কত বছরে শিশু আলাদা বিছানায়?

আদরের সন্তানকে বুকে আগলে রাখতে চান প্রতিটি বাবা-মা। অনেক সময় দেখা যায় ৭-৮ বছর বয়সেও শিশুদেরকে সঙ্গে নিয়ে এক বিছানায় থাকছেন।

শিশুরা কাঁদলে বাবা-মা ভাবেন রাতে এক সঙ্গে ঘুমালে বাচ্চার ঘুম ভালো হবে, তারা ভয় পাবে না, রাতে কাঁদবে না।

কিন্তু গবেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। নরওয়ের মাদার জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শিশু এবং মা বিষয়ক গবেষণায় প্রতিবেদনে শিশুর বয়স ১৮ মাস হওয়ার পরেই তাদের আলাদা বিছানায় ঘুমাতে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা।

তাদের মতে, ১৮ মাস পার হওয়ার পরে বাবা-মা’র সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমালে শিশুদের ঘুমের পরিমাণ কমে আসে। ফলে শিশুরা দিনের বেলায় অস্বস্তিতে থাকে।

নরওয়ে ইউনিভার্সিটি অব বারগেনের মনোবিশেষজ্ঞ ডা. মারি হাইসিং বলেন, দেখা গেছে যেসব শিশুরা বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুমায় তাদের রাতে কম ঘুম হওয়া এবং মাঝে মাঝেই জেগে ওঠার প্রবণতা থাকে। এক-তৃতীয়াংশ শিশু যারা ছয় মাস বয়স থেকে রাতে বারবার জেগে যাওয়ার অভ্যাস ছিল, ১৮ মাস বয়সেও তা থেকে গেছে।

দুই বছর বয়সের আগেই শিশুকে বাবা মায়ের কাছ থেকে আলাদা শোয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। অনেক সময় এই অভ্যাস তৈরি করতে বাবা মাকে বেশ ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়।

এজন্য শিশুদের প্রথমে আপনাদের শোবার ঘরেই আলাদা বিছানা করে দিন। এরপর ৩-৪ বছর বয়স হলেই ঘর আলাদা করুন। মনে রাখবেন, ঘরগুলো সাজাতে হবে নানা রঙের আসবাবপত্র দিয়ে। সঙ্গে রাখতে হবে তার পছন্দের খেলনা। পড়ার জায়গাও হবে তার পছন্দমতো। খাটের উচ্চতা রাখুন শিশুদের উপযোগী করে। রাতে মৃদু আলো রাখতে হবে, যেন শিশু একা অন্ধকারে ভয় না পায়। আপনাদের পাশের রুমেই শিশুর থাকার ব্যবস্থা করুন। আর দুই রুমের দরজা খোলা রাখুন। তাহলে আর শিশুর জন্য বাড়তি চিন্তা থাকবে না।

Check Also

শিশুর বুকে জমে থাকা কফ গলানোর দারুণ কৌশল

ঋতুর পরিবর্তনের কারণে সব থেকে বেশি রোগে আক্রান্ত হয় শিশুরা। হঠাৎ বৃষ্টি, রোদ, ঠাণ্ডা বাতাস …