আমাদের কষ্টগুলো এক: গুলতেকিনকে বিয়ে প্রসঙ্গে আফতাব আহমদ

১৩ নভেম্বর বরেণ্য লেখক-নির্মাতা হ‌ুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মবার্ষিকী ছিল। চারদিকে যখন প্রিয় লেখকের জন্মোৎসবের আয়োজন চলছে, তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে লেখকের প্রাক্তন স্ত্রী গুলতেকিন খানের বিয়ের খবর!

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে দিনজুড়ে জানা যাচ্ছিল, বর কবি আফতাব আহমদ। ২০০৩ সালে লেখক হ‌ুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর দীর্ঘজীবন নিভৃতে থাকলেও এবার গুলতেকিন সত্যিই গাঁটছড়া বাঁধলেন এই কবির সঙ্গে।

এদিকে খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য গুলতেকিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে জানা যায়, সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। তবে দেশে থাকা সদ্য বিবাহিত আফতাব আহমদের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুমাননির্ভর ‌‘বিয়ের খবর’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কবি আফতাব আহমদ এক কথায় বলেন, ‘আমরা বিয়ে করেছি এটি সত্যি। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে জানানো হয়নি। তবে আপনারা জেনেছেন কিছুদিন পরে।’
পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে গুলতেকিন, আফতাব আহমদ, নূহাশ প্রমুখ

তিনি আরও বলেন, ‘গুলতেকিনের সঙ্গে বিয়ের খবর গোপন কিছু নয়। তবে বিষয়টি একান্ত ব্যক্তিগত। এই খবরটি অনেকের সম্মানের সাথে জড়িত। সাংবাদিকরা সেটুকু মাথায় রাখলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকবো।’

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা কবে হলো—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘গুলতেকিন স্ট্যাটাস দিয়েছিল ২৫ অক্টোবর। লিখেছিল, ‘এবার বাতাস উঠুক, তুফান ছুটুক’। ওটা আমাদের বিয়ের একঘণ্টা পরে দেওয়া স্ট্যাটাস। অনেকেই বোঝেননি বিষয়টি। লাইনটা রবীন্দ্রনাথের এবং এরপরই যে লাইন আসে তা হলো, ‘আমাদের যাত্রা হলো শুরু, তোমায় করি নমস্কার’। আর ৫ নভেম্বর আমি একটি স্ট্যাটাস দিই কীভাবে আমরা এক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সেটি নিয়ে। আর এই সিদ্ধান্ত কিন্তু গত আগস্ট মাসের।’’

কিন্তু সরাসরি বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন এই কাব্যময়তা? জবাবে এই কবি বলেন, ‘এটা একেবারেই আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়। নিজেদের মতো করেই এগিয়েছি। তবে এখন যেহেতু বিষয়টি আপনারা জানতে চাইছেন, তাই বলছি।’

কবে থেকে দুজনার সখ্য, কীভাবে পরিচয়—এমন প্রশ্নের জবাবে আফতাব বলেন, ‘২০১৩ সালের আগে আমি তাকে চিনতামই না। আমরা দুজনেই ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলাম। কিন্তু আমি বেশ আগে পাস করে বেরিয়েছি। গুলতেকিনের লেখাপড়ায় বাধাগ্রস্ততার কারণে আমাদের বিভাগকেন্দ্রিক সাক্ষাৎ হয়নি। এরমধ্যে আমিও নানা কাজে দেশের বাইরে ছিলাম। ২০০৩-০৪ সালে সে যখন নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল তখন সেগুলো আমার কানে এসেছে। কিন্তু সেটা ওই পর্যন্তই। ২০১৩ সালে আমাদের সরাসরি পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘ সময় আমাদের মধ্যে অনেক গল্প ভাগাভাগি হয়। তবে সেসব গল্প পরে কখনও বলবো। এখন নয়।’
একসাথে হওয়ার গল্প কোনও একদিন পাঠকের হাতে আসবে উল্লেখ করে তিনি নিজেই বলেন, ‘আমাদের কষ্টগুলো একইরকম। কোনও একদিন সেসব লিখবো। আমি না লিখলেও গুলতেকিনকে থামানো যাবে না। এটা অনেকটা উপন্যাসের মতো গল্প। আমাদের চারপাশে এত দুঃসময়, আশপাশে সুসংবাদ দেখবেন না। কোথাও প্রেম ভালোবাসা নেই। সে জন্যই বিয়ের খবরটা নিয়ে কথা হচ্ছে।’

দুজনার মধ্যে কাজের যোগাযোগ বিষয়ে বলতে গিয়ে এই কবি বলেন, ‘আমরা ২০১৭ সালে মধুরেণ নামে একটি কবিতার বই করেছি দুজনে মিলে। তাম্রলিপি থেকে প্রকাশিত। সেই সময় আমাদের এই একসাথে কাজ একসাথে ভাবার জায়গাগুলো তৈরি হতে থাকে। গুলতেকিন লেখালেখি নিয়ে যতটা সিরিয়াস, আমি ঠিক ততটাই আলসে। ফলে একরকম জোর করেই আমার কাছ থেকে কাজ বের করেছে সে। তার প্রথম বই আর আমার দ্বিতীয়টি একইসাথে বের হয়।’

লেখক হ‌ুমায়ূনের সাথে বিচ্ছেদের পর নিভৃতে থাকা গুলতেকিন আহমেদের সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নানা কৌতূহল জন্মেছে। কবি আফতাব সেই নারীকে কীভাবে আবিষ্কার করলেন- বলতে গিয়ে জানান, ‘উনি যেমন নির্ভীক তেমনি মানবিক। বিয়ে করেছি বলে বলছি না। তিনি ভীষণ তীক্ষ্ণ এবং কাজের বিষয়ে মনোযোগী একজন মানুষ। যেমনটা আগে বলছিলাম, আমাদের কষ্টগুলো এক। সেখান থেকেই দুজন স্বাধীন মানুষ একত্রিত হয়েছে। আমরা একই শিক্ষকের হাতেগড়া। আমাদের স্বপ্নগুলো একরকম। সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমরা কোনও ইতিহাস বদলে দিতে এক হইনি। তবে আমরা নতুন ইতিহাস হয়তো গড়ব।’
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত হতে দেখা গেছে। গুলতেকিনকে না পেয়ে অনেকেই আফতাব আহমদের সাথে সাক্ষাত করেছেন। কেমন লাগছে সব মিলিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন একটি সময়ে খবরটি প্রকাশিত হলো যখন গুলতেকিন দেশে নেই। ফলে চাপটা আমার ওপর আসছে। আমি ওকে বললাম বিষয়টি। ও (গুলতেকিন) হাসে।’

Check Also

দুই বছরেই মিলবে ইতালির নাগরিকত্ব

সহজ করা হলো ইতালির নাগরিকত্ব পাওয়া। নাগরিকত্ব গ্রহণের জন্য চার বছর অপেক্ষায় থাকার পরিবর্তে সময় …