সদ্যোজাতকে বাঁচাতে না পারলেও তার অঙ্গদানে মানবিকতার নজির গড়লেন এই মা

১৮ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় আমেরিকার ওয়াশিংটনের ক্রিস্টা ডেভিস জানতে পারেন তাঁর গর্ভস্থ সন্তানের অ্যানেনসেফ্যালি নামে একটি রোগ আছে | এই রোগের ফলে গর্ভস্থ শিশুটির মস্তিষ্ক বা করোটির কিছু অংশ গঠিতই হয় না | এই কথা জানতে পারার পর পায়ের তলা থেকে মাটিই সরে গিয়েছিল ক্রিস্টার | কিন্তু ২৩ বছরের তরুণী মা ক্রিস্টা সন্তান হারানোর শোকে বিহ্বল হয়েই থেকে যাননি | তিনি যা করেছেন তাতে তাঁর মানবিকতা আরও অনেকে মানুষের মন স্পর্শ করতে পারে |

ক্রিস্টা ও তাঁর প্রেমিক ডেরেক লোভেটকে ডাক্তাররা জানান তাঁদের সদ্যোজাত সন্তান রেইলির অসুখের জন্য জন্মের পরে ৩০ মিনিটের বেশি সময় জীবিত থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয় | তাঁদেরকে দুটি বিকল্প উপায় দেওয়া হয় | হয় তাঁরা তখনই শিশুটির জন্ম দান করতে পারেন, নাহয় আরও কিছুদিন তাকে রেখে নির্দিষ্ট অবস্থায় শিশুটির অঙ্গদান করতে পারেন | মায়ের নাড়ি কেটে দেওয়ার পর অ্যানেনসেফ্যালি আক্রান্ত শিশুদের নিজেদের বাঁচার ক্ষমতা থাকে না | ক্রিস্টা ও ডেরেক সিদ্ধান্ত নেন তাঁদের নিজের সন্তানকে বাঁচাতে না পারলেও তার অঙ্গদান করে অন্য কোনও মায়ের কোলে তাঁর সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করতে চান | চল্লিশ সপ্তাহ দু ‘ দিন পর নির্দিষ্ট তত্ত্বাবধানে রেইলির জন্ম হয় | কিন্তু ডাক্তারদের কথা ভুল প্রমাণ করে যার মাত্র ৩০ মিনিট বাঁচার কথা ছিল সেই ছোট্ট রেইলি গোটা এক সপ্তাহ বেঁচে ছিল | তারপরে সে প্রাণ হারায় |

রেইলির মারা যাওয়ার আগে অবধি হাসপাতালে একসঙ্গেই ছিলেন ক্রিস্টা, ডেরেক ও রেইলি | ডাক্তারদের ধারণা নস্যাত্‍ করে এতগুলো দিন যে রেইলি এই পৃথিবীতে থাকবে তা ভাবতেই পারেননি ক্রিস্টা | কিন্তু তাও রেইলির এই সংক্ষিপ্ত জীবন তাঁকে জীবনের শ্রেষ্ঠ খুশি দান করেছিল | কয়েকদিনের জীবনে শুধু মারা যাওয়ার দিন যখন ক্রমশ অক্সিজেন ফুরিয়ে আসতে থাকে তখন একবারমাত্র রেইলিকে অল্প কাঁদতে দেখেছিলেন ডেরেক | এছাড়া আর একবারও কাঁদেনি ছোট্ট শিশুটি | তার মৃত্যুর পর তার দান করা হৃদযন্ত্রের ভালভগুলি দু ‘ জন শিশুকে দেওয়া হয় | তার শ্বাসযন্ত্রটি পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য এক রিসার্চ হাসপাতালে দেওয়া হয় | এই মহান দানের মাধ্যমে রেইলিকে অন্যের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখলেন ক্রিস্টা ও ডেরেক |

Check Also

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা চুল এই কিশোরীর!

বলা হয়ে থাকে, লম্বা চুল নারীদের সৌন্দর্য অনেক বাড়িয়ে দেয়। এজন্য বেশিরভাগ নারীই তাদের চুল …