Advertisements

করোনার প্রভাব ই-কমার্স ব্যবসায় এখন কি হবে?

image-117663 করোনার প্রভাব ই-কমার্স ব্যবসায় এখন কি হবে?

চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ই-কমার্স খাতের গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। এমনই প্রেক্ষাপটে খোদ ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছে। সামগ্রিক ক্ষতির পাশাপাশি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। বিবার্তার কাছে এমটাই জানিয়েছেন তামান্না তাছলিমা রুমকি নামের এক ই-কমার্স ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, আমরা যারা অনলাইন ব্যবহার করে ক্ষুদ্র ব্যবসা করি তাদের জন্য বিভিন্ন উৎসব ও ঈদ একটা আশীর্বাদ। বিশেষ করে আমরা যারা দেশীয় পোশাক নিয়ে কাজ করি তারা পহেলা বৈশাখ ও ঈদেই সবোর্চ্চ ব্যবসা নিশ্চিত করি। এককথায় বলতে গেলে সাড়া বছরের ব্যবসা এই দুই সিজনে হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আমি ফেব্রিক, মেটেরিয়াল কিনে ফেলি। এবার ও সেটাই হয়েছে। আমি যেহেতু নিজে ডিজাইন করি, এরপর স্যাম্পল রেডি করি, তারপর অর্ডার নেই। এজন্য সময় লেগে যায় বলে কোনো উৎসবকে সামনে রেখে অনেক আগে থেকেই আমার কাজ শুরু করি। এজন্য রিলেটেড মেটারিয়াল, ফেব্রিক স্টোর করে ফেলতে হয়। পুরোদমে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য করোনাভাইরাসের কারণে সব পাল্টে গেলো। কিছু কাজ শেষ হয়েছে ডেলিভারি দিতে পারিনি। আবার কিছু কাজ শেষ না করে কাজ বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

অতীতের অভিজ্ঞতার করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত চার বছর ধরে পৃথিবীর কয়েকটি দেশে প্রবাসী বাঙালিদের কাছে আমার তৈরি পোশাক যায়। উৎসবগুলোতে তাদের খুব ভালো অর্ডার থাকে। যেহেতু ১৫ থেকে ২০ দিন হাতে রেখেই আমি তাদের প্রোডাক্ট পাঠিয়ে দেই। এবারো সে হিসাবে আমি কাজ শুরু করেছিলাম এবং কাজ শেষও করেছি। কিন্তু কুরিয়ার বন্ধ, এয়ারলাইন্স বন্ধ, সর্বোপরি যে দেশগুলোতে যাবে করোনার কারণে সব লকডাউন। সব কিছু আটকে গেলো।

Advertisements

তিনি বলেন, এই কথাগুলো শুধু আমার একার নয়, অসংখ্য মানুষের যারা ই-কমার্স ভিত্তিক দেশীয় পোশাক, ফ্যাশন ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে কাজ করেন। সবাই এমন পরিস্থিতির শিকার।

তিনি বলেন, এই সময় সবচেয়ে বড় গেম চেঞ্জার হলেন আমাদের মতো অনলাইন উদ্যোক্তারা বা ব্যবসায়ীরা। একটা বিশাল সংখ্যক মানুষ অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে নিজেকে ফিনান্সিয়ালি ইন্ডিপেন্ডেন্ট করেছেন। অনলাইন ব্যবসায়ীরা তো পুরো ব্যবসাটাই হারিয়েছে। আমাদের তো সাপ্লাই চেইন, ডেলিভারি পুরোটা বন্ধ এই প্যানডিমিকের কারণে। এর মধ্যে নারী ব্যবসায়ীর সংখ্যা অনেক বেশি। আমি উমেন্স ই-কমার্স এর সাথে যুক্ত আছি। আমি দেখেছি মেয়েরা কতটা কষ্ট করে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কতটা কষ্ট করে দাঁড়িয়েছেন নিজের পায়ের উপর। সমাজে একটা অবস্থান তৈরি করেছেন। সন্তান লালন পালন করছেন। কিন্তু এখন কি হবে তাদের? কিভাবে টিকিয়ে রাখবেন তাদের ব্যবসা? কেউ কি চিন্তা করছেন কিভাবে মোকাবেলা করবে তারা এই দুর্যোগ।

শুধু মাত্র মৌসুম ধরার জন্য অনেকেই ঋণ দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকে লোন নিয়েছেন, ইনভেস্টমেন্ট বাড়িয়েছেন এই সিজনের জন্য। তাদের অবস্থা খুব খারাপ। আসল, একস্ট্রা সব টাকাই আটকে গেছে। আমরা কেউ জানি না এই পরিস্থিতি থেকে কবে বের হতে পারবো। ধরে নিচ্ছি আগামী চার পাঁচ মাস লেগে যেতে পারে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে উঠতে। আমাদের মত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুরো বছর ও লেগে যেতে পারে।

এত কিছুর পরও আশাবাদী ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, জানি একসময় সব ঠিক হয়ে যাবে। হয়তোবা আমরা সবাই নতুন করে সব গুছিয়ে নেবার চেষ্টা করবো। কিন্তু ততদিনে কি পরিমাণ ক্ষতি হবে। কত মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে চিন্তা সেখানেই। তারপর ও স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

Advertisements

Check Also

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

মার্চে খুলতে পারে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্চ মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের …