Advertisements

করোনায় মারা যাওয়া যুবকের আবেগঘন শেষ বার্তা

death_status করোনায় মারা যাওয়া যুবকের আবেগঘন শেষ বার্তা

করোনাভাইরাসের প্রভাবে কাপছে পুরো বিশ্ব। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বর্তমানে বিশ্বে করোনায় মৃত্যুবরণ করা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজার ৯৯৫ জন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে মোট ২৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৬ জন মানুষ। প্রাণহানির অর্ধেক অর্ধেক কমলেও, কমেনি নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা।

এখন সবচেয়ে বেশি বিধ্বস্ত আমেরিকা মহাদেশ। গত দু’মাসে এই আমেরিকাতেই মারা গেছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। আমেরিকার কয়েকটি শহর যেন মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে। ৩২ বছরের জন কোয়েলহো সম্প্রতি মারা গেছেন করোনা সংক্রমণে। নিউ ইয়র্কের হাসপাতালে মারা যাওয়ার আগে নিজের স্ত্রী ও সন্তানের জন্য লিখেছিলেন শেষ চিঠি, যা সম্প্রতি সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। সেটি পড়েই চোখের জল বাঁধ মানছে না নেটিজেনদের। আবেগঘন মনে সকলে কুর্নিশ জানাচ্ছেন যুবককে।

সেই শেষ চিঠিতে জন লিখেছেন, তিনি গর্বিত একজন স্বামী হিসেবে। তিনি গর্বিত তাঁর সন্তানদের পিতা হিসেবে। তাঁর স্ত্রী তাঁর দেখা দুনিয়ায় সবথেকে সুন্দর মানুষ আর সবথেকে সুন্দর মা। আগামী জীবনে তাঁরা সকলেই প্রাণ খুলে নিজেদের খুশিমতো বাঁচুক, এটাই তাঁর শেষ চাওয়া।

কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হওয়া জন কোয়েলহোকে গত মাসে স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রথমে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু জনের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল কিছু। করোনা সংক্রমণের ফলে সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাঁর জীবনে। পরে নিউ ইয়র্কের বড় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। কম বয়সেই হারিয়ে যায় একটি প্রাণ।

Advertisements

জনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী কেটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্বামীর দেহ নিতে, জিনিসপত্র ফিরিয়ে আনতে। তখনই হাতে আসে জনের ফোনটি । সেখানেই তিনি খুঁজে পান শেষ বার্তাটি।

অনেক ছোট বয়স থেকে প্রেম শুরু হয়েছিল জন আর কেটির। পরে সেই প্রেম থেকে গাঁটছড়া বাঁধা। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা এসেছে জীবনে,তবুও সম্পর্কে তার প্রভাব পড়েনি। কেটির গর্ভধারণের সমস্যা থাকায় আইভিএফ-এর মাধ্যমে ছোট দু’টি সন্তানও হয় তাঁদের, আড়াই বছরের ব্র্যাডিন এবং ১০ মাসের পেনেলোপ।

কেটি জানান, করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সমস্ত রকম সাবধানতা নিয়েছিলেন তাঁরা। জনকে কাজের সূত্রে বাইরে যেতেই হতো, কিন্তু জন সব সময় মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করতেন। মার্চের শেষদিকে কর্মসূত্রেই জন একজন করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসেন জন। তার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। খুব ক্লান্তি আসে তাঁর, শুরু হয় মাথার যন্ত্রণা। ধরা পড়ে করোনা।

সঙ্গে সঙ্গে আইসোলেশনে পাঠিয়ে চিকিৎসা শুরু হয় তাঁর। শুরুর দিকে বেশ খানিকটা সাড়া দিলেও পরে অবস্থা খারাপ হয়ে ওঠে। শুরু হয় চূড়ান্ত শ্বাসকষ্ট। আনা হয় নিউ ইয়র্কে, ব্যবস্থা করা হয়েছিল ভেন্টিলেটরেরও। তবু শেষ রক্ষা হল না। চিকিৎসকরা মনে করছেন, হৃদরোগ থাকার কারণেই লড়াইটা জিততে পারলেন না জন।

স্থানীয় আদালতে ছোটখাটো একটি কাজ করতেন জন। বন্ধুমহলে একজন ভাল বাবা ও স্বামী হিসেবে রীতিমতো খ্যাতি ছিল জনের। বুক চিতিয়ে নিজের ভালবাসার কথা সকলকে বলতে ভালোবাসতেন জন। সেই প্রেমের কথাই লিখে গেলেন শেষ বার্তাতেও। সুত্র: দ্যা ওয়াল

Advertisements

Check Also

৬৪ বছর বয়সী বৃদ্ধের ২৭ স্ত্রী, ১৫০ ছেলে-মেয়ে

কানাডার অন্যতম পরিচিত ব্যক্তি উইনস্টোন ব্ল্যাকমোর। ৬৪ বছরের এই ব্যক্তির স্ত্রীর সংখ্যা ২৭। তার ছেলে-মেয়ে …