২০ টাকায় ‘মহামূল্যবান’ পেঁয়াজভর্তা, সঙ্গে খিচুড়ি

‘মহামূল্যবান’ পেঁয়াজ আর শুকনা মরিচের গুঁড়া দিয়ে লাল-টকটকে ভর্তা। সেইসঙ্গে কালিজিরা আর আলুভর্তা। এই তিন ধরনের ভর্তার সঙ্গে এক প্লেট খিচুড়ি। দাম মাত্র ২০ টাকা! কয়েকজন রিকশাচালককে খেতে দেখা যায় এই খাবার।

পেঁয়াজের এই চড়া বাজারেও দৃশ্যটি রাজধানীর শহীদ মিনার এলাকার ফুটপাতের নিয়মিত ঘটনা। ক্রেতা অধিকাংশই রিকশাচালক। বিক্রেতার নাম মো. সানোয়ার।

মাত্র দুই টাকা লাভে সানোয়ার প্রতিদিন ২০ টাকায় এক প্লেট খিচুড়ি বিক্রি করেন। এক প্লেট খিচুড়িসহ তিন প্রকার ভর্তা তৈরিতে তিনি খরচ করেন প্রায় ১৮ টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার ক্রেতাদের সঙ্গে গল্প করতে করতে তিনিও খাচ্ছিলেন ওই খিচুড়ি।

খাবার রাখা ভ্যানের ওপর বসে খেতে খেতে গল্পের ছলে সানোয়ার জানাচ্ছিলেন, পেঁয়াজভর্তা দিয়ে খিচুড়ি বেশ মজার হয়। যাঁরা একটু ঝাল পছন্দ করেন, তাঁদের মুখের জন্য বেশ আরামদায়ক। সঙ্গে কালিজিরা আর আলুর ভর্তা। ২০ টাকা প্লেটে সামান্য লাভ হলেও বিক্রি হয় অন্তত দুইশ প্লেট। অনেক প্লেট বিক্রি হওয়ায় পুষিয়ে যায় সানোয়ারের।

খিচুড়ি খেতে খেতে এক ক্রেতা সানোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৮ বছর ধরে এখানে ভর্তা-খিচুড়ি বিক্রি করি। এখন হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বাড়াতে রান্না বন্ধ করে দিলে আমার খারাপ লাগবে। লাভ একটু কম হোক, সমস্যা নেই। প্লেটে দু-টাকা লাভও কিন্তু কম না। আর সব সময় লাভ সমান হয় না। ছয় বছরেরও বেশি প্লেটপ্রতি ২০ টাকা বিক্রি করি।’

এসব খাবার রান্না করেন সানোয়ারের মা। মায়ের দুই ছেলে, একজন আওলাদ হোসেন, আরেকজন সানোয়ার। দু-ছেলেই ফুটপাতের হোটেল মালিক। তাঁদের মায়ের কাছে নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার নাম নেই, আমি আওলাদের মা।’

আওলাদের মা হাসতে হাসতেই বললেন, “আমার ছোট ছেলে সানোয়ারই এখানে একমাত্র পেঁয়াজভর্তা খাওয়ায়। পেঁয়াজের যে দাম। তেমন কেউ রান্না করার সময় দেয়ও (ব্যবহার) না। কিন্তু আমার পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করতে ইচ্ছে করে না। কী যেন একটা নেই নেই মনে হয়।’

ফুটপাতে রাখা লম্বা কাঠের বেঞ্চে খেতে বসে ফারুক হোসেন নামের এক রিকশাচালক বলেন, ‘খাবার ভালো। এক প্লেট খিচুড়ি ২০ টাকা। দুই প্লেট নিলে ৩০ টাকা। রিকশা চালাতে চালাতে ক্ষুধা লাগলেই খেতে চলে আসি। ভাতও খাই। পাশে ভাত বিক্রি করে।’

Check Also

মারা গেলেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে লাগা আগুনে দগ্ধ ডা. রাজিব

রাজধানীর হাতিরপুলের ভাড়া বাসায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার থেকে লাগা আগুনে দগ্ধ চিকিৎসক দম্পতির মধ্যে ডা. রাজিব …