক লালচে হয়ে উঠবে। যাদের ত্বকে সহজে ব্রণ দেখা দেয়, তারাও ভাবেন ব্রণের উপদ্রব বাড়বে ত্বক এক্সফলিয়েট করলে। কিন্তু আসলে কী তাই?

আপনার ত্বকের ধরণ যেমনই হোক না কেন, এক্সফলিয়েট করাটা আপনার জন্য উপকারী হতে পারে। এক্সফলিয়েট করার উদ্দেশ্য হলো, ত্বক থেকে পুরনো মৃত কোষ দূর করা যাতে ত্বক উজ্জ্বল ও ফ্রেশ দেখায়। এতে ত্বকের রোমকূপগুলো ছোট দেখাবে। শুধু তাই নয়, এক্সফলিয়েট করার পর ত্বকে মেকআপও বসে সহজে। দেয়ালের রং করার আগে তাকে শিরীষ কাগজ দিয়ে ঘষে নেওয়া মতো ব্যাপার এটি। এছাড়া এক্সফলিয়েট করার পর ত্বকে ক্রিম, লোশন বা ওষুধ ভালোভাবে কাজ করে।

একেক জনের ত্বকে একেক ধরণের স্ক্রাব ব্যবহার করতে হতে পারে। এক্সফলিয়েটিং করার আগে জেনে রাখুন এই ৯টি তথ্য-

১) শুষ্ক ত্বক কী আরও শুষ্ক হয়ে যাবে?

শুষ্ক ত্বকে মৃত কোষ জমে থাকে। এর ওপরে ময়েশ্চারাইজার দেওয়া হলেও তা ত্বকের গভীরে পৌঁছায় না, বরং ছোট ছোট ব্রণের মতো ফুসকুড়ি তৈরি করতে পারে। শুষ্ক ত্বক এক্সফলিয়েট করা হলে মৃত কোষ দূর হয়ে যাবে ও ময়েশ্চারাইজার ভালো কাজ করবে। স্ক্রাব ব্যবহারের পর পরই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে ভুলবেন না। সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করতে পারেন এক্সফলিয়েটিং মাস্ক বা স্ক্রাব।

২) ব্রণের উপদ্রব কী বাড়তে পারে?

অনেকের ত্বক থাকে তৈলাক্ত, এতে ব্রণ বেশি হয়। এক্ষেত্রে ফিজিক্যাল স্ক্রাব, যেমন কফি স্ক্রাব, সুগার স্ক্রাব এ ধরণের দানাদার ও ত্বকের জন্য রুক্ষ পণ্য ব্যবহার না করাই ভাল। বরং কেমিক্যাল স্ক্রাব অর্থাৎ যা ত্বকের জন্য কোমল, হাতে গ্লাইকলিক এসিড বা স্যালিসাইলিক এসিড আছে, এমন স্ক্রাব ব্যবহার করা ভালো। এগুলো ত্বকের কোনো ক্ষতি না করেই তেল দূর করে ও রোমকূপ পরিষ্কার করে। সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করতে পারেন কোনো একটি চারকোল মাস্ক। এগুলো তেল দূর করতে কার্যকরী।

৩) স্পর্শকাতর ত্বক স্ক্রাব করা কী ঠিক?

তৈলাক্ত ত্বকের মতোই স্পর্শকাতর ত্বকে খসখসে ধরণের স্ক্রাব ব্যবহার করা ঠিক হবেনা। বরং ফ্রুট বা প্ল্যান্ট এনজাইম আছে এমন একটি ক্লিনজার সপ্তাহে এক কী দুইবার ব্যবহার করতে পারেন স্ক্রাব হিসেবে। অবশ্যই অতিরিক্ত স্ক্রাবিং করা যাবে না। এতে স্পর্শকাতর ত্বক সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৪) কম্বিনেশন স্কিন হলে কী করবেন?

এ ধরণের ত্বকে সাধারণত টি জোন অর্থাৎ কপাল, নাক ও চিবুকের ত্বক তৈলাক্ত হয় অথচ গালের ত্বক শুষ্ক থাকে। এক্ষেত্রে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন স্ক্রাব হিসেবে। এই স্ক্রাবও সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া গ্লাইকলিক এসিড আছে এমন স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন।

৫) সকালে এক্সফলিয়েট করবেন, নাকি রাত্রে?

সকালে বা রাত্রে যে কোনো সময়েই স্ক্রাবিং করতে পারেন। তবে আপনি রাত্রে কোনো ট্রিটমেন্ট ত্বকে মেখে ঘুমালে (যেমন রেটিনল) রাত্রে স্ক্রাব করে নেওয়াই ভালো। এক্সফলিয়েট করার পর ত্বকে এই ট্রিটমেন্ট সহজে কাজ করবে। স্ক্রাব করার পর অবশ্যই ভালো একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

৬) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কী করতে হবে?

স্ক্রাব ব্যবহারের পর ত্বকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ওই প্রডাক্ট আর ব্যবহার না করাই ভালো। কিছুদিন ত্বকে হালকা ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দরকার হলে ত্বকের চিকিৎসকের সাথে দেখা করুন।

৭) মুখে কি বডি স্ক্রাব ব্যবহার করা যাবে?

বডি স্ক্রাব কখনোই মুখে ব্যবহার করবেন না। এ ধরণের স্ক্রাব গলার নিচে থেকে বাকি শরীরের জন্য তৈরি হয়। শরীরের ত্বকের তুলনায় মুখের ত্বক অনেক পাতলা। তাই বডি স্ক্রাব ব্যবহারে মুখের ত্বক সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৮) চোখের আশেপাশে কি এক্সফলিয়েট করা যাবে

ফেসিয়াল স্ক্রাব কখনোই চোখ ও এর আশেপাশে ব্যবহার করবেন না। কিছু হালকা ধরণের এক্সফলিয়েটর চোখের আশেপাশের ত্বকের জন্যই বিশেষ করে তৈরি হয়। সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। অবশ্যই লেবেল দেখে নেবেন পণ্যটি কেনার সময়ে।

৯) মাইক্রোবিডস কী পরিবেশের জন্য খারাপ?

কিছু কিছু স্ক্রাবের ভেতরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের দানা থাকে যা ত্বক থেকে মৃত কোষ তুলে ফেলতে কাজে আসে। কিন্তু এসব প্লাস্টিকের দানা পরিবেশের জন্য খারাপ। এমন স্ক্রাব ব্যবহার করুন যাতে এসব প্লাস্টিকের দানা বা মাইক্রোবিডসের পরিবর্তে বাদামের গুঁড়ো, চালের গুঁড়ো বা ব্যাম্বু এক্সট্রাক্ট রয়েছে।

Check Also

ত্বকের কালচে ভাব দূর করতে

|অনামিকা মৌ| অনেক সময় দেখা যায় আমাদের ত্বক অপেক্ষাকৃত উজ্জ্বল হলেও ত্বকের বিভিন্ন অংশ যেমন …