কানে কটন বাড আটকে যাওয়ার ভয়াবহ পরিণতি!!!

যুক্তরাজ্যের ৩১ বছর বয়সী এক পুরুষকে সম্প্রতি হাসপাতালে নিতে হয় জরুরি ভিত্তিতে, কারণ হলো কটন বাড!  ওই ব্যক্তির বাম কানের ভেতরে আটকে ছিল আস্ত একটি কটন বাড, যা থেকে তার ইনফেকশন হয়। ইনফেকশনের কারণে তার খিঁচুনি ও বমি হয়। ফলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তার ওই ইনফেকশনের নাম নেক্রোটাইজিং ওটাইটিস এক্সটার্না। সাধারণত তা হয়ে থাকে বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তিদের মাঝে, বিশেষ করে ডায়াবেটিক বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন মানুষের। সিউডোমোনাস আরুজিনোসা ব্যাকটেরিয়ার কারণে এই ইনফেকশনটি হয়। এই ইনফেকশনটি বিপজ্জনক, এমনকি প্রাণহানির কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কটন বাড ব্যবহার করাটা এ ধরনের ইনফেকশন ঘটাতে পারে, কারণ তা কানের ভেতরে ক্ষত সৃষ্টি করতে সক্ষম। কিন্তু এই ঘটনা বাস্তবে দেখা গেল এই প্রথম। আরও ভয়াবহ ব্যাপার হলো, কটন বাডটি কতদিন ধরে ওই ব্যক্তির কানের ভেতরে ছিল সে ব্যাপারে জানা যায়নি। তিনি ওই কানে পাঁচ বছর ধরে ভালোভাবে শুনতে পান না, এটা জানা গেছে।

ইনফেকশন, খিঁচুনি ও বমির পাশাপাশি ওই ব্যক্তি নিজের পরিচিত মানুষের নাম ভুলে যাচ্ছিলেন। ডাক্তাররা ভয় পান, তার হয়ত মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের ইনফেকশন) হয়েছে। এ জন্য তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এরপর তাকে জেনারেল অ্যানেসথেটিক দিয়ে কানের ভেতরে পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, কানের ভেতরে প্রচুর পুঁজ জমে আছে। এর মাঝেই কটন বাডটি দেখা যায়। সিটি স্ক্যান করে দেখা যায় তার মাথার খুলির ভেতরেও কয়েকটি পুঁজ জমা ফোসকা রয়েছে। তার কানটিকে পরিষ্কার করা হয় ও তাকে শিরার মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। সপ্তাহখানেকের ভেতর তার পুঁজ কমে আসে। এরপর আরও দুই মাস পর্যন্ত তাকে ওষুধ খেতে দেওয়া হয়। প্রায় ১০ সপ্তাহ পর দেখা যায় তার আর কোনো উপসর্গ নেই ও মস্তিষ্কেও সমস্যা হয়নি।

জেনে রাখা ভালো, কটন বাড কখনোই কানের ভেতরে ঢোকানো যাবে না। তা দিয়ে কানের বাইরেটা শুধু পরিষ্কার করা যাবে। প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের কানের ভেতরের ময়লা বাইরে চলে আসে। বেশি অস্বস্তি হলে বা কানের কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিজে নিজে তার চিকিৎসা না করে ডাক্তারের কাছে যান।

সূত্র: আইএফএলসায়েন্স

 

Check Also

জ্বর সারানোর ঘরোয়া উপায়

হুটহাট জ্বর চলে আসা এই সময়ে অস্বাভাবিক নয়। বাতাসে ঋতু বদলের ঘ্রাণ। প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে …