গজ রেখে সেলাই; ৩ দিনের কন্যা রেখেই না ফেরার দেশে আমন্তিকা


আমান্তিকা নামের সেই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। আর গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিক ভাংচুর করেছে রোগীর বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। সোমবার দুপুরে নারায়নগঞ্জের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে বিক্ষুদ্ধ স্বজনদের বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. পিন্টু মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ঘটনার বিবরনিতে জানা যায়, আমান্তিকা উপজেলার বড় সাদিপুর এলাকার পিন্টু মিয়ার স্ত্রী। পিন্টু মিয়া জানান, শুক্রবার বিকেলে তার স্ত্রী আমান্তিকার প্রসব ব্যথা উঠলে সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের গাইনি ডাক্তার নুরজাহান বেগম তাকে সিজার করতে হবে বলে জানান। তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৩ হাজার টাকায় আমান্তিকাকে সিজার করার চুক্তি করেন।

তিনি আরো জানান, সন্ধ্যায় আমান্তিকাকে সিজার করেন এবং একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তাড়াহুড়ো করে সিজারের পর ওই রোগীর পেটে গজ রেখেই ডা. নুরজাহান সেলাই করেন। আরেকটি অপারেশন আছে বলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এদিকে সেলাইয়ের পর রাত যত বাড়তে থাকে আমান্তিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তার পেট ব্যথাসহ কয়েকবার বমি করেন। পরে হাসপাতালের নার্সরা আমান্তিকার শারীরিক অবস্থার কথা ডা. নুরজাহানকে জানালে তিনি শনিবার সকালে আমান্তিকাকে নারায়ণগঞ্জ কেয়ার হাসপাতালে নিতে বলেন।

সেখানে নিলে আমান্তিকাকে দুই দফা অপারেশন করে জরায়ু কেটে ফেলেন ডা. নুরজাহান। অপারেশন শেষে আমান্তিকার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে রোগীর স্বজনদের জানানো হয় রোগীর কিডনিতে সমস্যা আছে তাকে দ্রুত ঢাকা আজগর আলী হাসপাতালে নিতে হবে। শনিবার রাতেই স্বজনরা রোগীকে আজগর আলী হাসপাতালে নিলে সোমবার ভোরে মারা যান।

আমান্তিকা মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেইন গেইটে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। সোমবার সকালে আমান্তিকার মৃত্যুর বিচার চেয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর করে স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুদ্ধ স্বজনদের বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Check Also

মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কপিতে ভয়াবহ বর্ণনা

রিফাত হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর গ্রেফতার হন তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। গ্রেফতারের পরই মিন্নি …