খুশখুশে কাশি সঙ্গে ঠাণ্ডা সারায় তেজপাতা

রান্নায় বহুল ববহৃত একটি উপাদান হলো তেজপাতা। সত্যিই এর তেজ অনেক! শুধু সুগন্ধি হিসেবে নয় বরং স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও প্রাচীনকাল থেকে তেজপাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বিভিন্ন রোগের দাওয়াই হিসেবে কাজ করে এই পাতা। ঠাণ্ডা-কাশি থেকে শুরু করে হজমে সমস্যা এমনকি ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ মোকাবিলায় কাজ করে তেজপাতা। এক তেজপাতায় রয়েছে হাজারো ওষুধি গুণ।

তেজপাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানসমূহ। এর কাঁচা পাতার রং সবুজ। সবুজ পাতা শুকানো হলে পাতার রঙ হয় বাদামি। তেজপাতায় রয়েছে ভিটামিন সি ও ই। এছাড়াও রয়েছে ফলিক অ্যাসিড এবং নানা ধরনের খনিজ উপাদান। এবার তবে জেনে নিন তেজপাতার বিভিন্ন ওষুধি গুণ সম্পর্কে-

> এক গবেষণায় দেখা যায়, দিনে অন্তত দুইবার তেজপাতা গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে। এটি প্রমাণ হয়েছে, তেজপাতায় থাকা উপাদান ইনসুলিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে নিয়ন্ত্রণে রাখে। যারা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন তাদের জন্যও তেজপাতা বেশ উপকারী।

> কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন! জানেন কি? তেজপাতা আপনার স্বাভাবিক হজমশক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। তেজপাতায় থাকা এনজাইম দ্রুত খাবার ভাঙতে পারে। যারা অন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য তেজপাতা অনেক উপকারী।
> হৃদরোগের জন্যও তেজপাতা খুব ভালো কাজ করে। তেজপাতায় থাকা বিভিন্ন উপাদানসমূহ হার্টের দেয়ালকে মজবুত করে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় তেজপাতা।
> যে কোনো ধরনের ব্যথা থেকে মুহূর্তেই স্বস্তি দেয় তেজপাতা। মাথা ব্যথা, জয়েন্টের ব্যথা এমনকি বাতের ব্যথা উপশমে কার্যকরী। তেজপাতা ও রেড়ির পাতার (ক্যাস্টর) পেস্ট আক্রান্ত স্থানে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখলেই ব্যথা কমে যাবে। এছাড়া পাতার তেল কপালে ম্যাসাজ করলে মাথা ব্যথা থাকবে না।

> এসময় অনেকেই ঠাণ্ডা-কাশির সমস্যায় ভুগছেন! এক্ষেত্রে বিভিন্ন ওষুধে ভরসা না করে ব্যাকটেরিয়া তাড়াতে সাহায্য করবে তেজপাতা। চার থেকে পাঁচটি তেজপাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করুন। পানি কুসুম ঠাণ্ডা করে নিন। একটি পরিষ্কার কাপড় পানিতে ভিজিয়ে বুক মুছুন। কয়েকবার এটি করুন। আর খেয়াল রাখবেন পানি যেন খুব বেশি গরম না হয়।
তেজপাতায় থাকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। সর্দি-কাশি, কফ, ফ্লু থেকে মুক্তি পেতে তেজপাতা সিদ্ধ করে এর পানি চা হিসেবে খেতে পারেন।

যাদের ঠাণ্ডায় গলার স্বর ভেঙে গেছে তাদের ক্ষেত্রেও তেজপাতা কার্যকরী। তেজপাতার গুঁড়া তিন থেকে চার কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে আধা ঘণ্টা পরপর তিন থেকে চার বার পান করলে গলার স্বর ভাঙা চলে যাবে।
> তেজপাতা শরীরে ইউরিয়ার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। আর শরীরে ইউরিয়ার পরিমাণ বাড়লেই এর প্রভাব পড়ে কিডনিতে গিয়ে। এর ফলে কিডনিতে পাথরের সৃষ্টি হয়। তেজপাতা নিয়মিত খেলে কিডনির সমস্যা দূর হয়ে যায়।
> ক্লান্তি দূর করে তেজপাতা। মন খারাপ থাকলে এক কাপ তেজপাতার চা পান করলে হতাশা ও ক্লান্তি ভাব চলে যায়। এটি আপনার স্নায়ুকে শান্ত করে ও উদ্বিগ্নতা কমায়। এমনকি ভালো ঘুমের জন্যেও উপকারী তেজপাতা।
> চোখ ওঠার সমস্যায় অনেকেই মুখ লুকিয়ে ঘরে বসে থাকেন। এ সমস্যা থেকে দ্রুত নিস্তার পেতে তেজপাতা অত্যন্ত কার্যকরী। এক্ষেত্রে দু্টি তেজপাতা গরম পানিতে ধুয়ে নিন। একটু থেঁতো করে সিকি কাপ গরম পানিতে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। অতঃপর পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিয়ে সেই পানি চোখে ব্যবহার করলে চোখ ওঠা সেরে যায়।

> তেজপাতায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও মাইক্রোব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। এটি বিভিন্ন ক্ষত সারাতে দারুণভাবে কাজ করে।
> অনেকের শরীর দিয়েই ঘামের বাজে দুর্গন্ধ বের হয়। এক্ষেত্রে তেজপাতা বেটে গায়ে মাখলে গায়ে দুর্গন্ধ হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আবার বেশি ঘাম হলে তেজপাতা বাটা গায়ে মেখে আধা ঘণ্টা রেখে গোসল করে ফেললে অত্যাধিক ঘামের সমস্যাও কমে যায়।
> খুশকি ও চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় সবাই কমবেশি ভুগে থাকে। চুলের যত্নে তেজপাতায় রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কয়েকটি তেজপাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করুন। কিছুক্ষণ ঠাণ্ডা হতে দিন। এবার এ পানি দিয়ে চুল ও স্ক্যাল্প ধুয়ে ফেলুন।
অবশ্যই শ্যাম্পু করার পর এটি করবেন। মাথার ত্বক চুলকাচ্ছে? তেজপাতা বেটে নারিকেল তেলের সঙ্গে মেশান। স্ক্যাল্পে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

সতর্কতা- গর্ভবতী ও সদ্য মায়েদের তেজপাতা কয়েক মাস না খাওয়া ভালো। এতে প্রস্রাবের ইনফেকশন ঘটতে পারে। এছাড়া সার্জারি রোগীদের দুই সপ্তাহ তেজপাতা খেতে নিষেধ করা হয়। কারণ এটি স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

Check Also

গর্ভাবস্থায় যে ৫ জিনিস ক্ষতির কারণ হতে পারে

সুস্থ থাকার জন্য সচেতন থাকার বিকল্প নেই। গর্ভাবস্থায় এই সচেতনতা আরও বাড়ানো জরুরি। কারণ এসময় …