কোয়ারেন্টাইন দিয়েছে সম্পর্ক গাঢ় করার সুযোগ

প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনযাপনে যানজটের এই শহরে দৌঁড়ঝাপ আর ক্লান্ততা নিয়ে বাসায় ফেরার পর আমরা হয়তো আমাদের জীবনসঙ্গীকে এমন কোনও বিষয় নিয়ে কথা শোনাই, যা নিয়ে পরে আমাদের আফসোস হয়। আবার ধীরে ধীরে এরকম হতে থাকলে এমন কিছু আচরণ রয়েছে যার ফলে সম্পর্কে ঘুনে ধরার পাশাপাশি বিবাহবিচ্ছেদও ঘটতে পারে। কিন্তু এমন হোক এটা আপনি আমি বা কেউই চাই না। বর্তমানে সারা বিশ্বে করোনা আতঙ্কে প্রায় সবাই রয়েছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। অনির্দিষ্টকালের এই ছুটি কীভাবে কাটাচ্ছেন আপনি? অনেকে তো বাড়িতে থেকেও করছেন অফিস। যাকে বলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম। গৃহবন্দী থেকে আবার অনেকেই হাঁপিয়ে উঠেছেন!

তবে জানেন কি? এটিই কিন্তু উপযুক্ত সময় পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কটা আরো গাঢ় করার। কাজের চাপে পরিবারের একে অন্যের সঙ্গে যে দূরত্বটা হয়েছিল এই হোম কোয়ারেন্টাইনের সময় তা আবারো রং ফিরে পেতে পারে। সব অভিমান মুছে আরও সজীব হয়ে উঠতে পারে সম্পর্কগুলো। ভাবছেন কীভাবে?

জেনে নিন এসময় সম্পর্ক গাঢ় করার কয়েকটি উপায়–

পরিবারের সবার জন্য রান্না করতে পারেন। সন্ধ্যার নাস্তায় বা রাতের খাবারে নতুন নতুন রেসিপি তৈরি করতে পারেন। এতে আপনারও সময় কাটবে। সেইসঙ্গে সবার প্রসংশাও পাবেন।

সবাই মিলে আড্ডা দিতে পারেন। আবার ঘরোয়া গানের আসর বা কোনও খেলা খেলতে পারেন সবাই। এতে করে সুন্দর সময় কাটবে। সেইসঙ্গে মানসিক প্রশান্তিও আসবে।

আপনি গৃহবন্দীর এসময়টাতে বাগান করতে পারেন। অনেকে আছেন শখ থাকলেও সময়ের অভাবে বাগান করতে পারেন না। তাদের জন্য এটিই উপযুক্ত সময়।

এই অবসর সময় আপনি কাজে লাগাতে পারেন ছবি আঁকতে।

আবার সেলাই বা ঘর গোছানোতে কাজে লাগাতে পারেন হোম কয়ারেন্টাইনের এই সময়টুকু।

সন্তানকে সময় দিন। তাদের পড়াশোনার প্রতি খেয়াল রাখতে পারেন। তাদের হোমওয়ার্কে সাহায্য করতে পারেন।

সন্তানের সঙ্গে গল্প বা স্মৃতিচারণেও কাটবে আপনার গৃহবন্দীর এই সুন্দর সময়। এভাবে তাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আরো মধুর হয়ে উঠবে।

না পড়া বইগুলো পড়ার উপযুক্ত সময় এটি। কোন কোন বইগুলো অনেকদিন থেকেই পড়তে চাচ্ছেন। তবে সময়ের অভাবে হয়ে উঠছে না। তার তালিকা করে ফেলুন। এবার একটা করে শেষ করে ফেলুন।

হোম কোয়ারেন্টাইনে সঙ্গী কোনও বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাকে এড়িয়ে যাবেন না। সঙ্গীর সাথে কোনো ব্যাপার নিয়ে মজা বা ঠাট্টা করার সময় খেয়াল রাখবেন, তা যেন অতিরিক্ত না হয়ে যায়। তাকে আঘাত করে কোনো ঠাট্টা তামাশা করবেন না। সঙ্গী ভুল করলে তা ধরিয়ে দিয়ে শুধরে দেয়ার দায়িত্ব আপনার। হোম কোয়ারেন্টাইন আর লকডাউনের সময়টাকে আতঙ্কে না কাটিয়ে সচেতনতার সঙ্গে একটু আনন্দে কাটানোর চেষ্টা করুন।

Check Also

সাত স্বভাবের নারী জীবন সঙ্গী হিসেবে উত্তম

প্রত্যেক নারী-পুরুষই তার বিবাহিত জীবনে সুখী হতে চায়। এক্ষেত্রে পছন্দেরও থাকে ভিন্নতা। বিয়ের আগে অনেক …