ভাইয়ের বুদ্ধিতে প্রাণে বাঁচলো বোন

ভাইয়ের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতায় কুমিরের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বোনের জীবন। ঘটনাটি ঘটেছে ফিলিপাইনের দক্ষিণে অবস্থিত পালওয়ানে।গত শুক্রবার ১৫ বছর বয়সি হাশিম ও তার ১২ বছর বয়সি বোন হেইনা লিসা জোসে হাবি বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে খাল পার হচ্ছিল।হাশিম পার হলেও বিপত্তি বাধে হাবিকে নিয়ে।হঠাৎ ১৪ ফুট লম্বা একটি কুমির তার পা কামড়ে ধরার চেষ্টা করে।দ্রুত পা সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে হাবি।কিন্তু সাঁকোটির একটি অংশ ভেঙে যায়।কুমির হাবির পা কামড়ে ধরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।

বিষয়টি দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে হাশিম।কিন্তু দ্রুত নিজেকে সামলে নেয় সে। বুঝতে পারে, এখনই কিছু একটা না করলে বোনকে বাঁচানো সম্ভব নয়।তৎক্ষণাত হাশিমের মাথায় বুদ্ধি খেলে যায়।সে খালের কিনারায় থাকা পাথর তুলে নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে একের পর এক কুমিরের মাথায় ছুড়তে থাকে।পাল্টা আক্রমণে কুমিরটি আত্মরক্ষার্থে সরে যায়।এই ঘটনায় আহত হাবিকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।সে এখন সুস্থ আছে।

দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে সে বলেছে, কুমিরটি আমার চেয়েও বড় ছিল।ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম! এর বড় বড় দাঁত ও লম্বা মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম। আতঙ্কে কান্না শুরু করেছিলাম।আমি চিৎকার করলে হাশিম সাহায্য করতে এগিয়ে আসে।সে পাথর ছুড়ে কুমিরকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। আমি তাকে অনেক ভালোবাসি।সে আমার জীবন বাঁচিয়েছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হাশিম বলে, প্রথমে ভেবেছিলাম সে এমনিতেই পড়ে গেছে। কিন্তু পরে কুমিরের মাথা দেখতে পাই।আমার বোন সাঁকোতে তখন বিপজ্জনকভাবে ঝুলে ছিল।

জানা গেছে, জায়গাটিতে প্রায়ই কুমির দেখা যায়।স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা সক্রেটিস ফালতাদো সাঁকো পার হওয়ার ব্যাপারে সেখানকার বাসিন্দাদের বাড়তি সতর্ক হতে বলেছেন।

তিনি বলেন, হাবি খুবই সৌভাগ্যবান যে বেঁচে গেছে।এজন্য তার ভাই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।তার সাহসিকতায় এটি সম্ভব হয়েছে।

Check Also

ডা. সাবরিনার আসল পরিচয়

করোনা পরীক্ষার টেস্ট না করেই রিপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রতারণা নিয়ে দেশে তোলপাড় …