ঘন কালো চুলের জন্য

এ সময়ে নিয়মিত চুলের যত্নের খুবই প্রয়োজন। প্রতিদিন মাথার ত্বকে ঘাম, ধুলোময়লা জমে নষ্ট হয় চুলের সৌন্দর্য। চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ। তাই চুল ও মাথার ত্বক সব সময় ঝলমলে রাখতে নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখতে হবে এবং চুলের যত্নে তেলও দিতে হবে।

এছাড়া চুল পরিষ্কার রাখতে নিয়মিত শ্যাম্পু করুন। শ্যাম্পু চুল পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি চুলকে স্বাস্থ্যেজ্জ্বল করে তোলে। যারা বাইরে রোদে পুড়ে কাজ করেন বা দিনের বেশির ভাগ সময় রান্নাঘরে থাকেন, তাদের দরকার প্রতিদিন শ্যাম্পু করা। তাতে চুলে ময়লা জমবে না। চুল ভালো থাকবে।

চুলে মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহারের সঙ্গে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে কন্ডিশনার। চুল নিষ্প্রাণ দেখাবে না।

শ্যাম্পু করার পর বেশি করে পানি ঢেলে চুল পরিষ্কার করুন। নয়তো স্ক্যাল্পে শ্যাম্পু জমে খুশকি তৈরি হবে। শ্যাম্পু করার সময় চুল সামনের দিকে না এনে পেছনের দিক দিয়ে শ্যাম্পু করুন এবং ঝরনা ব্যবহার করে শ্যাম্পু ধুয়ে ফেলুন।

এতে খুব সুন্দরভাবে শ্যাম্পু স্ক্যাল্প থেকে ঝরে যাবে। শ্যাম্পু করার আগে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন। চুলের জট খুলে নিলে চুল ভালোমতো পরিষ্কার হবে।

বিভিন্ন ধরনের হেয়ার স্টাইল করতে আমরা হেয়ার ড্রায়ার, আয়রন হেয়ার কালারসহ বিভিন্ন ধরনের হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করি। এসব হেয়ার প্রোডাক্ট চুল সাময়িকভাবে সুন্দর করলেও পরবর্তীতে চুলের ক্ষতি করে। চুল রুক্ষ ও ভঙ্গুর করে দেয়। তাই চুলের যত্নে সপ্তাহে একদিন ডিপ কন্ডিশনিং করুন।

সপ্তাহের তিন দিন তিন টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে পাঁচ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মাথায় ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। ৩০ মিনিট পর চুল স্বাভাবিকভাবে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। যাদের চুল শুষ্ক আর আর্দ্রতার অভাবে শুষ্ক হয়ে পড়েছে, তাদের জন্য প্যাকটি বেশ উপকারী।

আগের রাতে মেথি, শিকাকাই ও আমলকীর গুঁড়া পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার সব উপকরণ একসঙ্গে বেটে পেস্ট তৈরি করুন। প্যাকটি চুলে এক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করুন। চুলের রুক্ষতা দূর হওয়ার পাশাপাশি আপনি পাবেন ঝলমলে আর সুন্দর চুল।

চুল পরিষ্কারের পাশাপাশি চিরুনিও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। প্রতিবার আঁচড়ানোর সময় মাথার ঘাম, ধুলা, ব্যাকটেরিয়া, ঝরে পড়া চুল সব মিলে চিরুনি ময়লা হতে থাকে। আর অপরিষ্কার ব্রাশ বা চিরুনি ব্যবহারে চুল ময়লা হয় এবং স্ক্যাল্পে খুশকি হয়। তাই চিরুনি ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।

চুলের পরিচর্যা

* লেবুর রসের সঙ্গে ত্রিফলা চূর্ণ মিশিয়ে সপ্তাহে ২ দিন চুলে ব্যবহার করলে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং চুল দ্রুত বাড়ে। ষ নিয়মিত চুলে তেল দেয়ার অভ্যাস করুন এতে চুল নরম ও মোলায়েম থাকবে। চুলের খসখসে ভাব চলে যাবে। ষ লেবুর রসের সঙ্গে টক দই ব্যবহার করলে খুশকি দূর হয়। ষ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে জবা ফুল পেস্ট করে লাগালে চুল গজাতে সাহায্য করে।

* লেবুর রসের সঙ্গে চায়ের লিকার মিশিয়ে শ্যাম্পু শেষে ব্যবহার করলে চুল ঝলমলে ও সুন্দর হয়।

* নারিকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করলে খুশকি দূর হয়।

* শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনিংয়ের জন্য ১ চামচ মেথি ১ লিটার পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে ওই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

Check Also

চুল পড়া বন্ধ করবে এই খাবারগুলো

চুল পড়ার সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। আমাদের চুল পড়ার …