সৌদিফেরত সুমি নতুন সংকটে

সৌদিতে নির্যাতনের শিকার সুমি আক্তার দেশে ফিরে নতুন করে সংকটে পড়েছেন। শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি স্বামী নুরুল ইসলামের হুমকি-ধমকিতে তাঁর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সৌদি আরবে করুণ পরিণতির জন্য স্বামীকে দায়ী করে সুমি আর তাঁর সঙ্গে ঘর করতে চাইছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে নুরুল ইসলামসহ প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে সুমির পরিবার। একই সঙ্গে সরকারের কাছে সুমির কর্মসংস্থান চায় পরিবারটি।

সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সুমি (১৮) পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের বৈরাতি সেনপাড়ার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। গত ১৫ নভেম্বর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁর মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়। সুমি এখন তাঁর বাবার বাড়িতেই আছেন।

গত শুক্রবার সেখানে গিয়ে জানা যায়, বাড়ি ফেরার পর থেকেই সুমি ঘরের মধ্যেই সময় কাটান। কারো সঙ্গে তেমন কথা বলছেন না। এ ছাড়া শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। চোখের কর্নিয়া সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এর মধ্যে নতুন করে স্বামী নুরুল ইসলাম তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সুমি জানান, প্রায় দুই বছর আগে তিনি গাজীপুরে মামার বাড়িতে থেকে সেখানকার এক সোয়েটার কারখানায় কাজ শুরু করেন। মামি শরিফা খাতুন আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকার নুরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। একদিন বাইরে গেলে তাঁকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যান নুরুল ইসলাম। সাত-আট দিন আশুলিয়ার এক বাড়িতে আটকে রেখে অপ্রাপ্তবয়স্ক সুমির জাল জন্ম সনদ তৈরি করে জোর করে তাঁকে বিয়ে করেন। নুরুল মাদকচক্রসহ বিভিন্ন অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার পরও কষ্ট করে তাঁর সংসার শুরু করেন সুমি। কিন্তু স্বামী তাঁর বয়স ২৫ বছর দেখিয়ে পরিচিত দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠিয়ে দেন।

সুমি বলেন, ‘এখনো আমাকে সেই দুর্বিষহ নির্যাতনের দিনগুলো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। স্বাভাবিক হতে পারছি না। আমি আর নুরুলের সঙ্গে সংসার করতে চাই না। সৌদিতে গিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি তিনি আমাকে দালালদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন সংসার করতে রাজি না হওয়ায় আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সরকার আমাকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে সে জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি যেন নতুন করে আমার ভবিষ্যৎ গড়তে পারি সেই সহযোগিতা সরকারের কাছে চাইছি।’

সুমির বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নুরুল ইসলামের অপকর্মের কথা এখন সবাই জেনে যাওয়ায় সে আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার কথা বলে সে আমার কাছে কয়েক দফায় ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে।’ তবে সুমির স্বামী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জোর করে বিয়ে করিনি। সুমিই বিয়ে করার জন্য আমাকে বাধ্য করে। আমি তাকে সৌদি যেতে মানা করি। সে নিজেই সৌদি যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে। আমিই তাকে সৌদি থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন অফিসে দৌড়ঝাঁপ করি।’

এ ব্যাপারে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ হাসান বলেন, ‘সুমির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। কোনো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা আমরা ভাবছি। তিনি জানিয়েছেন স্বামীর কাছে ফিরতে যেতে চান না। তার পরও কেউ যদি বাড়াবাড়ি করে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

Check Also

মারা গেলেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে লাগা আগুনে দগ্ধ ডা. রাজিব

রাজধানীর হাতিরপুলের ভাড়া বাসায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে লাগা আগুনে দগ্ধ চিকিৎসক দম্পতির মধ্যে ডা. রাজিব …