নুসরাতকে ছাদে ডেকে নেয়া কে এই শম্পা?

নুসরাত জাহান রাফিকে আগুন দিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশ শোকাহত। দফায় দফায় চলছে নুসরাত হত্যা বিচারের দাবিতে আন্দোলন।

নুসরাতের শরীরে আগুন দেয়ার আগে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় সহপাঠী উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ই এপ্রিল চিকিৎসকদের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে (ডাইং ডিক্লারেশন) ‘শম্পা’ নামটি উল্লেখ করেন নুসরাত।

এরপর থেকে চলতে থাকে শম্পা সর্ম্পকে জানার মিশন। অবশেষে আজ সোমবার (১৫ এপ্রিল) নুসরাত রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সরাসরি অংশ গ্রহণ করা উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পাকে আটক করেছে পুলিশ।

নুসরাত মৃত্যুর আগে চিকিৎসকদের বলেছিলেন, হাত মোজা, চশমা ও বোরকা পরা চারজন তাকে মাদরাসা ভবনের তিন তলার ছাদে ডেকে নেয়।

সূত্রে জানা গেছে, আটক শম্পা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দোলাহর ভাগ্নি এবং অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করার পর তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনেও সে নেতৃত্ব দিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসাছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে এমন সংবাদে তিনি ছাদে যান। সেখানে বোরকা পরা ৪-৫ জন তাকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়।

এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন অগ্নিদগ্ধ নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার।

এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। ওই দিনই অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

ইতিমধ্যে নুসরাত হত্যার অন্যতম দুই আসামি নুর উদ্দিন ও শামীম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের।

Check Also

মৃত্যুর আগে যা বলে গিয়েছেন নুসরাত

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি মারা গেছেন। বুধবার …