Advertisements

নিষ্প্রভ নক্ষত্র মোনালিসা

Monalisa নিষ্প্রভ নক্ষত্র মোনালিসা

বিনোদন জগতের অনেকটা হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম মোনালিসা। একাধারে জনপ্রিয় মডেল, নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী তিনি। এমন নক্ষত্রটি যেন অসময়েই নিষ্প্রভ হয়ে দর্শক-ভক্তদের বঞ্চিত করছেন। শনিবার (৫ অক্টোবর) তার জন্মদিন।

তার পুরো নাম মোজেজা আশরাফ মোনালিসা। ২০০০ সালে মিস ফটোজেনিক খেতাব লাভ করেন তিনি। এরপর ২০০২ এবং ২০০৭ সালে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে কাজ করার সুবাদে তিনি জাতীয় পর্যায়ে সেরা নারী মডেলের পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশের মডেলিংজগতে সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের পর মোনালিসার মধ্যেই নির্মাতারা খুঁজে পান গ্ল্যামারের দ্যুতি। কিন্তু সেই জায়গা থেকে যেন দূরে সরে গিয়েছেন মোনালিসা।

মোনালিসার জন্ম ১৯৮৭ সালের ৫ অক্টোবর ঢাকায়। তার পিতা আশরাফ হোসেন এবং মাতা মমতাজ বেগম। ১৯৯৯ সালে তার পিতা মৃত্যুবরণ করেন। তিন বোনের মধ্যে মোনালিসা সবার ছোট।

মোনালিসার সংস্কৃতি অঙ্গনে পদচারণা শুরু হয় ১০ বছর বয়সে নাচ ও মডেলিং দিয়ে। নৃত্যশিল্পী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় সফরে তুরস্ক যান। মডেলিংয়ে তারিক আনাম খান নির্দেশিত একটি কসমেটিক্স বিজ্ঞাপন দিয়ে তিনি প্রথম সকলের নজর কাড়েন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় শুরু করেন।

একুশ বছর বয়সে তিনি ‘কাগজের ফুল’ নাটকে অভিনয় করেন। পরে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘তৃষ্ণা’ নাটকে অভিনয় করেন। ২০১১ সালে তিনি একপর্বের নাটক ‘বাজি’, ‘একটু ভালোবাসা’, ‘বান্দুলুম ও রোমিওরা’ এবং ধারাবাহিক নাটক ‘অল রাউন্ডার’ ও ‘ভালো থেকো ফুল মিষ্টি বকুল’ নাটকে অভিনয় করেন। ২০১২ সালে ঈদের বিশেষ নাটক ‘চম্পাকলি’ এবং সাগর জাহান পরিচালিত ‘সিকান্দার বক্স’ সিরিজের ছয় পর্বের মিনি ধারাবাহিক ‘সিকান্দার বক্স এখন বিরাট মডেল’-এ মোশাররফ করিমের বিপরীতে অভিনয় করেন মোনালিসা। এছাড়া মাহফুজ আহমেদের সাথে কোমল পানীয়ের বিজ্ঞাপনেও কাজ করেন তিনি।

Advertisements

২০১২ সালের ১৭ জুন আমেরিকা প্রবাসী ফাইয়াজ শরীফ ফাসবির সাথে মোনালিসার বাগদান সম্পন্ন হয়। একই বছর ১২ ডিসেম্বর অর্থাৎ ১২/১২/১২ তারিখে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ে প্রসঙ্গে মোনালিসা বাংলানিউজকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘১২/১২/১২ তারিখটি স্মরণীয় একটি দিন। তাই বিয়ের জন্য এ দিনটি বেছে নিয়েছি আমরা।’

বিয়ের পর ২০১৩ সালে তিনি স্বামীর সাথে নিউইয়র্ক চলে যান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক বাংলা চ্যানেল টাইম টিভির প্রোগ্রাম প্রধান হিসেবে কাজ করেন। এর কয়েক মাস পরেই শোনা যায়, তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকছেন না। বিয়ের দুই বছর না পেরোতেই ২০১৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তারপর বিদেশের মাটিতে টিকে থাকার সংগ্রাম করে চলেন মোনালিসা। টিভি চ্যানেলের চাকরি ছেড়ে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেন।

তিন বছর পর ২০১৬ সালের এপ্রিলে মোনালিসা বছর দুয়েকের জন্য দেশে আসেন। আবার মডেলিং ও অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি আটটি ঈদের বিশেষ নাটকে অভিনয় করেন। তিনি মোশাররফ করিমের বিপরীতে সাগর জাহান পরিচালিত ‘অ্যাভারেজ আসলাম’ ও সাজিন আহমেদ বাবু পরিচালিত ‘ডিড সোলায়মান’, ইরফান সাজ্জাদের বিপরীতে রায়হান জুয়েল পরিচালিত ‘চিরকুট’ নাটকে অভিনয় করেন। এছাড়া ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’, ‘আন্তর্জাতিক মামা’, এবং সজল নূরের বিপরীতে অনন্য ইমন নির্দেশিত ‘রোমান্টিক ফিনিক্স ফ্লাই’ নাটকে তন্বী চরিত্রে এবং নাহিদ বাবু পরিচালিত ‘আমি তুমি ও সে’ নাটকে অভিনয় করেন।

এরপর মোনালিসা আবার ফিরে যান যুক্তরাষ্ট্রে। এখন তিনি নিউইয়র্কেই নিজের জীবন সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিতে ব্যস্ত আছেন।

Advertisements

Check Also

আপ্লুত সুনেরা, জানালেন নিজের স্বর্গের ঠিকানা

সুনেরাহ বিনতে কামাল একদম নিজের জগতে যেখানে মন খুলে প্রাণ যা ইচ্ছে বলা যায়, করা …