বাবা হতে চান? পরবেন না এ ধরনের অন্তর্বাস

নিঃসন্তান দম্পতিকে ছুটে বেড়াতে দেখা যায় চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে। অনেকেই আশ্রয় নেন ঘরোয়া টোটকার, কেউ বা সময়ের হাতে সব কিছু সঁপে দিয়ে বসে থাকেন। এর বিপরীত ধারাও দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে। সন্তান না হওয়ার জন্য নারীকে একচেটিয়াভাবে দায়ী করার প্রবণতাও রয়েছে এখনো। তবে এবার বন্ধ্যত্বের কারণ হিসেবে উঠে এলো অন্তর্বাস।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজের প্রতিবেদনে জানা যায়, শুক্রাণুর সংখ্যার হেরফের পরিবার পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পরিসংখ্যানের তথ্য বেশ চমকপ্রদ। সেখানে বলা হচ্ছে, ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বন্ধ্যত্বের জন্য দায়ী পুরুষই। আর ধূমপান, মদ্যপান, ব্যায়াম—এ সবকিছুই শুক্রাণুর সংখ্যার ওপর প্রভাব ফেলে ভীষণভাবে। এ সবই প্রচলিত তথ্য। তবে নতুন এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, অন্তর্বাসও প্রভাব ফেলে শুক্রাণুর ওপর।

সম্প্রতি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির হিউম্যান রিপ্রোডাকশন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আঁটসাঁট অন্তর্বাস পরলে কমে যায় শুক্রাণুর সংখ্যা। তবে যাঁরা অপেক্ষাকৃত ঢিলেঢালা, আরামদায়ক আন্ডারওয়্যার পরেন, তাঁদের শুক্রাণুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।

ব্রিটিশ গবেষক লিডিয়া মিনগুয়েজ-অ্যালারসিয়ন জানান, শুক্রাণু উৎপাদনের ওপর অন্তর্বাসের কোনো প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরেই নানা গবেষণা চলছে। তিনি জানান, সম্প্রতি এমনই একটি সমীক্ষার জন্য ৬৫৬ জন পুরুষকে বেছে নিয়েছিলেন, যাঁরা বন্ধ্যত্বের উপযুক্ত চিকিৎসা খুঁজছিলেন। সমীক্ষার জন্য ১৮ থেকে ৫৬ বছর বয়সী এই পুরুষদের রক্ত ও শুক্রাণুর নমুনা নেওয়া হয় এবং তাঁদের আন্ডারওয়্যারের ব্যাপারে কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়।

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৪৫ জন পুরুষ জানান, তাঁরা সাধারণত আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা ‘বক্সার’ জাতীয় অন্তর্বাস পরেন। এই ৩৪৫ জন পুরুষ ছিলেন কমবয়সী এবং ছিপছিপে গড়নের। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৪৫ জনের শুক্রাণুর সংখ্যা অন্যদের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি ছিল, শুক্রাণু তৈরির সংখ্যা ছিল ২৫ শতাংশেরও বেশি, মোটাইল বা সক্রিয় শুক্রাণু ছিল ৩৩ শতাংশের বেশি।

অন্যদিকে, আঁটসাঁট অন্তর্বাস পরার অভ্যাস রয়েছে যাঁদের, তাঁদের শুক্রাণুর সংখ্যা অনেকটাই কম। এ বিষয়ে অধ্যাপক লিডিয়ার জানান, গরম বা উষ্ণতা পুরুষের শুক্রাণু তৈরির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে, কুপ্রভাব ফেলে শুক্রাণুর সংখ্যার ওপর।

তবে এ গবেষণা নিয়ে কিছুটা বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অনেক গবেষকের মতে, এ গবেষণায় শুধু আন্ডারওয়্যারের ধরন দেখা হয়েছে। এই আন্ডারওয়্যার তৈরিতে ব্যবহৃত কাপড় বা এর ওপর পরা প্যান্টের ধরন নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা পরীক্ষা করা হয়নি, যা এই গবেষণার সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

গবেষণার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি অবশ্য স্বীকার নিয়েছেন অধ্যাপক লিডিয়া মিনগুয়েজ-অ্যালারসিয়ন। এ সম্পর্কে তিনি জানান, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এই গবেষণাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ বিষয়ে এত বেশি মানুষের ওপর গবেষণা এর আগে কখনো হয়নি। তাই বাবা হতে ইচ্ছুক পুরুষদের তিনি ঢিলেঢালা আন্ডারওয়্যার পরা বা গরম পানিতে গোসল করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, উত্তাপ বেশি হলে শুক্রাণুর উৎপাদন কমে যেতে পারে।

Check Also

যৌন জীবনের যেসব ভুলে হতে পারে ক্যান্সার

ক্যান্সারের সঙ্গে যৌন জীবনও জড়িয়ে। না, অসুখ হওয়ার পরবর্তী সময়ে নয় বরং অসুখ ডেকে আনতেও …