‘কোনোদিন জেগে উঠব ভাবিনি’, কোমা থেকে ফিরে বললেন করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসক

তিন সপ্তাহ কোমায় থাকার পর করোনাভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগ থেকে বেঁচে ফেরার ‘অনন্য’ অভিজ্ঞতার কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরলেন এক বেলজিয়ান চিকিৎসক। করোনাকে পরাস্ত করে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছেন অ্যান্টোইন স্যাসিন নামের ওই ইউরোলজিস্ট।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ডেল্টা চিরেক হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন স্যাসিন। করোনাযুদ্ধ থেকে ফিরে এসে ওই হাসপাতালে নিজের কর্মকক্ষে বসে বললেন, ‘আমি নিজের শেষটা দেখতে পাচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম, আমি মারা যাচ্ছি। ভেবেছিলাম, আর কোনোদিন জেগে উঠব না।’

চিকিৎসক অ্যান্টোইন স্যাসিন কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের লড়াই আর তাঁর নিজের মনোবল তাঁকে করোনার বিরুদ্ধে জিতিয়ে দিল। অ্যান্টোইনের করোনাজয়ী কাহিনি এখন সারা বিশ্বের সামনে এক অনুপ্রেরণা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

মাস দুয়েক আগে ৫৮ বছর বয়সী অ্যান্টোইনের করোনা ধরা পড়ে। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা করতে করতেই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে যান তিনি নিজেও। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ছয় সপ্তাহ তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে ছিলেন। এর মধ্যে তিন সপ্তাহের বেশি সময় কেটেছে তাঁর কোমায়। অবশেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকেই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে।

ইউরোলজিস্ট স্যাসিন জানান, কোমায় চলে যাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত ভাইরাসের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই করার ইচ্ছার বিষয়ে সচেতন ছিলেন। আর তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি তাঁর পরলোকগত বাবাকে দেখতে পাচ্ছেন। আইসিইউ থেকে গত মঙ্গলবার ছাড়া পাওয়ার পর নিজের এমন ‘অনন্য’ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে স্যাসিন বলেন, ‘চার বছর আগে মারা যাওয়া বাবাকে দেখতে পাচ্ছিলাম। বাবার সঙ্গে কথাও বলেছি।’

তিন সপ্তাহ পর কোমা থেকে ফিরে কেমন লাগছে, তাও জানিয়েছেন স্যাসিন। তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তটি ছিল, যখন আমি (কোমা থেকে) জেগে উঠে আমার বন্ধুদের মুখ দেখলাম। ওই মুহূর্তটি বর্ণনাতীত।’

ডা. স্যাসিন এখন নিজ পরিবারের সদস্যদের আলিঙ্গন করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। কারণ করোনার পরীক্ষায় পজিটিভ আসার পর থেকেই তিনি পরিবারের কাউকেই দেখতে পাননি। আইসিইউ থেকে ফেরার পর এখনো ব্রাসেলসের ডেল্টা চিরেক হাসপাতালের আইসোলেশনেই আছেন তিনি।

বেলজিয়ামে এখন পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৪৯৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। দেশটিতে করোনায় মারা গেছে পাঁচ হাজার ৬৮৩ জন।

করোনাভাইরাস চিকিৎসায় বিশ্বজুড়েই বড় ঝুঁকির মুখে চিকিৎসকরা। কারণ, অনেকটা সময় রোগীর আশপাশে থাকায় তাঁদের সহজেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু চিকিৎসক করোনা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেরাও এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, অনেকই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হেরে গেছেন।

অ্যান্টনি ব্যতিক্রম। তবে কোভিড-১৯ থেকে বেঁচে ফেরার এই অভিজ্ঞতা তিনি নিজেই অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্বজুড়ে চলছে এক চরম বিপর্যয়। ২৪ লাখ মানুষ সংক্রমিত মরণ করোনাভাইরাসে, মৃত্যুমিছিল পেরিয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার। একের পর এক শহর অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন করা হচ্ছে, স্তব্ধ হয়ে গেছে সাধারণ জীবনের স্বাভাবিক চলাচল। এ সবকিছুর মধ্যেও কিন্তু আশার আলো জ্বলছে একটিমাত্র জায়গায়। সোয়া ছয় লাখের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছেন। মৃত্যুসংখ্যার প্রায় চার গুণ বেশি নবজীবন প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। এই সংখ্যাটা যেন বলছে, যুদ্ধে আমরা কিছুতেই হার মানব না!

এই আশার আলোতেই সম্প্রতি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে বেলজিয়ামের চিকিৎসক অ্যান্টনি স্যাসিনের কাহিনি।

Check Also

গরমকালের বউ, মাত্র ২০ দিনের জন্য

মুসলিম পুরুষদের শর্ত সাপেক্ষে চার স্ত্রী গ্রহণের বিধান রয়েছে ইসলাম ধর্মে। তাই বলে কেবল গ্রীষ্মকালের …