যে ৮ অভ্যাস সকালের চেয়ে রাতে ভালো

সকালের কিছু অভ্যাসকে রাতের অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়, যেমন- গোসল করা, ঘাম প্রতিরোধক প্রোডাক্ট ব্যবহার করা, ত্বককে প্রাণবন্ত রাখার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা এবং চুল আঁচড়ানো। এখানে সকালের চেয়ে রাতে ভালো এমন ৮ স্বাস্থ্যকর অভ্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

* গোসল করা
দীর্ঘ ক্লান্তিকর দিনের পর আপনি হয়তো রাতে গোসল করতে চাইবেন না, কিন্তু এটি হচ্ছে বিছানায় যাওয়ার পূর্বে দিনের নোংরা দূর করার সর্বোত্তম উপায়। রাতে গোসল শুধু সকালের সময়ই বাঁচায় না, চুল বা ত্বকে লেগে থাকা যেকোনো অ্যালার্জেন বা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী বস্তুও (যেমন- ফুলের রেণু ও ধূলিকণা) দূর করে। এছাড়া আপনি সকালে সতেজ ও পরিচ্ছন্ন অনুভূতি নিয়ে জেগে ওঠবেন।

* চুল আঁচড়ানো
সকালে জট পাকানো চুল নিয়ে জেগে ওঠতে না চাইলে রাতে চুল আঁচড়ান। রাতে ভেজা চুলে চিরুনি চালিয়ে আপনার সকালের রুটিনে সময় বাঁচান। রাতে চুল না আঁচড়ালে চুল এমনভাবে জট পাকাতে পারে যা ছাড়াতে গেলে অনেক সময় নষ্ট হবে এবং চুল ছিঁড়েও যেতে পারে। রাতে চুল আঁচড়ালে আপনি টেনশনমুক্ত হয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন, চুলের ড্যামেজ কম হবে এবং সকালে সময় বাঁচবে।

* অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহার
ঘামের দুর্গন্ধ এড়াতে আপনি হয়তো সকালেই অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহার করেন। কিন্তু এ প্রোডাক্টটি প্রয়োগের সর্বোত্তম সময় হচ্ছে রাত। রাতে অ্যান্টিপারস্পিরেন্ট ব্যবহার করলে অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট (সাধারণত ঘাম প্রতিরোধক ও গন্ধনাশকের সমন্বয়) ঘর্মগ্রন্থিতে প্রবেশ করে। সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতির সময় ব্যবহৃত এ প্রোডাক্ট ধুয়ে ফেলবেন কিনা দুশ্চিন্তা করছেন? না ধোয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ এসব ইনগ্রেডিয়েন্ট ২৪ ঘণ্টা কার্যকর থাকে।

* ত্বকে ক্রিম বা লোশন লাগানো
আমাদের ঘুম এবং জেগে ওঠা নিয়ন্ত্রণকারী সার্কাডিয়ান রিদম শরীরের অন্যান্য ডায়নামিকও পরিচালনা করে, যার মধ্যে আমাদের ত্বকের আচরণ অন্তর্ভুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের ত্বক দিনে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সান ড্যামেজ ও অক্সিডেশনের মতো আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু ত্বক রাতে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে, যেখানে কোষের পুনর্জন্ম ও মেরামত হয়- এসময় কোষের সবচেয়ে বেশি পুষ্টি প্রয়োজন এবং এসময় বার্ধক্য-বিরোধী ক্রিম বা লোশন সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হয়। তাই বিছানায় যাওয়ার পূর্বে ত্বকে প্রয়োজনীয় ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করুন।

* শেভ করা
রাতে শেভ করার ফলে সকালে সময় বেঁচে যাওয়ার কারণে আপনি কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ধীরেসুস্থে প্রস্তুত হতে পারবেন। অনেক সময় সকালে তাড়াহুড়ো করে লোম পরিষ্কার বা শেভ করতে গেলে ত্বক কেটে যায়- যা বিরক্তিকর অনুভূতি বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। সারারাত ত্বকের হাইড্রেশন নিশ্চিত করতে শেভের পরপরই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

* চোখের মেকআপ তোলা
আপনি সম্ভবত জানেন যে আপনার ফাউন্ডেশন, ব্রোঞ্জার ও ব্লাশ দূর করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, অন্যথায় ত্বকের ছিদ্র বুজে যাবে এবং ব্রণ সৃষ্টি হবে। কিন্তু আপনার চোখের মেকআপ (মাসকারা, লাইনার ও আই শ্যাডো) দূর করাও ভালো আইডিয়া, যাতে আই ল্যাশ পড়ে যাওয়া এবং সম্ভাব্য চোখের জ্বালাতন প্রতিরোধ হয়।

* চুলে বেণী করা
ঘুমের সময় এপাশ-ওপাশ করা কিংবা অন্য কোনোভাবে আপনার চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সফট হেয়ার টাই ব্যবহার করুন এবং লুজ বেণী করে ঘুমান। এই ছোট অভ্যাসটি আপনার চুলের ভাঙন প্রতিরোধে সাহায্য করবে। এটি একটি পরিচ্ছন্ন হেয়ার স্টাইলিং ট্রিক।

* হিউমিডিফাইয়ার ব্যবহার
হিউমিডিফাইয়ার চালু করলে সহজে শ্বাসকার্য চালাতে পারবেন এবং সম্ভাব্য কোল্ড ও ইনফেকশনের ঝুঁকি হ্রাস পাবে- কারণ আর্দ্র বায়ু নাকের ন্যাচারাল জার্ম ফিল্টারের জন্য ভালো, কিন্তু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার জন্য খারাপ। হিউমিডিফাইয়ার ত্বককে নরম রাখে এবং বলিরেখার দৃশ্যমানতা হ্রাস করে (শুষ্কতা এসব রেখাকে বেশি দৃশ্যমান করে)। এটি শুষ্ক গলা ও সাইনাস প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং রাতে ভালো ঘুম আনে।

Check Also

ফ্রিজে রাখা লেবুর আশ্চর্যজনক উপকারিতা

আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গ বা জুস হিসেবে লেবু থাকছে সব সময়। আপনি কি জানেন, এই …