বিয়েবাড়ি পরিণত হলো শোকের বাড়িতে

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কনকসার থেকে মাইক্রোবাসে করে বরযাত্রী যাচ্ছিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের কামরাঙ্গীর চরে। শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর এলাকায় পৌঁছতেই স্বাধীন পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি। এতে প্রাণ গেছে ৯ বরযাত্রীর। নিহতদের মধ্যে বাবা, বোন, ভাগ্নি-ভাতিজিসহ বরের পরিবারের পাঁচজন রয়েছে। এ খবর পৌঁছে গেলে বিয়ে উৎসবের বাড়িগুলো পরিণত হয় শোকের বাড়িতে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে গেলে বাসের ১০ যাত্রী আহত হয়।

নিহতরা হলো লৌহজংয়ের কনকসার গ্রামের বর রুবেলের বাবা আ. রশিদ ব্যাপারী (৭০), বোন লিজা (২৪), লিজার মেয়ে তাবাসসুম (৬), রুবেলের ভাই সোহেলের স্ত্রী রুনা আক্তার (২২), সোহেলের ছেলে তাহসান (৫), রুনার বোন রেনু (১২), বরযাত্রী কেরামত ব্যাপারী (৭১), মফিজুল মোল্লা (৬০) ও মাইক্রোবাসের চালক বিল্লাল (২৮)। এ ঘটনায় আহত ১০ বাসযাত্রীকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বাসচালকের সহকারীর অবস্থা গুরুতর।

শ্রীনগরের হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আব্দুল বাসেদ ও শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, মাওয়াগামী স্বাধীন পরিবহনের বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৮১৯৪) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী মাইক্রোবাসের ওপরে গিয়ে পড়লে দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মাইক্রোবাসের ভেতরে আটকে পড়া হতাহতদের উদ্ধার করে। শ্রীনগর থানার ওসি হেদায়েতুল ইসলাম ভূইয়া জানান, বাস ও মাইক্রোবাসের আহত দুই যাত্রীকে ঢাকায় পাঠানো হলে সেখান একজন মারা যান। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক নিহতদের প্রত্যেককে জেলা প্রশাসন থেকে ১০ হাজার টাকা অনুদান ও আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

তদন্ত কমিটি গঠন

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আসমা শাহিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন শ্রীনগর ইউএনও রহিমা আক্তার, এএসপি হাইওয়ে জিসানুল হক, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মঈদুল ইসলাম ও ষোলঘর ইউপির চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম।

বিকেলে কনকসার গ্রামে রুবেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোনো ধুমধাম নেই। চলছে স্বজনদের আহাজারি। শত শত লোকের ভিড় বাড়িতে। সবার মুখেই শোকের ছায়া। স্বজনরা একে অপরকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছিল। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বর রুবেল ও তাঁর ভাই সোহেল। তাঁদের বাবা নিহত রশিদ ব্যাপারীর ভাতিজি রেহানা বেগম বুক চাপড়ে বলছিলেন, ‘আশার সব শেষ। আমার কাকাকে পেয়ে বাবাকে ভুলে গেছিলাম। কাকার মধ্যেই ছিল বাবা। সব গেলগারে। আমরা অহন কী নিয়া বাঁচুম?’

বরের মাইক্রোবাসে থাকা কনকসার গ্রামের শফিকুল সিকদারের ছেলে নজরুল ইসলাম জানান, তাঁরা দুটি মাইক্রোবাস নিয়ে রুবেলের বিয়ের কাবিন করতে কামরাঙ্গীর চরে যাচ্ছিলেন। রুবেলদের মাইক্রোবাসটি দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসের পেছনে ছিল।

Check Also

করোনায় দেশে সর্বোচ্চ ৪০ মৃত্যুর রেকর্ড

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট মৃতের …