ফাগুন রেজার দাফন সম্পন্ন

ফাগুনের বাড়ি শেরপুর জেলা শহরে। তিনি তেজগাঁও কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করতেন। সর্বশেষ তিনি প্রিয়.কমে সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র ও সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন (ফাগুন রেজা)। গত মঙ্গলবার তিনি দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন।

২৩ মে , বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১০টায় শহরের তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দিকীয়া মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে তার মরদেহ ১১.৩৫ মিনিটে শেরপুর সদরের চাপাতলি পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

২২ মে, বুধবার জামালপুরের নান্দিনা মধ্যপাড়া রেললাইনের পাশ থেকে ফাগুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২১ মে, মঙ্গলবার ঢাকা থেকে শেরপুরে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়।

ফাগুনের বাড়ি শেরপুর জেলা শহরে। তিনি তেজগাঁও কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করতেন। সর্বশেষ তিনি প্রিয়.কমে সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। সম্প্রতি তিনি চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। আগামী মাসে আরেকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে তার যোগদান করার কথা ছিল।

ফাগুন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলাম লেখক কাকন রেজার বড় ছেলে।

পুলিশ ধারণা করছে, ফাগুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে রেললাইনের পাশে ফেলে গেছে। ফাগুনের মাথায় বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

কাকন রেজা বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো শত্রু ছিল না। কিন্তু কে বা কারা তাকে এভাবে হত্যা করল বুঝতে পারছি না।’

কাকন রেজা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফাগুন ঢাকার মহাখালী থেকে শেরপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর বেশ কয়েকবার তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগও হয়। সর্বশেষ রাত সাড়ে ৮টায় যোগাযোগের সময় ফাগুন তার বাবাকে জানিয়েছিলেন তিনি ময়মনসিংহের কাছাকাছি অবস্থান করছেন। এরপর ফাগুনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে মোবাইলে কল ঢুকলেও পরে সুইচ অফ পাওয়া যায়।

রাতে বাসায় না ফিরলে শেষ রাতে ও বুধবার সকালে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। পরে সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন কাকন রেজা।

ময়মনসিংহ পুলিশ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝির বরাত দিয়ে বুধবার দুপুরে কাকন রেজা বলেন, ‘ফাগুনের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে দেখা গেছে, তার সর্বশেষ অবস্থান ছিল ময়মনসিংহের একটি গ্রামে। কিন্তু ওই জায়গায় যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

বেলা ৩টার দিকে খবর পাওয়া যায়, জামালপুরের নান্দিনা মধ্যপাড়া এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে একটি মরদেহ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি ফাগুনের মরদেহ।

জামালপুর রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়মনসিংহ থেকে কীভাবে জামালপুরে গেলেন ফাগুন, সে বিষয়ে এখনো কিছু বলতে পারেনি পুলিশ।

Check Also

যেভাবে গণপরিবহনে নিরাপদ থাকবেন নারীরা

ঘরে ও বাইরে প্রতিনিয়ত নারীরদের কাজে অংশগ্রহণ বাড়ছে । পুরুষের সঙ্গে সমান তালে নারীরা দেশের …