ট্রেনের চাপায় ফারজানার হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়


খালাতো বোনের বিয়ে খেতে পরিবারের সঙ্গে গিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। ১২ নভেম্বর এসএসসি পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করার শেষ দিন থাকায় তাই পরিবারের সঙ্গে সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে ট্রেনে চড়েছিলেন বাড়ির উদ্দেশ্যে। কিন্তু ফর্ম আর পূরণ করা হল না ফারজানার। মঙ্গলবারের (১২ নভেম্বর) ট্রেন দুর্ঘটনায় চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হল ফারজানাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় যে ১৬ জন নিহত হয়েছেন তার মধ্যে এই ফারজানা একজন।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের শেষ দিন হওয়ায় অনেকটা তড়িঘড়ি করেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শ্রীমঙ্গল থেকে উদয়ন এক্সপ্রেসে চাঁদপুরে ফিরছিলেন ফারজানা। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলস্টেশন অতিক্রম করার সময় তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয় তার মাসহ পরিবারের আরো সাত সদস্য। এ ঘটনায় ফারজানার স্বজন, এলাকাবাসী ও সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ট্রেনের চাপায় ফারজানার হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার বড় ভাই হাসান বেপারির দুটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফারজানার আহত স্বজনদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা বারডেম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে দুপুরে ফারজানার লাশ তার গ্রামের বাড়ি বালিয়ায় আসলে শত শত গ্রামবাসী ও স্কুলের সহপাঠীরা তাকে একনজর দেখতে তার বাড়িতে ভিড় করে। ফারজানা চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউপির কাতার প্রবাসী বিল্লাল হোসেন বেপারীর মেয়ে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে ফারজানা ছিল সবার বড়। বাগাদী গনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা ছিল।

ফারজানার সহপাঠীরা জানায়, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের শেষ দিন ছিল। ফরম পূরণের জন্য সে উদ্‌গ্রীব ছিল। বিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরীক্ষায় ফারজানা সব বিষয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছিল। বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ফারজানার লাশ তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সে মেধাবী ছাত্রী ছিল।

Check Also

দুই বছরেই মিলবে ইতালির নাগরিকত্ব

সহজ করা হলো ইতালির নাগরিকত্ব পাওয়া। নাগরিকত্ব গ্রহণের জন্য চার বছর অপেক্ষায় থাকার পরিবর্তে সময় …