বিরক্তিকর মানুষের ৭ টি বৈশিষ্ট্য

প্রত্যেকেই চায় আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের মানুষ হতে এবং প্রত্যেকেরই আকর্ষণীয় হওয়ার যোগ্যতা বা গুণ আছে। কিন্তু ইচ্ছে করেই, বা অজ্ঞাতসারেই অনেকে বিরক্তিকর হয়ে উঠে বা বিরক্তিকর থেকে যায়। আপনি যদি সে ধরণের মানুষ হতে না চান তাহলে নিচের লক্ষণগুলো থেকে জেনে নিন যে, কোন অভ্যাসের কারণে একজন মানুষ আসলে খুবই বিরক্তিকর হিসেবে গণ্য হয়।

বিজনেস ইনসাইডার চরম বিরক্তিকর মানুষের কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছে। সেগুলো মাথায় রাখতে পারেন যারা বিরক্তিকর মানুষ হতে না চান বা তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে চান। সেরকম সাতটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে:

১. বিরক্তিকর মানুষ অপরজন কি ভাববে তার দিকে খেয়াল করেনা :

ড্রিউ অস্টিন নামে এক মনোবিদ জানান , বিরক্তিকর ব্যক্তিরা কখনোই কোনো কথোপকথনে বিপরীত পাশের ব্যক্তিটির কথা চিন্তা করেন না। অর্থাৎ অন্যরা কী ভাবতে পারে, তাদের মনোভাব কী সেটা নিয়ে ভাবেন না।

তিনি আরো বলেন, একজন ব্যক্তি যখন অন্য আরেকজনের অবস্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করতে পারবে তখনি সে আকর্ষণীয় ও আলাপযোগ্য ব্যক্তি হয়ে উঠবে।

২. বিরক্তিকর মানুষের আলাপে অপরকে যুক্ত করতে চান না :

মানুষ তখনি বিরক্তিকর হয়ে উঠে যখন সে তার কথোপকথনে অন্য কাউকে যোগ করেনা। আর সেটি উপলব্ধি করা যায় তখনি যখন সেই বিরক্তিকর ব্যক্তিটি শুধুমাত্র তার নিজের বক্তব্যকে অতিমাত্রায় ব্যাখা করতে চান। হোক সেটা প্রয়োজনীয় কিংবা অপ্রয়োজনীয়।

যদি আপনি বুঝতে না পারেন যে আপনার কথোপকথন থেকে কেউ নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে বা আপনার সাথে বেশিক্ষণ আলাপ করতে চাননা তাহলে বুঝতে হবে আপনি একজন বিরক্তিকর মানুষ।

৩. বিরক্তিকর মানুষ নিজেদের ইতিবাচক পরিবর্তন করতে চাননা :

বিরক্তিকর মানুষের দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে তাদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে তারা আন্তরিক ও আগ্রহী নয়। তারা হয়তো মনে করে সব শিখে ফেলেছে, সব অর্জন হয়ে গিয়েছে। এজন্য নতুন কিছু আর শেখার তাড়না বা প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনা। এই গুণটি তাদেরকে কেবল বিরক্তিরই রেখে দেয়। অথচ ইতিবাচক ও আকর্ষণীয় মানুষ নতুন নতুন জিনিস শিখে, নিজের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে এসে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেন।

৪. একঘেয়েমি কথাবার্তা :

বিরক্তিকর মানুষ যেহেতু কি বলবে বা কি করবে সে বিষয়ে সচেতন নয় এজন্য তারা যখন কথা বলে বেশিরভাগই বিরক্তিকর ও একঘেয়েমিপূর্ণ। তাদের হাসি-তামাশা দু:খজনক আবার তাদের গম্ভীরতা হাস্যকর।

৫. সবসময় নেতিবাচক থাকেন :

যেসকল ব্যক্তি সবসময় নেতিবাচক ও হতাশাপূর্ণ থাকে তারা বিরক্তিকর। তিনি নেতিবাচকতাকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন।

১. ভিকটিম মেন্টালিটি : কেন আমার সাথেই এমন হচ্ছে? আমার প্রতিই কেন এই সব অবিচার?

২. মানসিক অসুস্থতা : ওর জন্য আমি এই কাজটা করতে পারলাম না। নিজের ব্যর্থতার জন্য কোন একটা ইস্যুকে দোষারোপ করা।

৩. দোষারোপ করার মানসিকতা : এর দায়ভার রাষ্ট্রের। এটা সমাজ ব্যবস্থার জন্য হলো। আমার পরিবার এর জন্য দায়ী।

৬. একই কথার পুনরাবৃত্তি :

বিরক্তিকর মানুষ বার বার একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বিরক্তির মাত্রা বাড়িয়ে দেন।

৭. তারা নিজেরাই আসলে সবসময়ই বিরক্ত থাকেন :

নেলাক্যানভিচ নামে এক বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমি সেই সকল লোকের কথায় বিরক্ত, যারা কথায় কথায় বলে বসে তাদের কিছু ভালো লাগে না, সবসময় কেমন জানি উদাস উদাস লাগে।’

সব সময় যদি আপনি ভেবেই থাকেন আপনার কিছুই ভালো লাগছে না, সব কিছুই কেমন বিরক্তিকর তাহলে উদাসীনদের দলে আপনাকে স্বাগতম। যা কিছু ভালো লাগে সেই জিনিস নিয়ে আপনার মনের আনন্দ প্রকাশ করুন। সবাইকে দেখিয়ে দিন যে আপনি বিরক্তিকর না। আপনার ইচ্ছাই আপনাকে উদাসীনতা থেকে মুক্ত করবে।

Check Also

সুখী হওয়ার পাঁচটি উপায়

আপনি জেনে নিতে পারেন কিভাবে একজন সুখী মানুষ হওয়া যায়। ঠিক যেভাবে সংগীত শিল্পী বা …