৩০ ঘণ্টার অপারেশনে আলাদা হলো রাবেয়া-রুকাইয়া

টানা ৩০ ঘন্টা অস্ত্রোপাচারের পর আলাদা করা হয়েছে জোড়া মাথার দুই বোন রাবেয়া ও রুকাইয়াকে। শুক্রবার (২ আগস্ট) রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তাদের অস্ত্রোপাচার সম্পন্ন করেন হাঙ্গেরির চিকিৎসকরা। চিকিৎসক দলে ৩৫ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছিলেন।

চূড়ান্তভাবে দুই বোনের মাথা আলাদা করার পর এখন তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। চিকিৎসক দল তাদের এখন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে রাবেয়া-রুকাইয়ার প্রাথমিক অস্ত্রোপাচার হয়েছিল হাঙ্গেরিতে। সেখানে তাদের অস্ত্রোপাচারেরর পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন তাদের বাঁচার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। এবার অপারেশনের মাধ্যমে শিশু দুইটের মাথায় বিশেষ এক্সপান্ডার স্থাপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চিকিৎসক দলের প্রধান আন্দ্রেস কসোকে সাংবাদিকদের জানান, শিশু দুটির মাথার ক্ষত এরিয়া সফট টিস্যুতে ঢেকে ফেলা হয়েছে। হাঙ্গেরিতে এই টিস্যুর এক্সপানসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। শিশু দুটির অস্ত্রোপাচারে অংশ নেয় ৩৫ জন বিশেষজ্ঞ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই পাবনা শহরের একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা খাতুন দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় জোড়া মাথার জমজ রাবেয়া-রুকাইয়া। রাবেয়া-রুকাইয়া যে বিরল অসুস্থতা নিয়ে জন্ম নিয়েছে, এমন অসুস্থতা বিশ্বে ৫০-৬০ লাখ নবজাতকের জন্মের বিপরীতে একটি ঘটে।

গত বছরের নভেম্বরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় তাদের। বিষয়টি নজরে এলে এ দুই বোনের চিকিৎসা তদারকি করতে থাকেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে ঢামেকে দু’জনের জোড়া মাথায় দুই দফা এনজিওগ্রামের মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্কের প্রধান রক্তনালী আলাদা করা হয়। এরপর গত জানুয়ারি মাসে প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের জন্য রাবেয়া-রুকাইয়াকে হাঙ্গেরিতে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের মাথার খুলি ও সফট টিস্যু বাড়াতে বিশেষ অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা।

এরপর চূড়ান্ত অস্ত্রোপচারের জন্য গত জুলাইয়ের শেষ দিকে রাবেয়া-রুকাইয়াকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের সঙ্গে আসেন হাঙ্গেরিয়ান বিশেষজ্ঞরাও।

Check Also

অভিজাত এলাকায় বিচরণ ডিজে নেহার, চলত উদ্যাম নৃত্য

ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় …