এবার যে কেউ বিয়ের অনুষ্ঠানে আমাকে পাবেন

জনপ্রিয় নায়িকাদের অন্যতম একজন দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী চলচ্চিত্র, নাটক, উপস্থাপনাসহ শোবিজ অঙ্গনে বিশেষ দক্ষতা দেখিয়ে চলেছেন। দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আবার বড় পর্দার অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি। এসব প্রসঙ্গে পূর্ণিমার বলা কথা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

বড় পর্দায় দীর্ঘ বিরতি কেন?

আসলে এর কারণ অনেক। যেমন দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর অভিনয় করলাম। অভিনয় নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম। নিজের জন্য কোনো সময় বের করতে পারছিলাম না। একসময় মনে হলো এবার নিজের দিকে তাকাই। সংসার-স্বামী-সন্তান নিয়ে সময় কাটাই। পাশাপাশি একটা সময় চলচ্চিত্রের মান ও সংখ্যা কমে গেল। এরপর ভাবলাম এখন তো নতুনরা আসছে। তাদের কাজের সুযোগ পাওয়াটা প্রয়োজন। তাদের জায়গা করে দেই। তাছাড়া মানসম্মত কাজেরও অপেক্ষায় ছিলাম। আর বর্তমানে সেটি পেয়েছি বলেই আবার ফিরেছি।

একসঙ্গে দুটি ছবির কাজ করছেন, কিছু বলুন-

হ্যাঁ, দুটি ছবির কাজ করছি। এর একটির শিরোনাম ‘জ্যাম’, অন্যটি ‘গাঙচিল’। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালনা করছেন এই ছবি দুটি। এগুলোর বেশির ভাগ কাজই শেষ হয়ে গেছে। আগামী বছরই দর্শকের সামনে আসছে ছবি দুটি।

ছবিতে আপনার চরিত্র ও অন্যান্য প্রসঙ্গ-

আপাতত জ্যাম-এর চরিত্রটি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। এটিকে চমক হিসেবেই রাখতে চাই। শুধু এটুকু বলব, দর্শক নতুন কিছু পাবেন। প্রয়াত নায়ক মান্না ভাইয়ের স্ত্রী শেলী ভাবী এই ছবিটি প্রযোজনা করছেন। অন্যদিকে, গাঙচিল ছবিতে অভিনয় করছি একজন এনজিও কর্মীর চরিত্রে। যে কিনা একসময় উপকূলীয় এলাকায় চলে যায় দুর্গত মানুষদের সাহায্য করে। সেখানে একটি ঝড় হয়। ক্ষতিগ্রস্ত দের পাশে দাঁড়াই। সেখানে পরিচয় হয় একজন সাংবাদিকের সঙ্গে। সাংবাদিক চরিত্রটি করছেন ফেরদৌস। নানা চমকপ্রদ ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে এই ছবির গল্প গড়ায়। আশা করছি দুটি ছবিই দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করবে। তারা বাণী ও বিনোদন, দুটিই পাবেন।

নাটকেও ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা-

আসলে নিজেকে বড় ভাগ্যবান মনে হয়। কারণ বড় ও ছোট পর্দায় মানে দুটি মাধ্যমে একজন শিল্পীকে দর্শক তেমনভাবে গ্রহণ করে না। অথচ আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি। দুই অঙ্গনেই দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার টিভি নাটক মূলত বিশেষ দিবসেই করা হয়। ঈদের সময়ে একটু বেশি করি। ধারাবাহিক নাটক তো তেমন একটা করা হয় না। শুধু জাহিদ হাসান পরিচালিত ‘লাল নীল বেগুনি’ ধারাবাহিকটি দীর্ঘদিন করেছিলাম, তাও অনেক আগে। ছবির মতো নাটকও বেছে করতে চাই।

চলচ্চিত্রের মন্দাবস্থার জন্য কাকে দায়ী করবেন?

আসলে দর্শক সব সময়ই জীবনঘনিষ্ঠ ছবি দেখতে চান। ছবিতে তারা তাদের পারিপার্শ্বিকতাকে খোঁজেন। আর তা না পেলে হতাশ হন। ভালো ছবির প্রধান উপাদান হলো ভালো গল্প। ভালো গল্প হলে দর্শকরা অবশ্যই সিনেমা হলে যান। দ্বিতীয়ত দর্শকের চাহিদা হলো মানসম্মত অভিনয় ও নির্মাণ। চলচ্চিত্রকে মন্দাবস্থা থেকে উদ্ধারে এসব বিষয়ের প্রতি যত্নবান হতেই হবে।

উপস্থাপনাতেও সফলতা-

ওই যে বললাম, আমি বড় ভাগ্যবান। দর্শকের ভালোবাসাই আমার সফলতার উৎস। আসলে উপস্থাপনায় হঠাৎ করেই আসা। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, বিটিভির আনন্দমেলা উপস্থাপনা ছাড়াও আরও কিছু অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি। আরটিভিতে একটি অনুষ্ঠান বেশ কিছুদিন উপস্থাপনা করে সবার প্রশংসা পেয়েছি। এবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সংস্কৃতি পর্বও উপস্থাপনা করেছি। আবার করপোরেট লেভেলে কখনো কখনো উপস্থাপনা করি। ভালোই লাগে উপস্থাপনা করতে। উপস্থাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন ট্যালেন্ট হান্ট অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেও প্রশংসা পেয়েছি। সবকিছুই সম্ভব হয়েছে দর্শকের ভালোবাসার কারণে। প্রিয় দর্শকদের প্রতি রইল ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা।

বিয়ের অনুষ্ঠানের অতিথি হচ্ছেন, কিছু বলুন-

এবার যে কেউ তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমাকে পেতে পারেন। সঙ্গে থাকবেন তরুণ অভিনেতা তামিম মৃধা। বিয়ের অনুষ্ঠান রাঙিয়ে দিতে ‘উৎসবে আয়োজনে’ শিরোনামে একটি ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবেই তিনটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া। এটির আয়োজন করছে দেশের জনপ্রিয় বেভারেজ ব্র্যান্ড প্রাণ আপ। আমাকে অতিথি হিসেবে পেতে হলে ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে হবে এবং বিজয়ী হতে হবে। এমন তিনজন বিজয়ীর বিয়ের অনুষ্ঠানে আমি অতিথি হয়ে যাব। তিনটি বিয়ের অনুষ্ঠান নিজ হাতে সাজাব।

এই আয়োজনে অংশগ্রহণ সম্পর্কে কী বলবেন?

আসলে উদ্যোগটি আমার কাছে নতুন মনে হয়েছে, তাই আগ্রহী হয়েছি। বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া, সেলফি তোলা পুরোটা বেশ উপভোগ্যই হবে। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে অন্যরকম একটি দারুণ কাজের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে যাচ্ছি এবার। আশা করি এখানেও দর্শক-ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত হতে পারব।

Check Also

‘আমি মৃত্যুশয্যায়’ লেখেই মারা গেলেন নায়িকা

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন বলিউড অভিনেত্রী দিব্যা চৌকসি। ২০১৬ সালে হ্যায় …