র‌্যাম্প মডেলদের ফিটনেস রহস্য জানেন কি?

ফিট না থাকলে কেউ র‌্যাম্প মডেল হতে পারেন না। ফিট থাকা র‌্যাম্প মডেলদের পেশারই অংশ। তাইতো নিজেদের সেভাবেই প্রস্তুত করতে সচেষ্ট তারা। র‌্যাম্প মডেলদের জিমে যাওয়া ও সুস্বাস্থ্যের জন্য নানা রকম নিয়ম মেনে চলাটা তাদের ক্যারিয়ার বা পেশাগত চাহিদা থেকেই।

‘স্বতঃস্ফূর্ত, প্রাণবন্ত’ স্বভাবের কারণে তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করা যায়। তবে র‌্যাম্প মডেলরা এমনিতেই অনেক প্রাণবন্ত থাকেন। একেকটা পেশার জন্য একেকভাবে প্রস্তুত হতে হয় তাদের। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক র‍্যাম্প মডেলদের ফিটনেস রহস্য-

র‌্যাম্প মডেলদের ডায়েট

ডায়েট চার্ট আসলে একেকজনের একেক রকম হয়, র‌্যাম্পের মডেলদের বেলায়ও তাই। তবে সবাই পরিমিত খাওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকেন। সহজভাবে বলতে হলে, তাহলে বলতে হবে ‘সময়মতো, পরিমিত খাওয়া’। এ দুটি বিষয় যদি মেনে চলা যায়, তবে যে কেউ ভালো থাকতে পারবেন।

একটা জিনিস খেয়াল করলে দেখবেন, মডেলরা যখন মহড়া করেন, তখন সেটা টানা দুই-তিন ঘণ্টা ধরে করেন। এখানে কিন্তু র‌্যাম্প মডেলদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়। মহড়ার সময় কেউ বসেও থাকেন না। সেখান থেকে একজন মডেল যখন র‌্যাম্পে যান, তখন কিন্তু অনেক হাঁটতে হয় তাকে। বাংলাদেশ ফ্যাশন উইকের মতো আয়োজনে ১০০ ফুটের বেশি দীর্ঘ মঞ্চ থাকে। সেখানে একটা মডেল কমপক্ষে ৮০০ থেকে হাজার ফুট হাঁটেন। শুধু শোয়ের সময়। মহড়ার কথা বাদই দিলাম। মহড়া আর শোয়ের দিনগুলোতে অনেক সময় ভারী খাওয়া হয়ে যায় মডেলদের। তবে মহড়া আর শোতে যে পরিশ্রম হয় তাতে প্রচুর ক্যালরি খরচ হয়।

ফ্যাশন শোতে হাই হিল পরতে হয়, এ জন্য র‌্যাম্প মডেলদের ফিট থাকতে হবে। আগে যখন মডেলরা মডেলিং করতো, তখন খুব একটা জিমে যেত না। এখনকার মডেলরা জিমে যান। আগের মডেলদের আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করার সুযোগ তেমন ছিল না। এখনকার মডেলরা অনেক কিছু অনুসরণ করেন। আন্তর্জাতিক মডেলদের সঙ্গে তুলনা করে দেখেন, তারা কতটা ফিট। ফলে জিমে যাওয়া অনেক জরুরি হয়ে গেছে নিজেকে এই পেশায় টিকিয়ে রাখার জন্য। তাই যারা ভালো করছেন বা ভালো করতে চান, তারা সবাই নিয়মিত জিমে যান। জিমে যাওয়াটা এখন শুধু একটা অপশন নয়, এটা জীবনযাপনের অংশই হয়ে গেছে।

জিমে কত সময় থাকবেন, তা নির্দিষ্ট করে বলাটা ভুল হবে। এটা একেকজনের শারীরিক গঠনের ওপর নির্ভর করে। জিমের বিভিন্ন ভাগ থাকে। কার্ডিও অনেকে ৪০ মিনিট ধরে করেন। তারপর স্ট্রেন্থ ট্রেনিংও হয়। এভাবে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট থেকে সোয়া দুই ঘণ্টা সময় দিলেই জিম করা হয়ে যায়।

ঘুম

শরীর ফিট রাখার জন্য ঘুমটা খুবই জরুরি। ওয়ার্ক আউট করলে ঘুম ভালো হয়। আর খাবার কম খেলে শরীর একটু হলেও দুর্বল হয়ে যায়। একজন র‌্যাম্প মডেলের জন্য দিনে আট ঘণ্টা ঘুম খুবই দরকার। এই সময়টুকু প্রতিদিন ঘুমাতে হবে, না হলে শরীর ঠিক থাকবে না।

অনেকেই মনে করেন তারা শুধু শারীরিক পরিশ্রম করেন। তবে প্রচণ্ড শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি মডেলরা মানসিক পরিশ্রমও করে থাকেন। সারা দিন পরিশ্রম করে যদি ঠিকভাবে আট ঘণ্টা না ঘুমান, তাহলে সুস্থ থাকতে পারবেন না। অসুস্থ হতে না চাইলে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার।

সৌন্দর্যচর্চা

র‌্যাম্প মডেলদের জন্য সৌন্দর্যচর্চা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন, ত্বকের কথা। ত্বকের ওপর তারা নিয়মিত মেকআপ করেন। তাই ত্বক সুন্দর রাখার জন্য সচেতন থাকতে হয়। চুল সুন্দর রাখতে হয়, কারণ তাদের নানা রকম হেয়ারস্টাইল করতে হয়।

এর জন্য দুটি বিষয় মেনে চলতে হবে- এক. জিম এবং দুই. খাওয়া-দাওয়া। এই দুটি ঠিকমতো করলে আপনার ত্বক ও চুল আপনা-আপনি ভালো থাকবে। মুখের ত্বক পরিষ্কার রাখার জন্য মাসে একটা ফেসিয়াল করা। চুলের জন্য হেয়ার ট্রিটমেন্ট করতে পারেন।

উঁচু জুতা

ক্যাটওয়াক (র‌্যাম্পে হাঁটা) হিল ছাড়া ঠিকমতো হয় না। তবে এটাও ঠিক হাই হিল জুতা বা স্যান্ডেল পরে হাঁটা স্বাস্থ্যকর নয়। এ জন্য দেখবেন র‌্যাম্প মডেলরা শুধু মঞ্চে ওঠার সময় হাই হিল পরেন। অন্য সময় স্লিপার বা ফ্ল্যাট স্যান্ডেল-জুতা পরেন।

নতুনদের অনেক বেশি পরিশ্রম করে নিজেকে তৈরি করতে হয়। এরপর ধীরে ধীরে পারিশ্রমিক বাড়ে। তো পরিশ্রম করার মনমানসিকতা যদি না থাকে, তাহলে র‌্যাম্প মডেলিংয়ে আসা উচিত নয়। অনেক পরিশ্রম করে একটা জায়গায় গিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জেদ মনের মধ্যে থাকতে হবে। এই জেদ ও পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকলেই র‌্যাম্পে আসা উচিত। দূর থেকে দেখে মডেলিং অনেক আনন্দময় মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে কষ্টকর।

ফ্যাশন মঞ্চ তারকা হওয়ার একটা সিঁড়ি, এ কথা অনেকে বলে থাকেন। এটা দোষের কিছু নয়। এটা বিশ্বের সব দেশেই স্বীকৃত। ভারতের ক্যাটরিনা কাইফ, বিপাশা বসু তো র‌্যাম্প মডেলই ছিলেন। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনও একসময় মডেলিং করতেন। র‌্যাম্প থেকে অনেকে সিনেমায় যাবেন, কেউ নাটকে যাবেন, কেউ বা নাচের সঙ্গে যুক্ত হবেন। এটা কোনো সমস্যা নয়।

মডেলিংয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মাথায় বুদ্ধি থাকা। এরপর আসে শারীরিক সৌন্দর্য। মাথায় বুদ্ধি থাকলে মানুষ যেখানেই যাবে, নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে; এটা হলো প্রথম কথা। আর দ্বিতীয় হলো, নাচগানের সঙ্গে যুক্ত থাকলে র‌্যাম্প মডেলিংয়ে সুবিধা হয়। নাচের যে তাল-লয় থাকে, সে ধারণাটি একজন মডেলের জানা থাকলে ভালো।

Check Also

মা হওয়ার পরও কীভাবে এত আকর্ষণীয় সানিয়া মির্জা?

মা হওয়ার পর বেশিরভাগ মেয়েরাই সাধারণত মুটিয়ে যান। ভারতের টস সেনসেশন সানিয়া মির্জাও তাই হয়েছিলেন। …