ঘর পরিষ্কার রাখার সহজ কিছু উপায়

যেকোনো রকম অসুখ থেকে দূরে থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। কিন্তু ধুলোবালি এমন এক বস্তু যা খুব সহজেই ঘরে জায়গা করে নেয় আর রীতিমতো ঘর নোংরা হতে থাকে। সেইসঙ্গে নানারকম জীবাণুর বিস্তার ঘটতে থাকে। আর সেসব পরিষ্কার করাটা বেশ ঝামেলার ব্যাপার। তবে কিছু কৌশল জানা থাকলে ঘর সহজেই পরিষ্কার রাখতে পারবেন। জেনে নিন-

  • আমাদের ঘরের জানালাগুলোতে কিন্তু খুব সহজেই ধুলো ময়লা জমে যায়। এসব জায়গা পরিষ্কার করার সময় হোয়াইট ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। পরিষ্কার কাপড়ে সামান্য ভিনেগার নিয়ে ভালো করে জানালার কাচ মুছে ফেলুন। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার সাধারণত খয়েরি রঙের দেখতে হয়, তাই ব্যবহার করলে দাগ হয়ে যেতে পারে। সেজন্য হোয়াইট ভিনেগার ব্যবহার করাই ভালো। জানালার কাচ পরিষ্কার করার সময় ভিতরের অংশ আড়াআড়ি পরিষ্কার করুন। বাইরের অংশ লম্বালম্বিভাবে পরিষ্কার করুন। এতে জানালার কাচে মোছার দাগ থাকলেও বোঝা যাবে না।
  • দরজা বা জানালার পর্দায় ধুলো জমে থাকলে তা থেকে সহজেই রোগ জীবাণু ছড়ায়। ডাস্টার বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে প্রথমে ধুলো ঝেড়ে ফেলুন। পর্দা ভারি হলে ড্রাই ওয়াশে দিতে পারেন।
  • ঘর সাজনোর নানা সরঞ্জামের একটি হলো কৃত্রিম ফুল। দেখতে তাজা ফুলের মতোই এই দৃষ্টি নন্দন বস্তুটিতেও জমতে পারে রাজ্যের ধুলোবালি। তাই সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। আর এসব পরিষ্কারের নিয়ম হলো, শ্যাম্পু বা ডিটারজেন্ট পানিতে মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে এসব ফুল বা ফুলের গাছ ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।
  • রান্না ঘরের সিঙ্কের নিচে, বাথরুমের কোণের মতো জায়গা সব সময় ভেজা থাকে বলে নোংরা হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। এসব জায়গায় আলাদা আলাদা ডাস্টবিন রাখুন। ময়লা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়বে না।
  • মেঝে পরিষ্কার করার জন্য এক লিটার পানিতে এক কাপের অর্ধেক পরিমাণ হাইসহোল্ড অ্যামোনিয়া মিশিয়ে ব্যভহার করতে পারেন। মেঝে পরিষ্কার রাখার আরেকটি সহজ উপায় হলো- পানিতে দুই চা-চামচ লবণ মিশিয়ে ওই লবণ পানি রোজ ঘর মোছার জন্য ব্যবহার করুন।
  • টাইলসের ফাঁকে ধুলো-ময়লা জমে কালো দাগ পড়ে যায়। এক্ষেত্রে, লিক্যুইড সোপ পানিতে দিয়ে সেটি দিয়ে ব্রাশে করে হালকা হালকা করে ঘষে নিন। কালো দাগ মুছে গিয়ে নতুনের মতো দেখাবে।
  • আসবাবপত্রে ধুলোবালি জমলে অনেকে তা ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করেন, যা মোটেই ঠিক নয়। কারণ ভেজা কাপড় দিয়ে আসবাবপত্র পরিষ্কার করতে গেলে সেগুলোর রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এমন কিছু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে যাতে রঙের কোনো ক্ষতি না হয়।
  • খাবার ঘর পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। এক্ষেত্রে দুটি মাঝারি আকৃতির লেবু নিন। এর থেকে রস বের করে এক চা চামচ জলপাইয়ের তেল বা সবজির তেল মেশান। এর পর টেবিলের ওপর স্প্রে করুন। এটি খাওয়ার টেবিলকে জীবাণুমুক্ত রাখবে।
  • শোবার ঘরের আসবাব ভিনেগার দিয়ে পরিষ্কার করলে ভালো হয়। এ ছাড়া বালিশের কভার, বিছানার চাদর ইত্যাদি ধোয়ার সময় পানির মধ্যে ভিনেগার ও সামান্য পরিমাণ লেবুর রস মেশাতে পারেন।
  • বসার ঘরের সোফার কভার জীবাণুমুক্ত করতে এর ওপর বেকিং সোডা ছিটাতে পারেন। ৩০ মিনিট রাখার পর সোফার স্যাঁতসেঁতে কভারটি ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডার মধ্যে রয়েছে জীবাণু দূর করার শক্তিশালী উপাদান।

ঘর সুরভিত রাখতে:

  • প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য ঘরের সব দরজা জানালা খুলে দিন। এর ফলে রোদ, বাতাসে ঘরের জীবাণু দূর হয়ে ঘরে একটা সতেজভাব ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে। প্রতি সপ্তাহে বিছানার চাদর, বালিশের কভার, তোয়ালে বদলে ফেলুন।
  • লেবু পাতা এবং কমলা লেবুর শুকনা খোসা রুম ফ্রেশনার হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। চন্দন গুঁড়ার সঙ্গে অল্প শুকনো নিমপাতা মিশিয়ে আলমারির এক কোণায় রেখে দিন। সুগন্ধ তো ছড়াবেই, সেই সঙ্গে পোকামাকড়ও দূরে থাকবে।
  • রান্নাঘরে যদি গন্ধ বের হয় তাহলে দারুচিনি, এলাচি ও তেজপাতা পানিতে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটে গেলে আঁচ কমিয়ে কিছুক্ষণ চুলাতেই রাখুন। এতে করে সারা ঘরে সুন্দর একটা গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে।

Check Also

সবজি কাটার সময় এই নিয়মগুলো মানেন তো?

নানারকম অসুখ থেকে দূরে থাকতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় প্রোটিনের পাশাপাশি ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেলসমৃদ্ধ খাবারও …