যে কারণে নুসরাতকে বাঁচানো গেলো না

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি শেষ পর্যন্ত চলেই গেলেন। ৮৫ ভাগ পোড়া শরীর নিয়ে চার দিনের লড়াই শেষে তিনি হার মানলেন। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। তাকে বাঁচাতে না পারার চারটি কারণের কথা বলছেন চিকিৎসকেরা।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, ‘নুসরাতের শরীরের ৮৫ ভাগ মেজর বার্ন। এর মধ্যে ৬০ ভাগ গভীর পোড়া। তার শ্বাসতন্ত্র পোড়া ছিল। কেরোসিন নিজেই টক্সিক। এটা ফুসফুস এবং ব্রেনের কার্যক্ষমতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এর চারটা কারণই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ বলা যায়।’

তানভীর আহমেদ বলেন, ‘এমনিতে সুইসাইডাল বা হোমিসাইডাল দুইটার ক্ষেত্রেই ইনটেনসিভ থাকে। যেগুলো দুর্ঘটনাজনিত, সেগুলোতে কোনও উদ্দেশ্য থাকে না। সেগুলো দুর্ঘটনাবশতই হয়ে যায়। যেগুলো আত্মহত্যার, সেগুলোর ক্ষেত্রে সে নিজে চিন্তা করে যে, আমি কীভাবে পুড়লে মারা যাবো। আর যেগুলো খুনের বিষয় থাকে, সেখানে চিন্তা করে যে, কীভাবে পোড়ালে মারা যাবে; সে আর কিছু করতে পারবে না। সেই কারণে এই দুই ক্ষেত্রের দুর্ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ থাকে।’

তানভীর আহমেদের ভাষ্য, ‘নুসরাতের ঘটনাটি আত্মহত্যাজনিত বলে আমাদের মনে হয় না। কারণ, আমরা তাকে যেরকম দেখেছি এবং তার যে অবস্থা এতে করে এটাকে আমরা আত্মহত্যাজনিত কেস কোনোভাবেই বলবো না। তাছাড়া আপনারা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছেন। আমরাও যতটুকু শুনেছি, এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যাজনিত কোনও ঘটনা ছিল বলে আমার মনে হয় না।’

ডা. সামন্ত লাল সেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৮৫ ভাগ বার্ন হওয়া রোগীর বডিতে অনেক রকম সমস্যা হয়। এই রোগীকে বাঁচানো খুব মুশকিল। আজকে তার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে। এ ধরনের পেশেন্টের হঠাৎ মৃত্যু হয়। আমরা সিঙ্গাপুরে কথা বলেছিলাম, তারাও বলেছিল চান্স অব সারভাইবেল কম।’

Check Also

এবার রাস্তায় নেমেছে নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলে বিক্ষোভ করেছেন তার সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নটরডেম …