করোনা ভালবাসা! নবদম্পতি!

কাশিফ চৌধুরী ও নাইলা শেরিন। তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। দুজনই চিকিৎসক। দুজনই মুসলিম। একে অন্যকে ভালবাসেন দীর্ঘদিন ধরে। তাদের স্বপ্ন ছিল বেশ ধুমধাম করে বিয়ে করবেন। বিয়ের পর কি কি করবেন এবং হানিমুনে কোথায় যাবেন, তাও ঠিক ছিল।

কিন্তু সেই স্বপ্নে হানা দেয় করোনা ভাইরাস । তারা যখন বুঝে ওঠেন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে, তখন আগের সব পরিকল্পনা বাতিল করেন। সিদ্ধান্ত নেন সাদামাটা ভাবেই তারা বিয়ে করবেন। এবং কিছুদিন আগে তারা নিউ জার্সির একটি মসজিদে গিয়ে তারা বিয়ে করেন।

বিস্ময়কর হল, যে বিয়ের জন্য তাদের এত স্বপ্ন, এত আকুলতা, সেই বিয়ের পর তারা মাত্র ১০ ঘণ্টার মত একত্রে ছিলেন। এরপর তারা দুজনই দুইদিকে চলে যান, মানবতার সেবায় নিবেদিত হয়ে। শেরিন চলে যান নিউ ইয়র্কে এবং কাশিফ যান আইওয়া অঙ্গরাজ্যে। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় তারা আত্মনিয়োগ করেন।

নাইলা শেরিন বলেন, আমাদের স্বপ্ন, আনন্দ- এসব এখন তুচ্ছ বিষয়। ডাক্তার হিসেবেতো বটেই, একজন মানুষ হিসাবেও এখন আমাদের উচিত করোনা রোগীদের চিকিৎসা করা। তিনি আরো বলেন, নিউ ইয়র্কে এখন ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ। ডাক্তাররাও আক্রান্ত হচ্ছেন, মারাও যাচ্ছেন। যদি মরে যাই, গেলাম। তবুও সান্ত্বনা থাকবে, মানুষকে বাঁচাতে গিয়েই জীবন দিয়েছি। আর যদি বেঁচে থাকি তাহলে এমন আনন্দতো আমরা করতেই পারবো।

অন্যদিকে কাশিফ চৌধুরী বলেন, আমরা দুজনে মিলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চিকিৎসা একটি মহৎ পেশা। নিজেকে যদি মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে না পারি তাহলে কিসের চিকিৎসক হলাম? এ মুহূর্তে দুজনের একসাথে থাকার চেয়ে করোনা রোগীদের পাশে থাকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ।

ভালবাসার বিয়ে। স্বপ্নের বিয়ে। অথচ বিয়ের পর ২৪ ঘন্টাও তারা একত্রে কাটালেন না। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ওরা করোনা রোগীদের চিকিৎসার্থে চলে গেলেন দুই অঙ্গরাজ্যে। ওরা নিশ্চিত নন বেঁচে থাকবেন কিনা এবং এ-জীবনে আর দেখা হবে কিনা? মহান স্রষ্টার কাছে করজোড়ে প্রার্থনা, “এই মানবতাবাদী নব-দম্পতিকে তুমি বাঁচিয়ে রেখো এবং মিলন ঘটিয়ে দিও।”

তথ্য-চিত্র: এম আর ফারজানা

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

Check Also

এবার প্ল্যাজমা থেরাপির ব্যবহারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার না

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় রেমডেসিভির ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয়ার পর এবার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে বিকল্প …