Advertisements

ক্ষমা চেয়ে ভুল মাস্ক সরবরাহের দায়মুক্তি চায় জেএমআই

image-117816 ক্ষমা চেয়ে ভুল মাস্ক সরবরাহের দায়মুক্তি চায় জেএমআই

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ২০ হাজার ৬০০ পিস মাস্ক এন-৯৫ হিসেবে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) সরবরাহ করেছিল জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড। যদিও আদতে এর কোনোটিই এন-৯৫-এর সমতুল্য নয় বলে স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অনিচ্ছাকৃত ভুল দাবি করে মাস্কগুলো ফেরত নিয়ে এ দায় থেকে মুক্তি চাইছে জেএমআই। যদিও এরই মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে পড়েছেন কমপক্ষে ১৭০ জন চিকিৎসক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুটি চালানের মাধ্যমে জেএমআই সিএমএসডিতে ২০ হাজার ৬০০ পিস মাস্ক সরবরাহ করেছিল। চালানে মাস্কগুলোকে এন-৯৫ ফেস মাস্ক (অ্যাডাল্ট) হিসেবে উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিদর্শনে উঠে আসে, যে মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে বাস্তবে তা এন-৯৫ মাস্ক নয়। কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের ভাণ্ডার ও রক্ষণের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ সম্প্রতি এ নিয়ে জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন।

সে চিঠির জবাবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে সংকটময় সময়ে মাস্কের সংকট দেখা দিয়েছে। জেএমআই হসপিটাল স্বপ্রণোদিত হয়ে মাস্ক তৈরির চেষ্টা করছে, যা এখনো প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে আছে। যে সময় মাস্কগুলো সরবরাহ করা হয়, তখনো দেশে এন-৯৫-এর স্পেসিফিকেশন সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন ছিল না। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে বেশকিছু পণ্য সরবরাহ করে। সরবরাহকৃত পণ্যের সঙ্গে ভুলক্রমে প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে তৈরিকৃত ২০ হাজার ৬০০ পিস এন-৯৫ মাস্ক অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা এন-৯৫-এর স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে ‘কমপ্লাই’ করে না।

Advertisements

চিঠিতে আরো বলা হয়, পণ্য উন্নয়নকালে এসব মাস্কে কোনো প্রস্তুতকারক, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মুদ্রিত হয়নি। পণ্যটি এখন পর্যন্ত স্থানীয় বাজারেও বিপণন করা হয়নি।

জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের এমডি আব্দুর রাজ্জাক চিঠিতে উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও উপরোক্ত ব্যাখ্যা সদয় বিবেচনাপূর্বক সরবরাহকৃত মাস্ক ফেরত দিয়ে আমাদের অনিচ্ছাকৃত সম্পাদিত ভুলের দায় হতে মুক্তি দানে বাধিত করবেন।

দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা শুরু থেকেই পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই চিকিৎসকদের সেবা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন। মানসম্পন্ন পিপিই ও মাস্কের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীরা। বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ) নামক ডাক্তারদের একটি সংগঠনের হিসাব বলছে, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে কমপক্ষে ১৭০ জন চিকিৎসক নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের একজন চিকিৎসক ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাও গিয়েছেন। নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগ করা হলে এ সংখ্যা আরো বেশি হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথেষ্ট সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেয়ার কারণে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিতের হার বাড়ছে। মূলত যারা চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন, তারা তাদের রোগ গোপন করছেন। আবার অনেক চিকিৎসক কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের শিকার। চিকিৎসকদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ অন্যদেরও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কারণ সেক্ষেত্রে চিকিৎসা নিতে এসে তাদের সংস্পর্শে আরো অনেকেই আক্রান্ত হতে পারেন।

Advertisements

Check Also

অভিজাত এলাকায় বিচরণ ডিজে নেহার, চলত উদ্যাম নৃত্য

ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদপান করিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় …