যেসব কারণে দুধ ও মধু একসঙ্গে খাবেন

প্রতিদিন একগ্লাস দুধ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারি তা অনেকেই জানেন। দুধ এমন একটি খাবার, যার মাধ্যমে শরীরে প্রায় সব ধরনের উপকারিতা মেলে। দুধে আছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, নিয়াসিন ও রিবোফ্লভিন। এসব উপাদান আমাদের সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন অ্যাসিডিটির সমস্যা, পিরিয়ডের সময় তীব্র যন্ত্রণা, কাজের চাপে মানসিক অস্থিরতা- এসব সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে যদি একগ্লাস দুধ পান করতে পারেন।

এদিকে মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ। আরও থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ ভাগ এনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি।
মধুতে আছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, আয়োডিন, জিংক ও কপার সহ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান যা আমাদের শরীরের ভেতর থেকে সুরক্ষায় কাজ করে।

মধু খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ে এবং শরীরের ভেতরে ও বাইরে যেকোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করা সম্ভব হয়। মধুতে আছে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। যেসব ভাইরাসের আক্রমণে বিভিন্ন অসুখ আমাদের শরীরকে দুর্বল করে দেয়, সেসব ভাইরাস প্রতিরোধে মধু ভীষণ কার্যকর।

দুধ ও মধু দুটিই যেহেতু আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী তাই এ দুটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে তা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। অসুখ দূর করার জন্য দুধ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার প্রচলন অনেকদিন ধরেই। চলুন জেনে নেয়া যাক দুধ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার উপকারিতা-

যদি একগ্লাস গরম দুধের সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন তবে তা আপনার স্নায়ুর ওপর বেশ ভালো প্রভাব ফেলবে। এর ফলে কমবে আপনার মানসিক চাপ। দিনে দুইবার এই মিশ্রণ খেলে অনেক উপকার পাবেন।

একটি নির্বিঘ্ন ঘুম চান? তাহলে আপনাকে করতে হবে ছোট্ট একটি কাজ। সেটি হলো ঘুমের অন্তত এক ঘণ্টা আগে দুধের মধ্যে মধু মিশিয়ে খেয়ে নিতে হবে। এটি আপনার মস্তিষ্কের ওপর ভালো প্রভাব ফেলবে। মস্তিষ্ককে শিথিল করে এই মিশ্রণ ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

খাবারে একটু এদিক-ওদিক হলেই পেটে গ্যাসের কারখানা জমে অনেকের। এরপর নানাভাবে চেষ্টা করেও সেই গ্যাস দূর করা সম্ভব হয় না। পাকস্থলী থেকে গ্যাস বের করে দিতে এবং পেটের ব্যথা কমাতে সহায়তা করে গরম দুধ ও মধুর মিশ্রণ। তাই এরকম সমস্যায় পড়লে আস্থা রাখুন দুধ ও মধুর মিশ্রণে।

বয়সের কোঠা ত্রিশ পার হলেই ভয় থাকে হাড়ের ক্ষয়ের। অনেকের ক্ষেত্রে আরও আগেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হাড়কে শক্তিশালী করতে এবং ক্ষয়রোধে খান দুধ ও মধুর মিশ্রণ।

তারুণ্য কে না ধরে রাখতে চায়! যদি চান চিরসবুজ থাকতে অর্থাৎ বয়সের ছাপ শরীরে না পড়ুক তবে নিয়মিত দুধ ও মধুর মিশ্রণ খান। এটি তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

Check Also

ঋতুবদলে সুস্থ থাকতে যা করবেন

দিনে গরম থাকলেও রাতে হালকা ঠান্ডা, ভোরে অল্প অল্প কুয়াশা কিন্তু জানান দিচ্ছে সময় এখন …